Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

টাকা না দিলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি!

টাকা না দিলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি!
লালমনিরহাটের সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রি কলেজ, ছবি: বার্তা২৪.কম
নিয়াজ আহমেদ
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
লালমনিরহাট


  • Font increase
  • Font Decrease

লালমনিরহাটের সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রি কলেজের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অকৃতকার্য করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ আছে, ওই শিক্ষক টাকা ছাড়া শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা সই করছেন না। শিক্ষার্থীরা এর প্রতিবাদ করলে তাকে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন তিনি।

জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রি কলেজ থেকে চলতি উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ২৩৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন। এইচএসসি পরীক্ষার্থীর জন্য ১০০ নম্বরের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয় বাধ্যতামূলক করা হয়। এ বিষয়ের পাস নম্বর ৩৩। যার ব্যবহারিকে রয়েছে ২৫ নম্বর। তাই ভালো ফল বা পাস করতে শিক্ষার্থীদের কাছে ব্যবহারিক পরীক্ষার নম্বর খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য বোর্ড থেকে খরচ বাবদ শিক্ষকদের জনপ্রতি ১৫ টাকা করে দেওয়া হয়।

আরও জানা গেছে, এসএসসি পরীক্ষার ব্যবহারিক পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত হবে। লিখত পরীক্ষা শেষ হওয়ায় কলেজগুলোতে শুরু হয়েছে বিভিন্ন বিষয়ের ব্যবহারিক পরীক্ষা, যা চলতি মাসেই শেষ করতে হবে। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রি কলেজের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের শিক্ষক জালাল উদ্দিন শিক্ষার্থী প্রতি ৩০০ টাকা করে দাবি করেছেন। টাকা না দিলে তাকে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আর বাধ্যতামূলক এ বিষয়ে ফেল করিয়ে দিলে এইচএসসি পরীক্ষায় পাস করতে পারবেন না শিক্ষার্থীরা। তাই ভয়ে ও বাধ্য হয়ে টাকা দিচ্ছেন অনেকে।

অভিযোগ আছে, ওই কলেজে শুধু তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ে নয় বিজ্ঞান বিভাগের সব বিষয় ও মনোবিজ্ঞান, ভূগোল ও কৃষির ব্যবহারিকের জন্যও নেওয়া হচ্ছে অতিরিক্ত টাকা। তবে শিক্ষকদের দাবি, পরীক্ষা কেন্দ্রে একটা খরচ আছে। তাই বিনারশিদে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে খরচ বাবদ অল্প কিছু টাকা নেওয়া হচ্ছে।

সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রী কলেজের একাধিক পরীক্ষার্থী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কম-কে জানান, কেন্দ্র ফির অজুহাতে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য শিক্ষকরা অতিরিক্ত টাকা নেন। প্রতিবাদ করলে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এসব টাকা শিক্ষক বা অফিস সহকারীদের মাধ্যমে আদায় করা হয়। টাকা না দিলে ব্যবহারিক খাতায় সই করেন না শিক্ষকরা।

সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রি কলেজের এক পরীক্ষার্থীর অভিভাবক লিমন মিয়া বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘আমার ছেলের তিনটি বিষয়ে ব্যবহারিক পরীক্ষা দিতে এক হাজার টাকা দিতে হচ্ছে। এ ঘুষের টাকা যোগাতে আমাকে আড়াই মণ ধান বিক্রি করতে হয়েছে। টাকা না দিলে বা প্রতিবাদ করলে ফেল করিয়ে দেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন শিক্ষকরা। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষে হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’

কলেজের একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বার্তা২৪.কম-কে জানান, শুধুমাত্র লালমনিরহাট সরকারি কলেজ ব্যতীত জেলার অধিকাংশ কলেজে ব্যবহারিক পরীক্ষার নামে টাকা আদায় করেছেন শিক্ষকরা। এ বিষয়ে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া উচিৎ, অন্যথায় মেধার মূল্যায়ন হবে না।

সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রি কলেজের তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ের প্রভাষক জালাল উদ্দিন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘একটা পরীক্ষা নিতে কিছু খরচ হয় তাই পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাত্র ৩০০ টাকা চাওয়া হয়েছে। সামান্য কয়েকজন দিয়েছেন। গরিব এলাকা সবাই টাকা দেয় না। কলেজ অধ্যক্ষের অনুমতি নিয়েই টাকা নেওয়া হচ্ছে।’

সাপ্টিবাড়ি ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ সুদান চন্দ্র বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘গরিব এলাকা হিসেবে তার কলেজের অধিকাংশ পরীক্ষার্থী পরীক্ষার ফি দিতে পারে না। আর সেখানে ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য অতিরিক্ত টাকা দেওয়ার কথা তো ভাবাই যায় না। তবে কেন্দ্রের কিছু খরচের জন্য চাপ দিয়ে নয়, সংশ্লিষ্ট শিক্ষকরা হয়তো কৌশলে কিছু আদায় করছেন। আমি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এ সময় তিনি এ প্রতিবেদককে সংবাদ প্রকাশ না করতে অনৈতিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা করেন।

লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) জহুরুল ইসলাম বার্তা২৪.কম-কে বলেন, ‘পরীক্ষা কেন্দ্রের খরচ ফরম পূরণের সময় নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী শিক্ষাবোর্ড কেন্দ্রের খরচ বহন করে। ব্যবহারিক পরীক্ষার জন্য কোনো টাকা নেওয়া যাবে না। কেউ এমন করে থাকলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

দেশে আনা হলো কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ

দেশে আনা হলো কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ
বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ভারতের কলকাতায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফারজানা ইসলাম তানিয়া ও মাঈনুল আলমের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল ৯টায় ভারতের পেট্রাপোল ও বাংলাদেশের বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

নিহত ফারজানা ইসলাম তানিয়া কুষ্টিয়ার খুকসা উপজেলার চান্দুর গ্রামের মুন্সি আমিনুল ইসলামের মেয়ে। তিনি বাবা মায়ের দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছিলেন। তার মৃতদেহ গ্রহণ করেন চাচাতো ভাই আবু ওবায়দা শাফিন। ফারজানা ইসলাম তানিয়া সিটি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে রাজধানীর ধানমণ্ডি শাখায় কর্মরত ছিলেন।

অপরদিকে মাঈনুল আলম ঝিনাইদহের বুটিয়াঘাটি গ্রামের কাজী খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি গ্রামীণ ফোনের এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মৃতেদহ গ্রহণ করেন চাচাতো ভাই জিহাদ আলী।

নিহতদের স্বজনরা জানান, চিকিৎসার উদ্দেশে তারা গত ১৪ আগস্ট কলকাতায় যান। পরে ১৬ আগস্ট ফারজানা, মাঈনুল ও তাদের এক সহকর্মী শফিউল্লাহ সহ তারা তিন জন কলকাতার সেক্সপিয়র সরণিতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566099097478.jpg
কলকাতায় নিহত মাঈনুল আলম ও ফারজানা ইসলাম তানিয়া/ ছবি: সংগৃহীত

 

এ সময় দুই দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা দুটি প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একটি প্রাইভেট কার উল্টে তাদের গায়ের ওপর এসে পড়ে। এ সময় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন ফারজানা, মাঈনুল। আহত হন অপরজন শফি উল্লাহ।

শফি উল্লাহ জানান, কপালের জোরে তিনি বেঁচে গেছেন। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমন ঘটনার জন্য তিনি ভারত সরকারের কাছে বিচার দাবি করেন।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মৃতদেহ দুটির কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করে তাদের পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, মৃতদেহ দুটি বেনাপোল বন্দরে পৌঁছালে তা দেখতে শত শত মানুষের ভিড় জমে।

জলঢাকায় গ্রেফতার আতঙ্কে আ.লীগের সভাপতি, সম্পাদক

জলঢাকায় গ্রেফতার আতঙ্কে আ.লীগের সভাপতি, সম্পাদক
শোক দিবসে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় আ.লীগের দু গ্রুপের সংঘর্ষের চিত্র

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে (১৫ আগস্ট) নীলফামারীর জলঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু‘পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি মামলা দায়ের করা হয়।

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দায়ের করা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। যার মামলা নম্বর-১৭ তারিখঃ ১৫.৮.১৯  এবং ১৮ ও ১৯ তারিখঃ ১৬.০৮.১৯ইং।

এ ঘটনায় শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে জলঢাকা থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন; মীরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক হেলালুজ্জামান হেলাল, সদস্য হারুন-অর রশিদ রাসেল, বালাগ্রাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ইবনে নুর, আওয়ামী লীগ সমর্থক ইন্দ্রজিৎ রায়, ছাত্রলীগ কর্মী মিল্লাত হোসেন।

জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'ঘটনার দিন একজন এবং শুক্রবার রাতে উভয় পক্ষের মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।'

উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার  জাতীয় শোক দিবসে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফার মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঐ দিন দুপুর ও বিকালে দু’দফায় জলঢাকা পৌরশহরে বঙ্গবন্ধু চত্বর এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৩ রাউন্ড টিয়ার শেল ও ১৫ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৫ আগস্ট শোক দিবসে সংঘর্ষের ঘটনায় ওই দিন রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আনছার আলী মিন্টু বাদী হয়ে সাবেক এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাসহ ৭০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও শতাধিক লোককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। অপর দিকে একই দিনে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আশরাফ হোসেন বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আনছার আলি মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেলকে প্রধান করে নামীয় ৬৩ জন ও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় সংর্ঘষের ঘটনায় জলঢাকা থানার এস আই মামুন-অর রশিদসহ পাঁচ জন পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হয়ে আহত হলে এসআই আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করেন এবং আরো ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে দুপক্ষের সাথে বৈঠক করেছেন নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.মমতাজুল হকসহ জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা।

নীলফামারী জেলা সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, 'সমঝোতার জন্য দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করছি। ভবিষ্যতে যাতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে স্থানীয় নেতাদের হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে।'

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র