Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

নীলফামারী-ঢাকা রুটে বিরতিহীন ট্রেনের দাবি

নীলফামারী-ঢাকা রুটে বিরতিহীন ট্রেনের দাবি
বিরতিহীন ট্রেনের দাবিতে নীলফামারীতে মানববন্ধন / ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নীলফামারী


  • Font increase
  • Font Decrease

নীলফামারীর চিলাহাটি, ডোমার, নীলফামারী ও সৈয়দপুর হয়ে বিরতিহীন ঢাকাগামী ট্রেনের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৫ মে) সকাল দুপুরে নীলফামারী রেলস্টেশন চত্বরে নীলফামারী জেলা উন্নয়ন ফোরামের আয়োজনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

নীলফামারী জেলা উন্নয়ন ফোরামের আহ্বায়ক আব্দুল ওয়াহেদ সরকারের সভাপতিত্বে মানববন্ধন চলাকালীন সমাবেশে বক্তব্য দেন- জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মমতাজুল হক, সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ফজলুল হক,সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবুজার রহমান, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুর রশিদ মঞ্জু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি মসফিকুল ইসলাম রিন্টু,জেলা শ্রমিক লীগের সাধারন সম্পাদক আমজাদ হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব জহুরুল আলম, যুগ্ন আহবায়ক আনিছুর রহমান কোকো, জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি গোলাম রহমান ডালু প্রমুখ।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, নীলফামারীর সীমান্তবর্তী এলাকা চিলাহাটি থেকে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন পর্যন্ত একটি মাত্র ট্রেন আন্তঃনগর ‘নীলসাগর’ এক্সপ্রেস চলাচল করছে। যা যাত্রীদের চাহিদা মোকাবেলা করতে পারছে না। নিরাপদ ভ্রমণ হিসেবে ট্রেনের বিকল্প না থাকলেও বাধ্য হয়ে ঝুঁকি নিয়ে বিভিন্ন দূরপাল্লার বাসে যাতায়াত করছেন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে শিক্ষার্থীরাও। এমতাবস্থায় দ্রুত আরও একটি বিরতিহীন আন্তঃনগর ট্রেন প্রয়োজন।

কর্মসূচি শেষে জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিনের মাধ্যমে রেলমন্ত্রী বরারব একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

জলঢাকায় গ্রেফতার আতঙ্কে আ.লীগের সভাপতি, সম্পাদক

জলঢাকায় গ্রেফতার আতঙ্কে আ.লীগের সভাপতি, সম্পাদক
শোক দিবসে নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় আ.লীগের দু গ্রুপের সংঘর্ষের চিত্র

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে (১৫ আগস্ট) নীলফামারীর জলঢাকায় বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগের দু‘পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। উক্ত ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্য আহত হওয়ায় পুলিশের পক্ষ থেকেও একটি মামলা দায়ের করা হয়।

আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের দায়ের করা মামলায় উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনছার আলী মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেল, সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাসহ সহস্রাধিক নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। যার মামলা নম্বর-১৭ তারিখঃ ১৫.৮.১৯  এবং ১৮ ও ১৯ তারিখঃ ১৬.০৮.১৯ইং।

এ ঘটনায় শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে জলঢাকা থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন; মীরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের আহবায়ক হেলালুজ্জামান হেলাল, সদস্য হারুন-অর রশিদ রাসেল, বালাগ্রাম ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি ইবনে নুর, আওয়ামী লীগ সমর্থক ইন্দ্রজিৎ রায়, ছাত্রলীগ কর্মী মিল্লাত হোসেন।

জলঢাকা থানা অফিসার ইনচার্জ মোস্তাফিজুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, 'ঘটনার দিন একজন এবং শুক্রবার রাতে উভয় পক্ষের মামলায় ৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।'

উল্লেখ্য, গত ১৫ আগস্ট বৃহস্পতিবার  জাতীয় শোক দিবসে ফুল দেয়াকে কেন্দ্র করে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফার মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। ঐ দিন দুপুর ও বিকালে দু’দফায় জলঢাকা পৌরশহরে বঙ্গবন্ধু চত্বর এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৩ রাউন্ড টিয়ার শেল ও ১৫ রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। এই ঘটনায় পাঁচ পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ১৫ আগস্ট শোক দিবসে সংঘর্ষের ঘটনায় ওই দিন রাতে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আনছার আলী মিন্টু বাদী হয়ে সাবেক এমপি অধ্যাপক গোলাম মোস্তফাসহ ৭০ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাত আরও শতাধিক লোককে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। অপর দিকে একই দিনে পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি আশরাফ হোসেন বাদী হয়ে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি আনছার আলি মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সহীদ হোসেন রুবেলকে প্রধান করে নামীয় ৬৩ জন ও অজ্ঞাত ২০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় সংর্ঘষের ঘটনায় জলঢাকা থানার এস আই মামুন-অর রশিদসহ পাঁচ জন পুলিশ সদস্য হামলার শিকার হয়ে আহত হলে এসআই আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করেন এবং আরো ১৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে দুপক্ষের সাথে বৈঠক করেছেন নীলফামারী জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক এ্যাড.মমতাজুল হকসহ জেলা আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতা।

নীলফামারী জেলা সভাপতি দেওয়ান কামাল আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, 'সমঝোতার জন্য দুই পক্ষের সাথে আলোচনা করছি। ভবিষ্যতে যাতে এর পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে বিষয়ে স্থানীয় নেতাদের হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে।'

রাতে বিশ্রামাগারে তালা, ট্রেনযাত্রীদের দুর্ভোগ

রাতে বিশ্রামাগারে তালা, ট্রেনযাত্রীদের দুর্ভোগ
মেঝেতে শুয়ে আছেন ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান কিছু যাত্রী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কোথাও যাত্রীরা বসে আছেন অন্ধকারে, কোথাও যাত্রীরা শুয়ে আছে নোংরা মেঝেতে। কোথাও আবার মালপত্র নিয়ে পায়চারি করছেন। মাঝে মধ্যে ট্রেনের হুইসেল শুনে যাত্রীদের কেউ কেউ এদিক-সেদিক তাকিয়ে নড়েচড়ে বসছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) রাত দেড়টায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের প্ল্যাটফরমে এমন দৃশ্য দেখা যায়। জংশনের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় বৈরী আবহাওয়ায় ও অন্ধকারের মধ্যে রাতের ট্রেনযাত্রীরা প্ল্যাটফরমের নোংরা মেঝেতে আশ্রয় নিয়েছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566090508229.jpg

জানা গেছে, গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে প্রতিদিন ঢাকা-জারিয়া, ঢাকা-মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম এই তিনটি রুটে আন্তঃনগর, মেইল, কমিউটার ও লোকালসহ ৩২টি ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে। কিন্ত রাতের বেলা বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আরও পড়ুন: টেলিফোন বিকল, গ্রাহকের বিল সচল

রাতে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে গিয়ে দেখা যায় প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগারটি তালাবদ্ধ। বিশ্রামাগারের সামনে স্তূপ করে রাখা বাইর (মাছ ধরার ফাঁদ)। যাত্রীরা জায়গা না পেয়ে টিকিট কাউন্টার ও প্ল্যাটফরমের মেঝেতে বসে ও শুয়ে আছে। এরমধ্যে নারীযাত্রীরা অন্ধকারের মধ্যে গুটিসুটি হয়ে বসে আছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নারী যাত্রীদের কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন চায়ের দোকানে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী যাত্রী বলেন, ‘বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় রাতের বেলা প্রাকৃতিক কাজ সারতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়েই এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অন্ধকারে বসে আছি। এই হচ্ছে গৌরপুর স্টেশনে যাত্রীদের সেবার মান।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566090548478.jpg

অপরদিকে, দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগারের সামনে গিয়ে দেখা যায় দরজা তালাবদ্ধ। বিশ্রামাগারে স্থান না পেয়ে যাত্রীরা কেউ চায়ের দোকান ও রেলওয়ে ওভারব্রিজের সিঁড়িতে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এরমধ্যে অনেক যাত্রী কাঁথা কিংবা চাদর বিছিয়ে বিশ্রামাগারের সামনে শুয়ে আছেন।

আরও পড়ুন: ৫৬ বছরে গৌরীপুর সরকারি কলেজ

ট্রেনযাত্রী মানিক মিয়া বলেন, ‘পরিবারের লোকজন রাতের ট্রেনে ঢাকা যাবে। কিন্তু দুটি বিশ্রামগার বন্ধ থাকায় বৈরী আবহাওয়ায় মালপত্র নিয়ে প্ল্যাটফরমে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় না এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির বলেন, ‘বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় যাত্রীরা মালপত্র নিয়ে বাইরে আশ্রয় নেওয়ায় স্টেশনে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। নারী যাত্রীরা বখাটেদের উৎপাতের শিকার হচ্ছে। এতে করে এই স্টেশনে যাত্রীসেবার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে। সেবার মান বাড়াতে এই চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566090572707.jpg

এ বিষয়ে জানতে রাতে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুর রশিদের মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

তবে স্টেশনের বুকিং সহকারী রাজিব বলেছেন, ‘প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার বন্ধ থাকলেও দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগার খোলা থাকার কথা। কিন্ত আজ কেন বন্ধ বলতে পারছি না ‘

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র