Alexa

কদর নেই মানিকগঞ্জের বাঁশ শিল্প শ্রমিকদের

কদর নেই মানিকগঞ্জের বাঁশ শিল্প শ্রমিকদের

বাঁশের চটা তৈরি করছেন এক ব্যক্তি, ছবি: বার্তা২৪.কম

যান্ত্রিক জীবনে ব্যাপকভাবে ব্যবহার বাড়ছে প্লাস্টিকের। অল্প টাকায় হাতের নাগালে অনায়াসে পাওয়া যাচ্ছে বাহারি প্লাস্টিক পণ্য। এতে করে চাহিদা কমেছে বাঁশের তৈরি বিভিন্ন পণ্যের। যে কারণে কদর কমেছে মানিকগঞ্জের বাঁশ শিল্প শ্রমিকদের।

এক সময়ে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার আটিগ্রাম ইউনিয়নের কুমোদপুরসহ আশেপাশের কয়েকটি গ্রামের শত শত পরিবার জড়িত ছিল বাঁশ শিল্পের সঙ্গে। কিন্তু বাঁশ দিয়ে তৈরি পণ্যের চাহিদা দিন দিন কমছে। শ্রম অনুযায়ী শ্রমের দাম না পাওয়ায় অনেকেই আবার পেশা বদল করছেন।

তবে কুমোদপুর গ্রামে এখনও শতাধিক পরিবার টিকিয়ে রেখেছে তাদের ঐহিত্যবাহী পারিবারিক এ পেশাকে। কিন্তু বাঁশের তৈরি জিনিষপত্রের চাহিদা কমে যাওয়ায় এবং অভাব অনটনের কারণে এখন বাঁশের পণ্য তৈরি কমিয়ে দিচ্ছেন তারা। এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারিভাবে অল্প সুদে ঋণ চান বাঁশের কারিগররা।

কুমোদপুর গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, গ্রামের ইট বিছানো রাস্তার দুই পাশে বাঁশ থেকে চটা ওঠাতে ব্যস্ত তরুণরা। আর এসব চটা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ও আকারের ঝুড়ি ঝাঁকা তৈরিতে ব্যস্ত পরিবারের নারী ও বয়স্ক সদস্যরা। এভাবেই যুগের পর যুগ ধরে চলছে তাদের সংসার জীবন।

শুধু ঝাঁকা নয় চাহিদা অনুযায়ী বাঁশ দিয়ে হাত পাখা, চালুন, মাথালসহ সব রকমের জিনিষ পত্র তৈরি করেন তারা। তবে বর্তমানে বাঁশের তৈরি ঝাঁকা এবং কৃষকের মাথায় দেওয়ার মাথাল (বাঁশ দিয়ে তৈরি এক ধরনের টুপি, যা কৃষকরা মাঠে কাজ করার সময় রোদ থেকে রক্ষা পেয়ে ব্যবহার করেন) এবং চালার চালুনের কদর সবচেয়ে বেশি বলে জানান বাঁশ শিল্প শ্রমিকেরা।

Bamboo
বাঁশের চটা দিয়ে ঝাঁকা তৈরি করছেন এক নারী, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

বাঁশ শিল্প শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, স্থানীয় হাঁট বাজার থেকে গড়ে ৮০ টাকা করে একেকটি বাঁশ কেনেন তারা। একটি বাঁশের চটা দিয়ে তিনটি করে ঝাঁকা তৈরি করা যায়। প্রতিটি ঝাঁকার পাইকারি বাজারদর ৭০ থেকে ৮০ টাকা। একজন শ্রমিক একদিনে চার থেকে পাঁচটি করে ঝাঁকা তৈরি করতে পারেন। এজন্য কাঁক ডাকা ভোর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শ্রম দিতে হয় তাদের।

কুমোদপুর গ্রামের বুদ্দু চন্দ্র মনি দাসের ছেলে কালিদাস চন্দ্র বার্তা২৪.কমকে জানান, স্থানীয় হাট-বাজার থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বাঁশ সংগ্রহ করা হয়। পরে ওই বাঁশ থেকে চটা তৈরি করেন তারা। সেই চটা দিয়ে চাহিদা অনুযায়ী বাঁশের পণ্য তৈরি করেন থাকেন পরিবারের নারী ও বয়স্ক সদস্যরা।

একই এলাকার সতিষ মনি দাস জানান, এক সময় বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন ধরনের জিনিষপত্র তৈরি করে বেশ ভালো চলতেন তারা। তবে এখন প্লাস্টিকের পণ্যের দাপটে তাদের তৈরি করা বাহারি পণ্যের চাহিদা কমে গেছে। তাই এখন নাজুক অবস্থায় দিনাতিপাত করছেন তারা।

মনিন্দ্র চন্দ্র মনি দাসের ছেলে গুণি চন্দ্র মনি দাস বার্তা২৪.কমকে জানান, কুমোদপুর গ্রামের এখনও শতাধিক পরিবার বাঁশ শিল্পের সঙ্গে জড়িত রয়েছে। তাদের অনেকেই অর্থাভাবে বিভিন্ন এনজিও থেকে চড়া সুদে টাকা নিয়ে এই শিল্প টিকিয়ে রেখেছেন। সরকার অল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করে দিলে এই শিল্প টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে।

ঝাঁকা তৈরিতে ব্যস্ত প্রমিলা রানী জানান, সংসারের কাজ কর্ম সেরে যে সময় পান তা ব্যয় করেন ঝাঁকা বানানোর কাজে। এতে করে বাড়তি কিছু টাকা আয় হয়। সেই টাকা তিনি ছেলে-মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য খরচ করেন।

Bamboo
বাঁশের চটা তৈরি করছেন এক ব্যক্তি, ছবি: বার্তা২৪.কম

 

কুমোদপুর গ্রামের বাঁশের তৈরি বিভিন্ন প্রকার জিনিষের পাইকারি ক্রেতা বাসুদেব মনি দাস বার্তা২৪.কমকে জানান, ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে কুমোদপুর গ্রাম থেকে বাঁশের পণ্য পাইকারিতে কিনে যাত্রাবাড়ী, শনির আখরা, সাভারসহ রাজধানীর আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিক্রি করে থাকেন। এক সময় বাঁশের তৈরি জিনিষের ব্যাপক চাহিদা থাকলেও প্লাস্টিকের পণ্যের কারণে এখন আর সেই চাহিদা নেই। বাঁশের পণ্যের চাহিদা কমায় কদর কমেছে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদেরও।

মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মামুন সরদার বার্তা২৪.কমকে জানান, শুধুমাত্র বাঁশ শিল্প শ্রমিকদের অল্প সুদে টাকা দেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে বাঁশ শিল্পের সঙ্গে জড়িত শ্রমিকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরকারের অন্য প্রকল্প থেকে ঋণ দেওয়ার ব্যবস্থা করা যেতে পারে।

আপনার মতামত লিখুন :