Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পে বোরোর বাম্পার ফলন

তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্পে বোরোর বাম্পার ফলন
সড়কে ধান মাড়াইয়ের কাজ করছেন কৃষকরা / ছবি: বার্তা২৪
মাহমুদ আল হাসান (রাফিন)
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নীলফামারী


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের সর্ববৃহৎ তিস্তা ব্যারেজ (ডালিয়া) সেচ প্রকল্পের আওতায় নীলফামারী, রংপুর ও দিনাজপুর জেলায় বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। এ বছর আগাম বৃষ্টি বা নদীতে ভারতীয় পানির ঢল না আসায় কোনো ঝামেলা ছাড়াই ধান ঘরে তোলা যাবে বলে আশা করছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা। আগাম জাতের ধান কাটা ও মাড়াই করার কাজ কেবল শুরু হয়েছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, নীলফামারী সদর উপজেলার সাইফন এলাকায় তিস্তার প্রধান সেচ খালের পাশ্ববর্তী সড়কে অনেক কৃষক ধান মাড়াই করছেন। আবার অনেকে জমি থেকে ধান নিয়ে আসছেন।

ওই এলাকার কৃষক তাফিউল আলম বার্তা২৪.কমকে জানান, বিআর-২৮ জাতের ধানে প্রতি বিঘায় ২৫-২৮ মণ পর্যন্ত ধান পেয়েছেন। তিস্তা সেচ প্রকল্পের আওতায় তারা পর্যাপ্ত সেচের পানি পাওয়ায় গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/17/1558086745264.jpg

জলঢাকা উপজেলার চাওড়াডাঙ্গী গ্রামের কৃষক প্রেমচরন রায় বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি দুই বিঘা জমিতে ক্যানেলের পানি দিয়ে আবাদ করেছি। বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্র বা ডিজেলচালিত পাম্পের মালিক বিঘাপ্রতি খরচ নেয় দুই হাজার ৪০০ টাকা। আমার দুই বিঘা জমিতে খরচ হতো চার হাজার ৮০০ টাকা। সেখানে ক্যানেলের সেচে আমাকে দিতে হয়েছে দুই বিঘায় ৩০০ টাকা।’

পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডালিয়া ডিভিশনের সেচ সম্প্রসারণ কর্মকর্তা রাফিউল বারী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এবার রংপুর কৃষি অঞ্চলের তিন জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭৯ হাজার হেক্টর। তিস্তা ব্যারেজের সেচ কমান্ড এলাকায় নীলফামারী সদর, জলঢাকা, ডিমলা, কিশোরগঞ্জ, সৈয়দপুর, রংপুর সদর, তারাগঞ্জ, গঙ্গাচড়া, বদরগঞ্জ ও দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দর, পাবর্তীপুর ও খানসামা উপজেলাসহ ১২টি উপজেলায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়ার প্রস্ততি থাকলেও পরবর্তীতে ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে সেচের মাধ্যমে বোরো আবাদ করা হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/17/1558086798236.jpg

পাউবোর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বার্তা২৪.কমকে জানান, বিদ্যুৎচালিত সেচযন্ত্রে এক হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করতে সেচ খরচ হয় ১০ হাজার ৫০০ টাকা। আবার ডিজেল চালিত সেচ পাম্পে এক হেক্টর জমিতে বোরো চাষে কৃষকের খরচ হয় প্রায় ১৪ হাজার টাকা। অপরদিকে, তিস্তা ব্যারাজের আওতায় (কমান্ড এলাকায়) এক হেক্টর জমিতে কৃষকের খরচ হয় মাত্র ১ হাজার ২০০ টাকা।

তিনি আরও জানান, বিদ্যুৎ ও ডিজেল চালিত পাম্পের সেচে এক হেক্টরে কৃষক ধান ফলায় গড়ে ৫ দশমিক ৪ মেট্রিক টন। সেচ ক্যানেলে কৃষক প্রতি হেক্টরে ধান উৎপাদন করছে ৬ মেট্রিক টন। এতে ব্যারাজ কমান্ড এলাকায় ৪০ হাজার হেক্টর জমিতে তিস্তার সেচে ধান উৎপাদন হবে ১১৯ কোটি টাকার।

আপনার মতামত লিখুন :

দুঃখের মাঝে মাছ ধরায় সুখ!

দুঃখের মাঝে মাছ ধরায় সুখ!
বন্যার পানিতে চলছে মাছ শিকার, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধা থেকে: গাইবান্ধা জেলার শহরতলীর ডিবি রোড।বন্যার পানিতে থৈ থৈ করছে। একইচিত্র শহরের পিকে বিশ্বাস সড়কেও। গুরুত্বপূর্ণ এ রাস্তার পাশে থাকা জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও দায়রা জজের বাসভবন হাঁটুপানির নিচে।

শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলো তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে গোটা শহর। এতে যানবাহন নিয়ে চলাচলে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভারাক্রান্ত হয়েছে শহরতলীর মানুষদের মন। তবে নদী তীরবর্তী চর, চরদীপ ও নিম্নাঞ্চলের মানুষদের দুঃখের সাথে সুখের দোলা দিচ্ছে বানের সাথে আসা মাছ।

বন্যার পানিতে প্লাবিত এলাকাগুলোতে ছোটবড় নানা বয়সী মানুষ দুঃখকে ঝেড়ে ফেলে সুখের জালে মাছ খুঁজছেন। কমবেশি সবাই মাছ ধরায় ব্যস্ত। এই মাছ ধরার ব্যস্ততার উৎসব শহরে ডিবি ও পিকে বিশ্বাস রোড থেকে প্লাবিত গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে অবশ্য নানা ধরনের জালের বিক্রি বেড়েছে।

পিকে বিশ্বাস রোডে হাঁটু পানিতে দাঁড়িয়ে জাল দিয়ে মাছ শিকারে ব্যস্ত বৃদ্ধ মুসলিম মিয়া। বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এই বৃদ্ধ বলেন, বানের পানিতে ঘরের চৌকি ডুবে গেছে। খুব কষ্টে রান্নাবান্না করতে হচ্ছে। এখন অন্যকোনো কাজ না থাকায় মাছ শিকার করছি।

বাদিয়াখালী-ত্রিমোহনী রেলপথটির ওপর দিয়ে পানি প্লাবিত হওয়ায় লালমনিরহাট গাইবান্ধা ঢাকা রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। ঝিক ঝিক করে অবিরাম ছুটে চলা ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকলেও থেমে নেই মাছ ধরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563494347644.jpg

কেউ কেউ ছোট জাল, ডার্কির ফাঁদ, কারেন্ট জাল, হেঙ্গা দিয়ে মাছ ধরার আনন্দে ভুলে থাকছেন দুঃখ আর দুর্ভোগ। খালবিল ডোবা রাস্তার উপর ও ছোট ছোট নদে বানের পানিতে চলছে মাছের খোঁজ।

ফুলছড়ির উদাখালী ইউনিয়নের আনন্দবাজারের মিজান বলেন, গত তিন দিনে ১০ কেজির বেশি মাছ ধরেছেন। ছোট জাল দিয়ে মাছ শিকার করতে পারায় আনন্দে আত্মহারা ক্ষতিগ্রস্ত এ যুবক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছোট জাল, হেঙ্গা, ডার্কি ফাঁদ দিয়ে নতুন পানিতে তেলাপিয়া, পুটি, ডারকা, মলাসহ বিভিন্ন প্রজাতির ছোট ছোট দেশি মাছ ধরতে দেখা যায়।

বর্তমানে জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি সাদুল্লাপুর উপজেলার ৩৪ ইউনিয়নের ২৪৯ গ্রামের প্রায় ১ লাখ পরিবারের সাড়ে ৩ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যা কবলিত মানুষদের জন্য ১৬১টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এতে প্রায় ৬১ হাজার বানভাসি মানুষ আশ্রয় নিয়েছে।

প্লাবিত এলাকায় দোকানপাট বন্ধ, খাবার সংকট চরমে

প্লাবিত এলাকায় দোকানপাট বন্ধ, খাবার সংকট চরমে
প্লাবিত এলাকায় দোকানপাট বন্ধ খাবার সংকট চরমে, ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা থেকে: আসমা বেগম। তিন দিন ধরে অনাহারে আছেন। পানিবন্দী হয়ে ঘরে থাকায় চুলোয় রান্না করেনি। তার কোমর পানির মতো গ্রামের বেশ কিছু দোকান পানিতে ডুবে আছে। নিকটে দোকান থেকেও খাবার চিনতে না পারায় আসমা বেগমের মত প্লাবিত এলাকার অনেক মানুষই আছেন অনাহারে-অর্ধাহারে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের আনন্দবাজারে থাকেন লতিফ মিয়া। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, পানি বাড়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রেখেছে। এ কারণে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় খাবার কিনে রান্নাবান্না করতে পারছে না। অনেকেই এখন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।

দোকানপাট বন্ধ রাখার এ অবস্থা গাইবান্ধার সাত উপজেলার পানিবন্দী হাটবাজারে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বন্যা কবলিত সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বেশিরভাগ বাজারগুলোতে কম সংখ্যক দোকান খোলা থাকতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, গাইবান্ধার পানিবন্দী এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বন্যা কবলিত এলাকার বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত নিম্নাঞ্চলের মত শহরতলীর অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563489852368.jpg

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রমশ পানি বাড়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু রাস্তা ও বাঁধের ওপর অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন। এ সব মানুষদের ভিড়ে ছোট-বড় অনেক দোকান মালিক রয়েছেন। পানিবন্দী পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলছেন না তারা। তবে কিছু কিছু এলাকায় হাঁটু পানির নিচে ডুবে থাকা দোকানপাট খোলা রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জের উত্তরপরাণের বানভাসি ইদ্রিস আলী বলেন, ‘কোনো ত্রাণ না পেলেও স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবার আশ্রিতদের মাঝে খিচুরি বিতরণ করেছেন। সব ব্যবসায়ী দোকান খোলা রাখলে অন্তত এই দূর্ভোগে পেটে কিছু খাবার দেয়া যাবে।

বর্তমানে গাইবান্ধার সাত উপজেলার এক লাখ পরিবারের অন্তত সাড়ে ৪ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দী রয়েছেন । এ সব মানুষদের মধ্য থেকে ১৬১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছে মাত্র ৬১ হাজার। বাকিরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিশেহারা হয়ে উঠেছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের দাবি নৌযান সংকট থাকলেও পানিবন্দী মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। যা বিতরণ চলমান থাকবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র