Alexa

সালথায় কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়ম, চলছে শিশুশ্রম!

সালথায় কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়ম, চলছে শিশুশ্রম!

সালথায় কর্মসৃজন প্রকল্পে কাজ করছে শিশুরা / ছবি: বার্তা২৪

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় আবারও কর্মসৃজন প্রকল্পের কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর দারিদ্রতা বিমোচনে গৃহীত কর্মসূচির সুফল লুটে নিচ্ছে স্থানীয় প্রভাশালী একটি মহল। এতে সুবিধা বঞ্চিত হচ্ছে অতিদরিদ্র শ্রমিকরা।

সালথার আটঘর ইউনিয়নে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান (ইজিপিপি) কর্মসূচির দ্বিতীয় পর্যায়ে প্রকল্পের কাজ শিশুদের দিয়ে করানো হচ্ছে। এ ছাড়া খাতা-কলমে শতভাগ শ্রমিক উপস্থিত দেখিয়ে বাস্তবে কম শ্রমিক দিয়ে কাজ করিয়ে টাকা আত্মসাৎ করার পায়তারা চলছে।

সরেজমিনে আটঘর ইউনিয়নের কাকিলাখোলা পূর্বপাড়া মসজিদ হতে জেলে ভিটা পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে ৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ থাকার কথা থাকলেও শ্রমিক পাওয়া গেছে ১৭ জন। তার মধ্যে ছয়জন রয়েছে শিশু শ্রমিক। শিশুদের বয়স ১০ থেকে ১৫ বছর। এরা চতুর্থ থেকে নবম শ্রেণিতে লেখাপড়া করে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/19/1558281876515.jpg

প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আক্কাস মিয়া বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ভাই একটু আধটু অনিয়ম করা লাগে। তাছাড়া বর্তমানে প্রতিদিন ২০০ টাকায় মাটি কাটার মজুরির কারণে রাস্তায় শ্রমিক কম আসে।’

শিশুদের দিয়ে শ্রমিকের কাজ করানো বিষয়ে আক্কাস মিয়া বলেন, ‘ওদের অভিভাবকরা পাঠালে আমরা ফেরত দেব কেমনে।’

এদিকে অরেকটি প্রকল্প গোবিন্দপুর উত্তরপাড়া ব্রিজ হইতে দুর্গাপুর পর্যন্ত সড়ক মেরামত। এ প্রকল্পে তালিকায় মোট শ্রমিক রয়েছে ৫০ জন। কাজে নিয়োজিত রয়েছে ১০ জন। সেখানেও শিশু শ্রমিক পাওয়া গেছে তিনজন। এ প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য আয়নাল মাতুব্বর। তিনি এলাকায় না থাকায় কাজের দেখাশোনা করেন ওই ওয়ার্ডের গ্রাম পুলিশ নুজরুল ইসলাম।

আটঘর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হাসান খান সোহাগ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কম শ্রমিক দিয়ে কর্মসূচির কাজ করা যাবে না। যেসব প্রকল্পে অনিয়ম দেখা যাবে, সেগুলো বন্ধ করে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/19/1558281898430.jpg

শিশুদের দিয়ে শ্রমিকের কাজ করানো বিষয়ে চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, প্রকল্প তৈরি করে দিয়েছি। প্রকল্পের সভাপতি কীভাবে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করবেন সেটি তার ব্যাপার।’

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা লিয়াকত হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘উপজেলার সকল প্রকল্পের সভাপতিদের এনে মিটিংয়ে সাবধান করা হয়েছে তাতেও কাজ হচ্ছে না। উনারা আমাদের কোনো কথা শুনছে না। আর শিশুদের দিয়ে কোনো রকম কাজ করানো যাবে না। কোনো প্রকল্পে শিশুদের পাওয়া গেলে ওই প্রকল্পের সভাপতির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এর আগে সোনাপুর ইউনিয়নের মিনাজদিয়ায় একটি প্রকল্প এবং ভাওয়াল ইউনিয়নের কামদিয়ায় একটি প্রকল্পে শ্রমিক কম থাকায় ও বেকু দিয়ে কাজ করায় প্রকল্প দু’টি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন :