নানা রোগে আক্রান্ত শিশু আতিকুল, অর্থাভাবে চিকিৎসা বন্ধ

তোফায়েল হোসেন জাকির, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গাইবান্ধা
নানা রোগে আক্রান্ত শিশু আতিকুল / ছবি: বার্তা২৪

নানা রোগে আক্রান্ত শিশু আতিকুল / ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দরিদ্র পরিবারে জন্ম আতিকুলের (১০)।  এমনিতেই বাকপ্রতিবন্ধী সে, তার ওপর নানা রোগে আক্রান্ত। পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো না হওয়ায় আতিকুলের চিকিৎসা করাতে পারেন না তার বাবা-মা। ফলে সে এখন পরিবারের বোঝা। উন্নত চিকিৎসা করাতে না পারায় হতাশ হয়ে পড়েছেন তার বাবা-মা।

আতিকুলের বাবা আনিছুর রহমান একজন দিনমজুর। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় পৈত্রিক সূত্রে পাওয়া এক শতাংশ জমির ওপর টিনশেড ঘরে থাকেন তারা। আতিকুলের সারা শরীরে ফোঁসকা উঠেছে এবং ঠোঁট ও মুখেও ঘা হয়েছে। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় মুখে কিছু বলতে পারে না সে। তবে সারাক্ষণ যন্ত্রণায় কাতরায়। তাছাড়া কিছু খেতে না পারায় কঙ্কালসারহয়ে পড়ছে।

মা আছিয়া বেগম কাঁদতে-কাঁদতে বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘হামার কষ্টের কথা কি আর বলব? ছোলটার সারা শরীরে ফোসকা উঠেছে। হামারা গরীব মানুষ, টেকা পইসা নাই।সংসারই চলে না, ছেলের চিকিৎসা করি কেমনে। তবুও স্থানীয় লিটু ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা করাইতেছি। হামার এ অবস্থা দেখি ডাক্তার কোনো ভিজিট নেয় না।’

আতিকুলের বাবা আনিছুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘টেকার অভাবে ছেলেকে বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাবার পারি না। ছেলের মুখ দেখলে বুকটা ফাটি যায়। তবু এর মধ্যে অনেক কষ্টে গ্রামের ডাক্তার দিয়ে চিকিৎসা করাইতেছি। এতে আল্লায়এখন যা করে।’

আতিকুলের চিকিৎসার বিষয়টি নিশ্চিত করে পল্লী চিকিৎসক লিটু আহম্মেদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রচণ্ড গরমে শিশুদের রোগ হয়। সাধারণত এটাকে অগ্নিসার রোগ বলে। তবে আতিকুলের আরও সমস্যা আছে। আমি তাকে সাধ্যমতো চিকিৎসা দিচ্ছি।’

কোনো সরকারি সাহায়তা পান কিনা জানতে চাইলে আনিসুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ইউনিয়নের চেয়ারম্যান একটা প্রতিবন্ধী কার্ড করে দিয়েছে। এছাড়া আর কোনো সহযোগিতা আমরা পাই না।’

সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সমাজসেবা অফিসার নাছির শাহ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘চিকিৎসা সংক্রান্ত আমাদের তেমন কোনোব্যবস্থা নেই। তবে সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে তারা কিছুটা সহায়তা পেত।’