Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মাদকসহ আটক কারাগারের ২ কর্মচারী জেল হাজতে

মাদকসহ আটক কারাগারের ২ কর্মচারী জেল হাজতে
লালমনিরহাট কারাগার/ ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
লালমনিরহাট


  • Font increase
  • Font Decrease

লালমনিরহাট কারাগারের দুই কর্মচারীকে মাদকসহ আটক করে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত দুই জন নিজে মাদক সেবন করতেন, বিক্রি করতেন আবার সেই মাদক কারা অভ্যন্তরে পাচারও করতেন। ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদ পেয়ে মাদকসহ তাদের দুজনকে হাতেনাতে আটক করে।

বুধবার (২২ মে) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে লালমনিরহাট সদর উপজেলার বড়বাড়ী এলাকা থেকে তাদের দুজনকে আটক করে লালমনিরহাট ডিবি পুলিশ।

আটককৃতরা হলেন- লালমনিরহাট কারাগারের গোয়েন্দা সদস্য (সিআইডি) তহুরুল ইসলাম, তার গ্রামের বাড়ি চাপাইনবাগঞ্জ ও জেল সুপারের গাড়িচালক ফিরোজ কবীর, তার গ্রামের বাড়ি গাইবান্ধা জেলায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/23/1558556647306.jpg

লালমনিরহাট ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মকবুল হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'বড়বাড়ী বাজার এলাকা থেকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তহুরুল ইসলাম ও ফিরোজ কবীর নামের দুই ব্যক্তিকে মাদকদ্রব্যসহ আটক করা হয়। পরে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা নিজেদেরকে লালমনিরহাট জেলা কারাগারের কারারক্ষী বলে পরিচয় দেন।’

‘পরবর্তীতে জানা যায় তহুরুল ইসলাম কারাগারের সিআইডি সদস্য ও ফিরোজ কবীর জেল সুপার কিশোর মুমার নাগের গাড়িচালক। তাদের বিরুদ্ধে লালমনিরহাট সদর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলার প্রক্রিয়া চলছে।’

লালমনিরহাটের পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক তাদের আটক বিষয় নিশ্চিত করে বলেন, ‘মাদকদ্রব্যসহ আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করার প্রক্রিয়া চলছে। মামলা হলে দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেফতার

বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলায় একজনকে গ্রেফতার
রিফতাকে কুপিয়ে আগাত করার সময় তার স্ত্রী ঠেকানোর চেষ্টা করেন, ছবি: সংগৃহীত

বরগুনায় শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ (২৫) হত্যা মামলার চার নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির হোসেন জানান, রিফাত হত্যার ঘটনায় তার বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। অভিযান চালিয়ে মামলার অভিযুক্ত চার নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুন: আপ্রাণ চেষ্টা করেও স্বামীকে বাঁচাতে পারলেন না স্ত্রী

আরও পড়ুন: ঘাতক নয়নকে আটকাতে বরগুনার মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট

বুধবার (২৬ জুন) সকালে রিফাত শরীফ তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজে যান। কলেজ থেকে ফেরার পথে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ চার যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালান। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে বাধা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামাতে পারেননি তিনি।

আরও পড়ুন: যে কারণে খুন করা হয় রিফাতকে

তারা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যাওয়ার পর তাকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তির এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মেয়াদ শেষ ৮৫ বছর আগে, ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন

মেয়াদ শেষ ৮৫ বছর আগে, ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন
তিস্তা রেলসেতু, ছবি: বার্তা২৪

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের একমাত্র তিস্তা রেলসেতুর মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় ৮৫ বছর আগেই। বর্তমানে রেলসেতুটির কাঠের স্লিপারগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু দিয়েই প্রতিদিন ১৮টি ট্রেন ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর আগেই নতুন আরকেটি রেলসেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

জানা গেছে, রাজধানীসহ সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য তিস্তা নদীর উপর নির্মিত হয় রেলসেতু। নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১৮৩৪ সালে ২ হাজার ১১০ ফুট দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করে। এর মেয়াদ ধরা হয়েছিল শত বছর। বর্তমানে যার বয়স চলেছে ১৮৫ বছর। অর্থাৎ মেয়াদের প্রায় দ্বিগুণ সময় পার করছে এ রেল সেতুটি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561609713590.jpg

সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা রেলসেতুসহ লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কয়েকটি রেলসেতুর উপর বসানো অর্ধশত বছরের পুরনো কাঠের স্লিপারের অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। স্লিপারের সঙ্গে লাইন আটকানোর জন্য দুটি পিন দেওয়ার কথা থাকলেও রয়েছে একটি করে। এছাড়া লাইনের ক্লিপ চুরি হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে রেলপথ। 

কোনো কোনো স্থানে স্লিপারে লোহার প্লেটই নেই। এছাড়া সেতুর পাশে দুটি লাইনের জোড়ায় ফিসপ্লেটে চারটি নাট-বল্টু থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছে তিনটি। দিনের পর দিন এ পথের রেললাইন ঝুঁকিতে থাকলেও কর্মীদের নজর পড়ে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561609728231.jpg

এদিকে, মেয়াদ উত্তীর্ণ তিস্তা রেলসেতুর ভয়াবহতার কথা খোদ রেল বিভাগই স্বীকার করেছে। তবে তাদের দাবি, বিট্রিশ আমলের কাজ দেখে এখনো সেতুটি চলছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে সড়ক ও রেলপথের সকল সেতুর অবকাঠামো জরিপের নির্দেশ দিলেও তার কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।

অবশ্য রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন সম্প্রতি বলেছেন, ‘বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে নতুন আরেকটি সংযোগ হলেই ঝুঁকিপূর্ণ লালমনিরহাট রেল সেতুর পাশে আরও একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।’

তিস্তা রেল সেতু এলাকার রফিকুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ট্রেন চলাচল করছে। এখানকার মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকে, কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই সমাধান করা প্রয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561609745312.jpg

রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ম্যানেজার মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৫ জুন) একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিভাগের (লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম) ছোট বড় ৪০৮টি সেতুর মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিস্তা রেলসেতু মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবুও তিস্তা রেলসেতুর পশ্চিম পাশে নতুন করে আরও একটি ডাবল ব্রোডগেজ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এ সেতু দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র