Alexa

বেনাপোলে প্রবাসী হত্যা মামলা ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ পরিবারের

বেনাপোলে প্রবাসী হত্যা মামলা ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ পরিবারের

বেনাপোলে প্রবাসী হত্যা মামলা ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ পরিবারের, ছবি: বার্তা২৪.কম

বেনাপোলে অর্থবাণিজ্য করে প্রবাসী জামাল হোসেন হত্যা মামলা ভিন্নখাতে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। নিহতের ভাই আটকদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করলেও পুলিশ অজ্ঞাত হিসাবে মামলা করায় তারা ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন। তবে পুলিশের বক্তব্য তদন্ত শেষ না হওয়ায় অজ্ঞাত মামলা করতে হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৬ মে) দিবাগত রাত ১টার দিকে বেনাপোল পোর্টথানায় বেশ কয়েকজনকে অজ্ঞাত আসামী করে এ হত্যা মামলা দায়ের করা হয়।

স্ত্রীর পরকীয়ায় বাধা দেওয়ায় শশুর বাড়িতে খুনের শিকার প্রবাসী জামালের ছোট ভাই মামলার বাদী বাবলুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বৃহস্পতিবার দুপুরে বার্তা২৪.কমকে জানান, ভাইয়ের তিন হত্যাকারীর নাম উল্লেখ করে পুলিশের কাছে অভিযোগ করার পরও তাদের নামে মামলা হলো না। এখন শুনছি আমার ওই মামলায় সব অজ্ঞাত আসামী হয়েছে। তখন আমি পুলিশের কাছে মামলার কপি চেয়েছিলাম। তারা বলেছিল পরে দেব। এখন বুঝতে পারছি আসামীদের বাঁচানোর জন্য আমাকে মামলার কপি দেয়নি। আমরা এ মামলা মানি না, প্রয়োজনে আদালতে মামলা করবো।

এ দিকে হত্যার ঘটনায় অজ্ঞাত মামলা দায়ের হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করছেন প্রতিবেশিরাও। গ্রামবাসীরা জানান, অভিযুক্তদের দুই দিন থানায় আটকে রেখেও পুলিশের তদন্ত শেষ হলো না। এত বড় একটা ঘটনা দামাচাপা পরে যাবে?

বাহাদুরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আনজুয়ারা বেগম বলেন, রাতে জামাল তার স্ত্রীর সঙ্গে ঘরে ছিল। গভীর রাতে তাকে বাড়িতে কুপিয়ে খুন করা হলো। পুলিশ বাড়ি থেকে স্ত্রী, শশুর শাশুড়িকে আটকও করল। এ মামলায় আটকরা সকলে অজ্ঞাত আসামী কিভাবে হয়?

স্থানীয় সংবাদকর্মীরাও জানান, ঘটনার দিন সকালে হত্যার বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা থানায় ঢুকতে চাইলে তাদেরকে পুলিশ থানায় ঢুকতে বাধা দেয়। তথ্য প্রকাশেও দিনভর টালবাহানা করে। অপরাধীদের হাজতে না রেখে বাইরে জামাই আদরে বসিয়ে রাখে। এতে নিহতের পরিবারও ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

এ ব্যাপারে বেনাপোল পোর্টথানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সালে মাসুদ করিম বৃহস্পতিবার (১৬মে) দুপুর ২টায় বার্তা২৪.কমকে জানান, তদন্ত শেষ না হওয়ায় আটকদের নামে হত্যা মামলা হয়নি। অজ্ঞাত আসামী করে একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, ওটা ওদের কথা ।

প্রতিবেশি রেজাউল টুকির মেয়ে আয়েশার সঙ্গে বিয়ে হয় হত্যার শিকার জামালের। বিয়ের পর সে সংসারে স্বচ্ছলতা আনতে বিদেশ (মালয়েশিয়া) যায়। সেখানে থাকাকালীন সময়ে টাকা-পয়সা সব শশুর বাড়িতে পাঠাতো। ইতিপূর্বে সে তিন বার বাড়িতেও এসেছে। কিন্তু স্ত্রীর পরকিয়ার কারণে তাদের মধ্যে সম্পর্ক ভালো ছিল না। এর আগেও জামালকে একবার হত্যা করার চেষ্টা করে স্ত্রী। গত ১৪ মে সে বিদেশ থেকে বাড়ি ফেরে। এদিন সে উপহার সামগ্রী নিয়ে শশুর বাড়িতে যায়। হঠাৎ রাত ১টায় শশুর বাড়ির লোকজন চিৎকার করে রোহিঙ্গারা জামালকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়েছে। পরে জামালের স্বজনরা শশুর বাড়িতে গিয়ে দেখে ঘরের সিঁড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় তার লাশ পড়ে আছে। পরে তারা বুঝতে পারে স্ত্রী, শশুর-শাশুড়ি মিলে জামালকে খুন করে রোহিঙ্গা নাটক সাজিয়েছে। এ সময় পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বাড়ি থেকে স্ত্রী,শশুর-শাশুড়িকে আটক করে জামালের লাশ নিয়ে যায়। বিষয়টি নিয়ে এদিন পোর্টথানা পুলিশের তদন্ত ওসি আলমগীর হোসেন সাংবাদিকদের জানান, স্ত্রীর পরকীয়ার কারণে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। তারা অভিযুক্ত মনে করে জামালের স্ত্রীসহ তিন জনকে আটক করেছে।

আরও পড়ুন: বেনাপোলে স্বামী হত্যার অভিযোগে স্ত্রীসহ আটক ৩

আপনার মতামত লিখুন :