Alexa

১ মণ ধানে মিলছে না একজন শ্রমিক

১ মণ ধানে মিলছে না একজন শ্রমিক

ধান কাটছে কৃষকরা। ছবি: বার্তা২৪.কম

পাবনায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। চলছে ধান কাটার উৎসব। ধান কাটা আর মাড়াইয়ে তাই ব্যস্ত সময় কাটছে কৃষকের। তবে ধানের দাম নিয়ে খুশি নয় তারা। একজন শ্রমিক এক মণ ধানের দামে মিলছে না।

সরেজমিনে পাবনা সদরের দাপুনিয়া, নাজিরপুর, গয়েশপুর, দোগাছি, ঈশ্বরদীর কালিকাপুর, দাশুড়িয়া, আটঘরিয়া উপজেলার মাজপাড়া, খিদিরপুর, তারাপাশা, বেড়ার আমিনপুর, কাজীরহাটসহ বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, মাঠের পর মাঠ সোনালি ধানে ছেয়ে আছে।

প্রচণ্ড শিলা ও ঝড়ো বৃষ্টির কারণে অধিকাংশ ধান ক্ষেতে জমেছে পানি। কাদাপানি মাড়িয়েই কৃষক ধান কেটে আঁটি বাঁধছে। মাথায় করে সেই ধান নিয়ে যাচ্ছে বাড়িতে।

এদিকে ফলন ভালো হলেও কৃষকের মন খারাপ লক্ষ্য করা গেছে। ঝড়-শিলাবৃষ্টির আতঙ্ক মনে। পাশাপাশি শ্রমিক সংকট। যে টাকা ধান কাটতে খরচ হচ্ছে, ধান বিক্রি করে লাভ তো দূরের কথা, আরও ঘর থেকে চলে যাচ্ছে। কোথাও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বাধ্য হয়ে ধান কাটতে মাঠে নেমে পড়েছে।

পাবনা সদরের মালিগাছা গ্রামের কৃষক শাহজাহান আলী জানান, ধান পেকে জমিতে পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু ধান কাটা শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না। শ্রমিকরা ধান নেবে না। টাকায় পারিশ্রমিক নেবে। তাও প্রতি শ্রমিককে দিতে হবে ৭০০-৮০০ টাকা। অথচ প্রতি মণ ধানের বর্তমান বাজার মূল্য সর্বোচ্চ ৬৫০ টাকা।

আটঘরিয়া উপজেলার নাদুরিয়া গ্রামের কৃষক ইউসুফ মিয়া নিজের জমিতে প্রতিদিন শ্রমিক প্রতি ৭শ থেকে ৮শ টাকা মজুরি দিয়ে ধান কাটাচ্ছেন। এর সঙ্গে খাওয়াতে হচ্ছে। মাড়াইয়ের জন্য আলাদা খরচ। যে মাড়াই করছে তাকে প্রতি মণে ২ থেকে ৫ কেজি ধান দিতে হচ্ছে।

সদর উপজেলার দোগাছি গ্রমের কৃষক মেনহাজ মিয়া জানান, বাজারে ধানের কোনো চাহিদা নেই। অথচ কৃষকের হাতে যখন ধান থাকবে না তখন দাম বাড়বে। বাড়তি দামের সুফল কৃষকের কোনো উপকারে আসবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক মো. আজহার আলী জানান, পাবনায় ৫৬ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল। তবে আবাদকৃত জমির পরিমাণ ৫৮ হাজার ৬৫ হেক্টর। এ পর্যন্ত প্রায় অর্ধেক জমির ধান কাটা হয়েছে। চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ দশমিক ২ টন। আশা করা যায়, ধান কাটা শেষ হলে চাল উৎপাদন ২ দশমিক ৫ টন ছাড়িয়ে যাবে। তবে এবার ধানের দাম একটু কম। এ কারণে কৃষকের মন খারাপ।

আপনার মতামত লিখুন :

জেলা এর আরও খবর