Barta24

শুক্রবার, ২৩ আগস্ট ২০১৯, ৮ ভাদ্র ১৪২৬

English

স্থগিত রাজবাড়ীর দেড়শ বছরের লাল ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত

স্থগিত রাজবাড়ীর দেড়শ বছরের লাল ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত
রাজবাড়ীর ঐতিহ্যবাহী লাল ভবন/ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
রাজবাড়ী
বার্তা ২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

অবশেষে রাজবাড়ী শহরের প্রাণকেন্দ্রে ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দেড়শ বছরের ঐতিহ্যবহনকারী লাল ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেছেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কাজী কেরামত আলী।

শনিবার (২৫ মে) দুপুরের সংসদ সদস্যের নিজ বাসভবনে ‘ঐতিহ্য সংরক্ষণ আন্দোলন রাজবাড়ী’র সঙ্গে মতবিনিময় শেষে তিনি এ ঘোষণা দেন।

লাল ভবন ভাঙার সিদ্ধান্ত স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঐতিহ্য সংরক্ষণ আন্দোলন রাজবাড়ীর সমন্বয়ক একুশে পদকপ্রাপ্ত চিত্রশিল্পী চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ও রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র মনসুর উল করিম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558784287362.jpg

তিনি বার্তা২৪.কমকে জানান, ভবনটি রক্ষার দাবিতে আমাদের পরবর্তী কার্যক্রম কি হবে তারই প্রেক্ষিতে আজ বেলা ৩টায় আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সর্বস্তরের পেশাজীবীদেরকে নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাজবাড়ী-২ আসনের  সংসদ সদস্য আমাদের মতবিনিময় সভাটি বন্ধ করে তার সঙ্গে বসার আহবান জানান।

তারই প্রেক্ষিতে ঐতিহ্য সংরক্ষণ আন্দোলন রাজবাড়ীর ১০ সদস্য আজ দুপুরে এমপির বাসভবনে আলোচনার জন্য উপস্থিত হয়। দীর্ঘ আলোচনা শেষে এমপি আমাদেরকে জানান, ভবনটি সংরক্ষণের জন্য তিনি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এবং ভবনটি যাতে ভাঙা না লাগে সেটিরও ব্যবস্থা তিনি করবেন। তাৎক্ষণিকভাবে এমপি ভবনটি যাতে না ভাঙা হয় সেজন্য তিনি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ফোনে নির্দেশ দেন।

রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী আলহাজ্ব কাজী কেরামত আলী বার্তা ২৪.কমকে জানান, ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছি। আর ঈদের পর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে বসে ভবনটি সংরক্ষণের জন্য কি ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে সেটি আলোচনা করা হবে এবং লাল ভবনটি রেখে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়ের কথাও হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/25/1558784315824.jpg

প্রসঙ্গত, ১৮৭১ সালে মাইনর স্কুল দিয়ে এটির যাত্রা শুরু হয়। আর ১৮৯২ সালে তা পূর্ণরূপ পায়। ১৮৯২ সালে তৎকালিণ গোয়ালন্দ মহকুমার বাণীবহ এস্টেটের জমিদার গিরিজা শংকর মজুমদার ও অভয় শংকর মজুমদার রাজবাড়ীর সজ্জনকান্দা মৌজায় দি গোয়ালন্দ ইংলিশ হাই স্কুল নাম দিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে নাম পরিবর্তন করে গোয়ালন্দ মডেল হাই স্কুল  এবং সর্বশেষ রাজবাড়ী সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় নামকরণ করা হয়।

বেশ কয়েক বছর আগেও কর্তৃপক্ষ এই লাল ভবনটি ভেঙে ফেলার উদ্যোগ নিলে তীব্র আন্দোলনের মুখে রক্ষা পায় তখন এই ভবনটি। সর্বশেষ ৯ মে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে সেটি ফের ভেঙে ফেলার  সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। আর তাতেই ফুঁসে উঠেছিল রাজবাড়ীবাসী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন নেমে আসে  রাজপথে । যে কোন কিছুর মূল্যেই হোক ভবনটির অস্থিত্ব টিকে রাখতে আন্দোলনকারীরা আত্মহুতিরও ঘোষণা দিয়েছিলেন।  তারই প্রেক্ষিতে আজ ভবনটি ভাঙার সিদ্ধান্ত স্থগিত করেন রাজবাড়ী-১ আসনের সংসদ সদস্য।

 

আপনার মতামত লিখুন :

অযত্নে বেড়ে ওঠা গুণসমৃদ্ধ মানকচু

অযত্নে বেড়ে ওঠা গুণসমৃদ্ধ মানকচু
গ্রামঞ্চলের আনাচেকানাচে বেড়ে ওঠা মানকচু

আমাদের দেশে অনেক ধরণের কচু জন্মায়। তবে এরমধ্যে মানকচুর একটা আলাদা কদর আছে। সেটা এর বিশাল আকারের জন্য। আর কোনো কচু গাছ এত বড় আকারের হয়না। চাষাবাদ না হওয়ায় দেশের গ্রামাঞ্চলে পথে-ঘাটে, জঙ্গল- ঝোপঝাড়ে অনেকটা অযত্নে অবহেলা বেড়ে ওঠে গুণসমৃদ্ধ মানকচু গাছ।

শুক্রবার (২৩ আগস্ট) সকালে মানকচু গাছের দেখা মিলে গৌরীপুর পৌরশহরের গো-হাটা সড়ক সংলগ্ন একটি ডোবার পাশে। অযত্নে অবহেলা বেড়ে উঠা বিশালাকৃতির গাছগুলো সহজেই পথচারির নজর কাড়ে।

মানকচুর বৈজ্ঞানিক নাম: Alocasia macrorrhiza/ Alocasia indica হচ্ছে  Araceae পরিবারের একটি উদ্ভিদ প্রজাতি। দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশে মানকচু দেখতে পাওয়া যায়। একে অনেকেই ঔষুধি হিসেবেও ব্যবহার করেন। তবে কিছু কচু আছে, যা খেলে গলা চুলকাতে পারে। তাই মানকচু ঠিকমতো সেদ্ধ করে খেতে হবে। রান্নার পাশাপাশি মানকচু ভর্তা করেও খাওয়া যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566535389148.gif

মানকচু বহুবর্ষজীবী উদ্ভিদ। স্থানভেদে সর্বোচ্চ গাছ ১২ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ছায়াযুক্ত অনুর্বর মাটির মানকছু গাছ খুব বেশি বড় হয় না। শুকনো উর্বর মাটির গাছ বেশ লম্বা হয়। বর্ষকালে মানকচুর উচ্চতা সর্বোচ্চ হয়। গ্রীষ্ম ও শীতকালে উচ্চতা সবচেয়ে কম হয়।

মান কচু গাছের আলাদা কোনো কাণ্ড নেই। মূলের যে অংশ মাটির উপরে থাকে সেই অংশটিকে এর কাণ্ড বলে।

মানকচুর শাখা-প্রশাখা থাকে না। সরাসরি মূল বা কাণ্ড থেকে প্রথম পাতাটা বের হয়। মানকচুর পাতা উপবৃত্তকার। পাতার রং গাঢ় সবুজ। কচি পাতার রং হালকা সবুজ। গাছের উচ্চতা অনুযায়ী পাতা ৪ ইঞ্চি থেকে ৪ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।

মান কচুর ফুল ও ফল হয় না। অঙ্গজ প্রজননের মাধ্যমে বংশবিস্তার ঘটে। কচুর মুল থেকে সরাসরি নতুন চারা জন্মে। তাই একটা গাছ কোথাও জন্মালে সেখানে কয়েক মাসের মধ্যে অনেক চারা জন্মে ঘন ঝাড় সৃষ্টি হয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/23/1566535355007.gif

বিশেষজ্ঞরা বলেন, কচু খেলে শরীর পুষ্ট হয় এবং শুক্র বৃদ্ধি পায়। কান ও গলার রুক্ষতা দূর করে। এ ছাড়া মানকচুর আরও কিছু গুণ আছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে মানকচু শরীরে আয়রনের ঘাটতি পূরণ ও দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে মানকচু কার্যকর। মানকচুতে আছে দরকারি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও বিটা ক্যারোটিন, যা শরীরে রোগ সৃষ্টিকারী ফ্রি র‌্যাডিকেলসকে দূরে রাখে। এতে থাকা ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ভিটামিন ত্বকের জন্য ভালো। মানকচুতে থাকা ডায়েটারি ফাইবার ও পটাশিয়াম হৃদযন্ত্রের জন্য ভালো। এটি হৃৎস্পন্দন নিয়ন্ত্রণে রাখে। ধমনির ধকল দূর করায় রক্তচাপ থাকে নিয়ন্ত্রণে।

শ্রীপুরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সভাপতিসহ আহত ৭

শ্রীপুরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, সভাপতিসহ আহত ৭
দু-গ্রুপের হামালায় আহতরা, ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের শ্রীপুরে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি ও সম্পাদক সহ সাতজন আহত হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২২ আগস্ট) রাতে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশন সংলগ্ন স্থানে এ ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- উপজেলা ছাত্র লীগের সভাপতি জাকিরুল হাসান জিকু, উপজেলা ছাত্র লীগের সহ-সভাপতি রাকিবুল হাসান, গ্রন্থ ও প্রকাশনা সম্পাদক তন্ময় বনিক ও সহ-সম্পাদক রাসেল শেখ আহত হয়। এদিকে এ ঘটনায় প্রতিপক্ষের মুক্তিযোদ্ধা রহমত আলী সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা সিয়াম খন্দকার সানি, সুজন, আল আমিন ও জনি মন্ডল আহত হয় বলে জানা যায়।

কলেজ শাখা ছাত্রলীগ নেতা সিয়াম খন্দকার সানি বলেন, 'রেলওয়ে স্টেশন থেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মোবাইল ফোন ছিনতাই করে নিয়ে যাচ্ছিল কয়েকজন ছিনতাইকারী। এ ঘটনায় বাধা দিলে রাকিব, রাসেল, তন্ময়সহ আরও কয়েকজন মিলে আমার ওপর হামলা চালায়। স্থানীয়রা আমাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে এ ঘটনায় রাকিব, তন্ময়,রাসেল ও বুলবুলকে বিবাদী করে থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়েছে।'

উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জাকিরুল হাসান জিকু বলেন, 'গত রাত সাড়ে ৭টার দিকে রাকিব, রাসেল, তন্ময়সহ আরও কয়েকজন মিলে রেলওয়ে স্টেশনের পাশের একটি দোকানে চা পান করার সময় হঠাৎ ১০-১৫ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমাদের ওপর হামলা চালায়। আমিসহ সবাই এখন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ ঘটনায় অভিযোগ লিখা হয়েছে। দুপুরের দিকে থানায় জমা দেয়া হবে।'

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) লিয়াকত আলী জানান, এ ঘটনা অবগত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এখনো পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলেও জানান তিনি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র