ফরিদপুরে চিকিৎসক-সেবিকার ‘অবহেলায়’ শিশুর মৃত্যু

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ফরিদপুর
শিশু আব্দুর রহমান / ছবি: বার্তা২৪

শিশু আব্দুর রহমান / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সেবিকার অবহেলায় আব্দুর রহমান নামে ১১ মাস বয়সের এক শিশুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। শিশুটির পরিবার ও হাসপাতালে ভর্তি থাকা অন্য রোগীর স্বজনরা এ অভিযোগ করেন।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৩ মে) দুপুর ১টা ৫ মিনিটে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার গোপালগঞ্জ গ্রামে তৈয়বুর রহমানের ছেলেকে নিয়ে তার মা ফাহিমা বেগম ও চাচা অহিদুলসহ স্বজনেরা ডায়রিয়া জনিত রোগে জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন। ওই সময় সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সামিয়া সুলতানা শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশের সঙ্গে চিকিৎসাপত্র দিয়ে ডায়রিয়া ওয়ার্ডে পাঠান। সেখানে দুপুর আড়াইটার দিকে তার মৃত্যু হয়।

চাচা অহিদুল অভিযোগ করে বলেন, ‘বুধবার সকালে জ্বর ও ডায়রিয়া আক্রান্ত হয় আব্দুর রহমান। এরপর বৃহস্পতিবার ফরিদপুরে ডা. জাহেদ মেমোরিয়াল হাসপাতালে আনা হলে সেখান থেকে জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসক ভর্তির নির্দেশ দিয়ে ওয়ার্ডে পাঠালে সেখানে কর্তব্যরত নার্স গোলাপী বেগম চিকিৎসা পত্র দেখে বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে বলেন। এরপর ওষধ নিয়ে আসলে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ডাকাডাকি করেও ওই নার্সকে দিয়ে ওষুধের কোনো প্রয়োগ করানো সম্ভব হয়নি। যতবার ডেকেছি বলেছে, আসছি আপনি যান। কিন্তু আর আসেনি। একরকম বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয় আমার ভাতিজার। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’

শিশুটির স্বজনরা অভিযোগ করে বলেন, রোগীর অবস্থা যখন আমাদের কাছে খারাপ মনে হচ্ছিল আমরা দেখছিলাম আগের তুলনায় ওর বেশি শ্বাস কষ্ট হচ্ছে তখন পুরো হাসপাতাল ঘুরে অনেক হাতেপায়ে ধরেও একজন চিকিৎসক পাওয়া যায়নি। একপর্যায়ে সেবিকা জানান চিকৎসকরা নামাজে গেছেন। তারপর নামাজের সময় অতিক্রম হয়ে গেলেও চিকিৎসকরা না আসায় আবারও সেবিকাদের কাছে গেলে বলেন স্যাররা এখন বাড়ি চলে গেছেন। এখন আর কেউ আসবেন না। এমন পরিস্থিতিতে সেবিকার সঙ্গে আমাদের বাকবিতণ্ডা হয়।

তারা আরও বলেন, তখন সেবিকা গোলাপী বেগম চিকিৎসকের সঙ্গে ফোনে কথা বলে জানান, স্যার বলছে ঢাকায় রেফার করতে। এরই মধ্যে শিশুটির অবস্থা আরও অবনতি হলে সেবিকারা তাকে অক্সিজেন দেন। এর ৫ মিনিটের মধ্যেই শিশু আবদুর রহমানের মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক গনেশ আগরওয়াল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘দুপুর দেড়টায় নামাজ ও ২টায় শিফট পরিবর্তনের কারণে ওই সময়ের মধ্যে কিছুটা চিকিৎসক সংকট থাকে। তবে এই রোগীর চিকিৎসাপত্র লিখে দিয়েই চিকিৎসক গিয়েছিলেন। কিন্তু সেবিকা গোলাপীর গাফলতির মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। যাচাই করে দেখছি। অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এ বিষয়ে ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. এনামুল হক বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো রোগী বিনা চিকিৎসায় মারা যাবে না, এ ব্যাপারে কঠোর নিদের্শনা দেওয়া আছে।’

আপনার মতামত লিখুন :