Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

ফরিদপুরে ভাঙ্গায় প্রকৌশলীকে আ’লীগ নেতার মারধর

ফরিদপুরে ভাঙ্গায় প্রকৌশলীকে আ’লীগ নেতার মারধর
ফরিদপুরের মানচিত্র, ছবি: সংগৃহীত
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সরকারি কার্যালয়ের দরজা আটকে প্রকৌশলীকে মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনায় উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আকরামুজ্জামান ওরফে রাজা (৫৬)সহ দুই আওয়ামী লীগ নেতার নামে মামলা করেছেন লাঞ্ছিত হওয়া কর্মকর্তা।

রোববার (১৯ মে) দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুপুর ২টার দিকে পুলিশ এই মামলার আসামি উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক ওরফে অপু (৪৯) কে গ্রেফতার করে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই আ’লীগ নেতা ভাঙ্গা উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থিত উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান। ওই সময় উপজেলা প্রকৌশলী সমরজিৎ চন্দ্র ঘরামি (৩৬) তার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শী জানা যায়, ওই দুই নেতা উপজেলায় জনস্বাস্থ্য বিভাগের টিউবওয়েল বিতরণ সংক্রান্ত পরিপত্র দেখতে চান। প্রকৌশলী এ পরিপত্র পরে দেখাবেন বলে জানান। তখন এনামুল হক তাকে পাঁচটি গভীর নলকূপ বরাদ্দ দিতে প্রকৌশলীকে অনুরোধ করেন।

প্রকৌশলী সমরজিৎ বলেন, ‘তার পক্ষে কোনো ব্যক্তিকে টিউবওয়েল দেওয়া সম্ভব নয়।’

সমরজিৎ চন্দ্র ঘরামি বলেন, ‘এক পর্যায়ে আ’লীগের ওই দুই নেতার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। তখন এনামুল হক কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন এবং আ’লীগের ওই দুই নেতা তাকে কিল ঘুষি চড় থাপ্পড় মারতে থাকেন।’

এ সময় ওই কার্যালয়ের তিন কর্মচারী নলকূপ সসেটার বলাই চন্দ্র শীল ও মো. সেলিমুজ্জামান এবং বিএস মেশিন সায়দুল ইসলাম এগিয়ে এসে প্রকৌশলীকে মারধরের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে আ’লীগের ওই দুই নেতা তাদের তিনজনকেও মারধর করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খালেদুর রহমান মিয়া জানান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোবাহান মুন্সী বলেন, ‘ভাঙ্গায় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের জন্য খুবই দুঃখ ও লজ্জাজনক। আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় অথচ আ’লীগের দুই নেতা সরকারি এক কর্মকর্তাকে পিটিয়েছেন এ ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।’

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাইদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় ওই প্রকৌশলী বাদী হয়ে ওই দুই আ’লীগ নেতাকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা ও মারধোরের অভিযোগে ভাঙ্গা থানায় দুপুরে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলার পর আ’লীগ নেতা এনামুলকে পৌরসভা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিকেলে তাকে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘এ মামলার অপর আসামি আকরামুজ্জামানকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে তিনি আত্মগোপন করেছেন।’

আপনার মতামত লিখুন :

মহেশপুরে স্বামীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রী নিহত

মহেশপুরে স্বামীর ধারালো অস্ত্রের আঘাতে স্ত্রী নিহত
আটক স্বামী আব্দুল কুদ্দুস, ছবি: সংগৃহীত

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার নেপা ইউনিয়নের সেজিয়া গ্রামে স্ত্রী ফিরোজা খাতুনকে (৪০) কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্বামী আব্দুল কুদ্দুসের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় পুলিশ স্বামীকে আটক করেছে। শনিবার (১৭ আগস্ট) মধ্যরাতে সেজিয়া গ্রামের উত্তরপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

মহেশপুর থানার ওসি রাশিদুল আলম জানান, শনিবার মধ্যরাতে পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রী ফিরোজাকে কুপিয়ে হত্যা করে আব্দুল কুদ্দুস। পরে সকালে নিজেই প্রতিবেশীদের খবর দেয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আব্দুল কুদ্দুসকে আটক করে। নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝিনাইদহ সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। আব্দুল কুদ্দুস পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রী। সে প্রায় নেশা করতো বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

দেশে আনা হলো কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ

দেশে আনা হলো কলকাতায় নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ
বেনাপোল বন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ভারতের কলকাতায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ফারজানা ইসলাম তানিয়া ও মাঈনুল আলমের মরদেহ দেশে আনা হয়েছে।

রোববার (১৮ আগস্ট) সকাল ৯টায় ভারতের পেট্রাপোল ও বাংলাদেশের বেনাপোল ইমিগ্রেশনে কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ দুটি বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

নিহত ফারজানা ইসলাম তানিয়া কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার চান্দুর গ্রামের মুন্সি আমিনুল ইসলামের মেয়ে। তিনি বাবা মায়ের দুই মেয়ের মধ্যে বড় ছিলেন। তার মৃতদেহ গ্রহণ করেন চাচাতো ভাই আবু ওবায়দা শাফিন। ফারজানা ইসলাম তানিয়া সিটি ব্যাংকের সিনিয়র কর্মকর্তা হিসেবে রাজধানীর ধানমণ্ডি শাখায় কর্মরত ছিলেন।

অপরদিকে মাঈনুল আলম ঝিনাইদহের ভুটিয়ারগাতি গ্রামের কাজী খলিলুর রহমানের ছেলে। তিনি গ্রামীণ ফোনের এরিয়া ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার মৃতেদহ গ্রহণ করেন চাচাতো ভাই জিহাদ আলী।

নিহতদের স্বজনরা জানান, চিকিৎসার উদ্দেশে তারা গত ১৪ আগস্ট কলকাতায় যান। পরে ১৬ আগস্ট ফারজানা, মাঈনুল ও তাদের এক সহকর্মী শফিউল্লাহ সহ তারা তিন জন কলকাতার সেক্সপিয়র সরণিতে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে সিএনজির জন্য অপেক্ষা করছিলেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566099097478.jpg
কলকাতায় নিহত মাঈনুল আলম ও ফারজানা ইসলাম তানিয়া/ ছবি: সংগৃহীত

 

এ সময় দুই দিক থেকে দ্রুত গতিতে আসা দুটি প্রাইভেট কারের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে একটি প্রাইভেট কার উল্টে তাদের গায়ের ওপর এসে পড়ে। এ সময় গুরুতর আহত হয়ে ঘটনাস্থলে নিহত হন ফারজানা, মাঈনুল। আহত হন অপরজন শফি উল্লাহ।

শফি উল্লাহ জানান, কপালের জোরে তিনি বেঁচে গেছেন। বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোয় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এমন ঘটনার জন্য তিনি ভারত সরকারের কাছে বিচার দাবি করেন।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভাপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলমগীর হোসেন বলেন, ‘মৃতদেহ দুটির কাগজপত্রের আনুষ্ঠানিকতা সম্পূর্ণ করে তাদের পরিবারের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে।’

এদিকে, মৃতদেহ দুটি বেনাপোল বন্দরে পৌঁছালে তা দেখতে শত শত মানুষের ভিড় জমে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র