Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

সক্রিয় দালাল চক্র

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন রোহিঙ্গা নারী ছলিমা

মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরলেন রোহিঙ্গা নারী ছলিমা
রোহিঙ্গা নারী ছলিমা খাতুন / ছবি: বার্তা২৪
মুহিববুল্লাহ মুহিব
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
কক্সবাজার


  • Font increase
  • Font Decrease

রোহিঙ্গা নারী ছলিমা খাতুন (১৯)। রাতের আধাঁরে দালালের ফাঁদে পা দিয়ে পাড়ি দিচ্ছিলেন মালয়েশিয়ায়। বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে নেওয়া হচ্ছিল তাকে। কিন্তু যাত্রাপথে কক্সবাজার উপকূলের নুনিয়াছড়া এলাকায় ছলিমা খাতুনসহ মোট ১০ রোহিঙ্গাকে সাগরে নামিয়ে দেয় দালাল চক্র। সেখান থেকে কূলে ফেরেন তারা।

সোমবার (২০ মে) কক্সবাজার সদর থানা পুলিশের হাতে আটক হন এসব নারীরা। পরে পুলিশকে এসব তথ্য জানান ছলিমা খাতুন। তিনি টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মৃত আমান উল্লার মেয়ে। ৭ ভাই-বোনের মধ্যে ছলিমা খাতুন দ্বিতীয়। দুই ভাই এখনো ছোট।

ছলিমাদের সঙ্গে আটক হয়েছেন উখিয়ার থ্যাংখালীর সি-১২ নং ক্যাম্পের দলু হোসেনের ছেলে আজিম উল্লাহ (২১)। তাকেও ভালো বেতনের চাকরির কথা বলে নদী পথে মালয়েশিয়ায় নেওয়া হচ্ছিল।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, গত এক সপ্তাহে কক্সবাজার উপকূল থেকে মালয়েশিয়াগামী প্রায় তিন শতাধিক রোহিঙ্গাকে আটক করা হয়েছে। গত ১৭ মে রাতে পেকুয়া ও সেন্টমার্টিন দ্বীপে পৃথক অভিযানে ৮৪ জন মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা নারী-পুরুষ ও শিশুকে আটক করে পুলিশ ও কোস্টগার্ড। এরমধ্যে দালাল চক্রের ছয়জন সদস্য ছিল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/21/1558390443694.JPG

এর আগে মহেশখালী উপজেলার হোয়ানক থেকে ২৯ জন, কালারমারছড়া থেকে ১৪ জন, পৃথক অভিযানে টেকনাফের বাহারছড়া থেকে ২০ জন, কক্সবাজারের দরিয়া নগর এলাকা থেকে ৩৪ জন এবং কক্সবাজার শহরের নুনিয়াছড়া থেকে ১৭ জনকে আটক করা হয়। পাচারের সময় বেশিরভাগ রোহিঙ্গা ধরা পড়লেও অনেকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিদেশ পাড়ি জমাচ্ছেন।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভ সড়কের রেজু ব্রিজ এলাকায় ২০১৫ সালের মতো সক্রিয় রয়েছে মানব পাচারকারী চক্র। সেই চক্রের ৬ সদস্যের নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের সাগর পথে বিদেশে নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন: মোবাইলে বিয়ে করে মালয়েশিয়া যেতে মরিয়া রোহিঙ্গা নারীরা

গত শুক্রবার (১৭ মে) রাতে পেকুয়া থেকে মালয়েশিয়াগামী রোহিঙ্গা আটকের ঘটনায় জড়িত ১১ জন দালালকে চিহ্নিত করেছে পুলিশ। এরমধ্যে ছয়জন স্থানীয় উজানটিয়া এলাকার। তারা হলেন- মো. টিপু, আবদুল গণি, মো. মনছুর, মিজবাহ উদ্দিন, জসিম উদ্দিন ও আব্দুল কাদের।

আর সেন্টমার্টিন থেকে মালয়েশিয়াগামী আটকের ঘটনায় পাঁচজন দালালকে আটক করেছে কোস্টগার্ড। তারা হলেন- মহেশখালী উপজেলার কুতুবজোম এলাকার আমিন শরীফ (২৭), একই এলাকার মুহি উদ্দীন (৫১), আব্দুল খালেক (৩০), রামু উপজেলার রশিদ নগর সিকদার পাড়ার শওকত আকবর (৪৫) এবং একই এলাকার মো. মোবারক (৩২)।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/21/1558390464976.jpg

উভয় ঘটনায় মানবপাচার আইনে মামলা করা হয়েছে।

পুলিশের হাতে আটক ছলিমা খাতুন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে দালালরা বাড়িতে গিয়ে আমাদের ভুল বুঝিয়েছে। তারা বলেছে কোনো সমস্যা হবে না, সহজেই আমাদের পার করে দেবে। এজন্য তারা আমাদের কাছ থেকে ৫ হাজার করে টাকাও নিয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে সমুদ্রের গলা পানিতে নামিয়ে দিয়ে দালাল চক্র পালিয়ে যায়। পরে অনেক কষ্টে কূলে আসলে পুলিশ আমাদের ধরে নিয়ে আসে।’

আটক আজিম উল্লাহ বার্তা২৪.কমকে বলেন, মালয়েশিয়ায় নিয়ে যেতে তারা আমার কাছ থেকে ছয় হাজার টাকা নিয়েছে। তারপর ব্রিজের পাশ দিয়ে বোটে তুলে সাগরের কাছে ফেলে দেয়। সেখান থেকে সাঁতরে কূলে ফিরেছি। এখন ক্যাম্পে ফিরতে চাই, এমন ভুল আর করতে চাই না।’

অভিযানে নেতৃত্ব দেয়া কক্সবাজার সদর থানার উপ-পরিদর্শক দীপক কুমার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নুনিয়াছড়া থেকে নারীসহ ১০ জন রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করা হয়। সাগর পথে মালয়েশিয়া পৌঁছে দেওয়ার কথা বলে উখিয়া ক্যাম্প থেকে তাদেরকে নিয়ে এসে নুনিয়াছড়া উপকূলে নামিয়ে দেওয়া হয়।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/21/1558390482846.jpg

এদিকে স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শহরের সাগরতীর নুনিয়াছড়া এলাকায় শীর্ষ মানব পাচারকারী হিসেবে চিহ্নিত শামসু মাঝির ছেলে ছৈয়দ করিম ও তার ভাই মোহাম্মদ করিম, গুড়া মিয়া মাস্টারের ছেলে আবু বক্কর ও নতুন বাহারছড়া এলাকার মৃত হোসেনের ছেলে জাফর আলম শিপন। তাদের হাত ধরেই এ পথ ধরে বহুবার মানবপাচার হয়েছে। চিহ্নিত এসব পাচারকারীর নামে বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে।

অভিযোগ আছে, পুলিশের তালিকাভুক্ত এসব পাচারকারী আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে। তাদের হাত ধরে এসব রোহিঙ্গা নুনিয়াছড়া এলাকায় এসেছে।

এ বিষয়ে কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফরিদ উদ্দিন খন্দকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘অবৈধভাবে সাগর পথে পাচারের খবর পেয়ে পুলিশ ১০ জন রোহিঙ্গাকে নুনিয়াছড়া থেকে আটক করেছে। স্থানীয় একটি চক্র এসব পাচারে জড়িত রয়েছে। পুলিশ এ বিষয়ে তদন্ত করে মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

কক্সবাজার পুলিশ সুপার (এসপি) এবিএম মাসুদ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘সীমানা প্রাচীর না থাকায় রোহিঙ্গারা সহজেই ক্যাম্প ছাড়তে পারছে। দ্রুত সীমানা প্রাচীর নির্মাণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিক্ষিকাকে গলাকেটে হত্যা

ধর্ষণের ঘটনা ধামাচাপা দিতে শিক্ষিকাকে গলাকেটে হত্যা
হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আনিছ ও জামাল, ছবি: সংগৃহীত

চাঁদপুরে স্কুল শিক্ষিকা জয়ন্তি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা আনিছ ও জামাল নামে দুই ডিসের (ক্যাবল নেটওয়ার্ক) কর্মচারীকে আটকের পর রহস্য উন্মোচন করা সম্ভব হয়েছে। আটক ডিসের কর্মচারী হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে বলে পিবিআই প্রেস ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) বিকেল তিনটায় চাঁদপুর ওয়ারলেস বাজার এলাকার পিবিআই কার্যালয় এসপি মোঃ ইকবাল প্রেস ব্রিফিং মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566135192339.jpg

 

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পূর্ব মুহূর্ত থেকে শেষ পর্যন্ত ঐ বাড়িতে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কারা অবস্থান করেছে তা চিহ্নিত করা হয়। সেখানে ডিসের কর্মচারী আনিছুর রহমান ও জামাল হোসেন ঘটনার সময় ওই বাড়িতে অবস্থান করছিল এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

পরবর্তীতে ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে তাদের দু’জনকে  গ্রেফতার করে পুলিশ। তারা দুজনে চাঁদপুর ক্যাবল নেটওয়ার্কের স্বত্বাধিকারী মালিক রমজানের স্টাফ হয়ে ডিস লাইনম্যান হিসেবে বাসা বাড়িতে সংযোগ দেওয়ার কাজ করত।

পিবিআই এসপি মোঃ ইকবাল  জানান, সারাদেশে যখন পদ্মা সেতু নিয়ে গলাকাটা গুজব ছড়িয়েছে ঠিক তখনই চাঁদপুরে পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টাফ কোয়ার্টারে গলা কেটে শিক্ষিকা জয়ন্তীকে হত্যা করা হয়েছে। জয়ন্তি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় প্রথমেই হত্যার কোন ক্লু না পাওয়া গেলেও কিছুদিনের মধ্যেই মূল হোতাদের আটক করতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ। আধুনিক টেকনোলজি ব্যবহার করে মূল হোতাদের আটক করা ও ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হয়েছে।

আটক ডিসের স্টাফ আনিছ ও জামাল ঘটনার দিন দুপুরে  কোয়ার্টারে গিয়ে শিক্ষিকা জয়ন্তীকে একা পেয়ে তাকে ধর্ষণ করে। তিনি ডাকচিৎকার দিতে শুরু করলে ঘাতকরা বাসায় টেবিলে রাখা ফল কাটার ছুরি নিয়ে শিক্ষিকা জয়ন্তীর গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই রবিবার বিকালে পুলিশ চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে ষোলঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা জয়ন্তী চক্রবর্তীর গলা কাটা লাশ উদ্ধার করে।

প্রেমিকার স্বজনের মারধরে আহত প্রেমিকের মৃত্যু

প্রেমিকার স্বজনের মারধরে আহত প্রেমিকের মৃত্যু
মাসুদ রানা সোহেলের লাশ। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

লালমনিরহাটে প্রেমিকার ম্যাসেজ পেয়ে দেখা করতে গিয়ে মারধরের শিকার আহত মাসুদ রানা সোহেল (২৯) মারা গেছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) বিকেলে লালমনিরহাট পৌরসভার টিএনটি ভবন এলাকার নিজ বাড়ি থেকে লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

মৃত মাসুদ রানা সোহেল লালমনিরহাট পৌরসভার টিএনটি ভবন এলাকার আইয়ুব আলীর ছেলে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সোহেলের সঙ্গে লালমনিরহাট শহরের নর্থ বেঙ্গল মোড় এলাকার আতিয়ার রহমানের মেয়ে আশামনির (১৬) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। কিন্তু তাদের বয়সের ব্যবধান ছিল অনেক। তাই মেয়ের পরিবার এই প্রেমের সম্পর্ক মেনে নিতে পারেনি। এরই জের ধরে পরিবারের কথায় গত বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে সোহেলকে ডেকে আনে আশামনি। পরে সোহেলকে আটকে রেখে রাতভর মারধর করে আশামনির স্বজনরা।

বিষয়টি স্থানীয়রা টের পেয়ে সোহেলকে উদ্ধার করে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। গত শনিবার (১৭ আগস্ট) রাতে বেশি অসুস্থ হলে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে মারা যায় সোহেল। পরে লাশ বাড়িতে নিয়ে যায় স্বজনরা।

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম জানান, সোহেলের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় মৃতের বাবা আইয়ুব আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র