Alexa

ফরিদপুরে ভাঙ্গায় প্রকৌশলীকে আ’লীগ নেতার মারধর

ফরিদপুরে ভাঙ্গায় প্রকৌশলীকে আ’লীগ নেতার মারধর

ফরিদপুরের মানচিত্র, ছবি: সংগৃহীত

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় সরকারি কার্যালয়ের দরজা আটকে প্রকৌশলীকে মারধর করা হয়েছে। এই ঘটনায় উপজেলা আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক (ভারপ্রাপ্ত) আকরামুজ্জামান ওরফে রাজা (৫৬)সহ দুই আওয়ামী লীগ নেতার নামে মামলা করেছেন লাঞ্ছিত হওয়া কর্মকর্তা।

রোববার (১৯ মে) দুপুর ১২টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থানায় লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুপুর ২টার দিকে পুলিশ এই মামলার আসামি উপজেলা আ’লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক এবং উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক ওরফে অপু (৪৯) কে গ্রেফতার করে।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ওই দুই আ’লীগ নেতা ভাঙ্গা উপজেলা কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থিত উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান। ওই সময় উপজেলা প্রকৌশলী সমরজিৎ চন্দ্র ঘরামি (৩৬) তার কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশ এবং প্রত্যক্ষদর্শী জানা যায়, ওই দুই নেতা উপজেলায় জনস্বাস্থ্য বিভাগের টিউবওয়েল বিতরণ সংক্রান্ত পরিপত্র দেখতে চান। প্রকৌশলী এ পরিপত্র পরে দেখাবেন বলে জানান। তখন এনামুল হক তাকে পাঁচটি গভীর নলকূপ বরাদ্দ দিতে প্রকৌশলীকে অনুরোধ করেন।

প্রকৌশলী সমরজিৎ বলেন, ‘তার পক্ষে কোনো ব্যক্তিকে টিউবওয়েল দেওয়া সম্ভব নয়।’

সমরজিৎ চন্দ্র ঘরামি বলেন, ‘এক পর্যায়ে আ’লীগের ওই দুই নেতার সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়। তখন এনামুল হক কক্ষের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করে দেন এবং আ’লীগের ওই দুই নেতা তাকে কিল ঘুষি চড় থাপ্পড় মারতে থাকেন।’

এ সময় ওই কার্যালয়ের তিন কর্মচারী নলকূপ সসেটার বলাই চন্দ্র শীল ও মো. সেলিমুজ্জামান এবং বিএস মেশিন সায়দুল ইসলাম এগিয়ে এসে প্রকৌশলীকে মারধরের হাত থেকে রক্ষা করার চেষ্টা করলে আ’লীগের ওই দুই নেতা তাদের তিনজনকেও মারধর করে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা খালেদুর রহমান মিয়া জানান, উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এসে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে উপজেলা আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোবাহান মুন্সী বলেন, ‘ভাঙ্গায় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীর সাথে যে ঘটনা ঘটেছে তা আমাদের জন্য খুবই দুঃখ ও লজ্জাজনক। আ’লীগ সরকার ক্ষমতায় অথচ আ’লীগের দুই নেতা সরকারি এক কর্মকর্তাকে পিটিয়েছেন এ ঘটনায় দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে।’

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী সাইদুর রহমান বলেন, ‘এ ঘটনায় ওই প্রকৌশলী বাদী হয়ে ওই দুই আ’লীগ নেতাকে আসামি করে সরকারি কাজে বাধা ও মারধোরের অভিযোগে ভাঙ্গা থানায় দুপুরে একটি মামলা দায়ের করেছেন। এই মামলার পর আ’লীগ নেতা এনামুলকে পৌরসভা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিকেলে তাকে জেলার মুখ্য বিচারিক হাকিমের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।’

ওসি আরও বলেন, ‘এ মামলার অপর আসামি আকরামুজ্জামানকে গ্রেফতারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে তিনি আত্মগোপন করেছেন।’

আপনার মতামত লিখুন :