Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

ডাকসুর ভিপি নুরের ওপর হামলা

ডাকসুর ভিপি নুরের ওপর হামলা
ডাকসুর ভিপি নুরুল হক নুর / ছবি: বার্তা২৪
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
বগুড়া


  • Font increase
  • Font Decrease

বগুড়ায় ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আয়োজিত ইফতার মাহফিলে যোগ দিতে এসে হামলার শিকার হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) ভিপি নুরুল হক নুরসহ আরও কয়েকজন। এ সময় বগুড়ার দুই সংবাদ কর্মীকেও মারধোর করা হয় বলে জানা গেছে।

রোববার (২৬মে) বিকেল ৫টার দিকে শহরের উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি চত্বরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চারায় বলে বলে জানা গেছে। আহত নুরসহ চারজন বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে তাৎক্ষণিক ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন।

সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের পক্ষ থেকে উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরি মিলনায়তনে ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। পুলিশি বাধা ও ছাত্রলীগের হামলায় সেই অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়।

বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ বগুড়া শাখার আহ্বায়ক রাকিবুল ইসলাম রাকিব বার্তা২৪.কমকে জানান, তারা পৌর কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে ওই মিলনায়তনে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের ভিপি নুরুল হক নুর। দুপুরের পরপরই বগুড়া সদর থানা পুলিশ গিয়ে অনুষ্ঠান বন্ধ করতে বলে। পুলিশের কাছ থেকে আগাম কোনো অনুমতি না নেওয়ার কারণে পুলিশ সেখানে বাধা দেয়।

তিনি আরও জানান, বিকেলে মাইক্রোবাস যোগে ভিপি নুর ও তার সফরসঙ্গীরা উডবার্ন পাবলিক লাইব্রেরিতে পৌঁছান। এ সময় তারা পুলিশের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তার ওপরে হামলা চালায়। এ সময় ভিপি নুর ছাড়াও তার সফর সঙ্গীদের মধ্যে রাতুল, আপন ও ফারুক আহত হন। ওই ঘটনার চিত্র ধারণ করতে গিয়ে যমুনা টিভির ক্যামেরাপারসন শাহনেওয়াজ শাওন ও আব্দুল আওয়ালও নামের দুই সংবাদ কর্মী মারপিটের শিকার হন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/26/1558879357013.jpg
হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন আহত ভিপি নুর

 

রাকিবুল ইসলাম জানান, আহতদের বগুড়া শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে নেওয়ার পর প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নুরুল হক নুরুসহ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের নেতারা বগুড়া ত্যাগ করেন।

বগুড়া মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. রোকেয়া সুলতানা অ্যানী বার্তা২৪.কমকে জানান, তাদের আঘাত তেমন গুরুতর নয়। চিকিৎসা নিতে তারা হাসপাতালে আসার পর থেকেই তাড়াহুড়া করছিলেন। হাসপাতালে পৌঁছার ১০ মিনিটের মধ্যেই তারা হাসপাতাল ত্যাগ করেন।

বগুড়া জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈমুর রাজ্জাক তিতাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বার্তা২৪.কমকে জানান, রোববার অ্যাডওয়ার্ড পার্কের দক্ষিণ পাশের টিটু মিলনায়তনে জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের ইফতার মাহফিল ছিল। ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা সেখানে পৌঁছার পর জানতে পারে পার্কের ভেতরে উডবার্ন লাইব্রেরি মিলনায়তনে সাধারণ ছাত্রদের ব্যানারে শিবির ইফতার মাহফিল করছে। ছাত্রলীগের কিছু কর্মী বিষয়টি নিশ্চিত হতে সেখানে যায়।

তিনি আরও জানান, তারা গিয়ে দেখে ঢাবির ভিপি নুরসহ ঢাকার কিছু ছাত্রনেতা সেখানে এসেছেন। তারা ভিপি নুরুকে জানায় যে ছাত্র শিবিরের ইফতার মাহফিলে তিনি যেন অংশ না নেন। এ সময় তিনি ছাত্রলীগের কর্মীদের সঙ্গে বাদানুবাদ শুরু করেন। এক পর্যায়ে সেখানে মারপিটের ঘটনা ঘটে।

বগুড়া সদর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রেজাউল করিম রেজা জানান, পূর্বানুমতি না নিয়ে ওই মিলনায়তনে কর্মসূচি পালনের খবর জেনে পুলিশ সেখানে যায়। পুলিশ পৌঁছার আগেই সেখানে মারপিটের ঘটনা ঘটে। বিক্ষুব্ধ কিছু ছাত্র তাদের মারপিট করেছে বলে পুলিশ জেনেছে।

এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ দায়ের করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১

বরগুনায় রিফাত হত্যা মামলায় গ্রেফতার ১
রিফতাকে কুপিয়ে আগাত করার সময় তার স্ত্রী ঠেকানোর চেষ্টা করেন, ছবি: সংগৃহীত

বরগুনায় শাহ নেওয়াজ রিফাত শরীফ (২৫) হত্যা মামলার চার নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন বরগুনা পুলিশ সুপার মারুফ হোসেন।

বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবির হোসেন জানান, রিফাত হত্যার ঘটনায় তার বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনকে আসামি করে মামলা করেন। অভিযান চালিয়ে মামলার অভিযুক্ত চার নম্বর আসামি চন্দনকে গ্রেফতার করা হয়।

বুধবার (২৬ জুন) সকালে রিফাত শরীফ তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে নিয়ে বরগুনা সরকারি কলেজে যান। কলেজ থেকে ফেরার পথে নয়ন, রিফাত ফরাজীসহ চার যুবক রিফাত শরীফের ওপর হামলা চালান। এ সময় তারা ধারালো অস্ত্র দিয়ে রিফাত শরীফকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। এতে বাধা দেওয়ার আপ্রাণ চেষ্টা করেন রিফাত শরীফের স্ত্রী আয়েশা। কিন্তু কিছুতেই হামলাকারীদের থামাতে পারেননি তিনি।

তারা রিফাত শরীফকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে ফেলে রেখে যাওয়ার পর তাকে প্রথমে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে ভর্তির এক ঘণ্টা পর বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

মেয়াদ শেষ ৮৫ বছর আগে, ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন

মেয়াদ শেষ ৮৫ বছর আগে, ঝুঁকি নিয়ে চলছে ট্রেন
তিস্তা রেলসেতু, ছবি: বার্তা২৪

লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের একমাত্র তিস্তা রেলসেতুর মেয়াদ শেষ হয়েছে প্রায় ৮৫ বছর আগেই। বর্তমানে রেলসেতুটির কাঠের স্লিপারগুলো প্রায় নষ্ট হয়ে গেছে। অথচ মারাত্মক ঝুঁকি নিয়ে এ সেতু দিয়েই প্রতিদিন ১৮টি ট্রেন ঢাকাসহ সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে চলাচল করছে।

স্থানীয়রা বলছেন, যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এর আগেই নতুন আরকেটি রেলসেতু নির্মাণের দাবি জানান তারা।

জানা গেছে, রাজধানীসহ সীমান্তবর্তী লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম জেলায় সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপনের জন্য তিস্তা নদীর উপর নির্মিত হয় রেলসেতু। নর্দান বেঙ্গল স্টেট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ১৮৩৪ সালে ২ হাজার ১১০ ফুট দৈর্ঘ্যের এ সেতুটি নির্মাণ করে। এর মেয়াদ ধরা হয়েছিল শত বছর। বর্তমানে যার বয়স চলেছে ১৮৫ বছর। অর্থাৎ মেয়াদের প্রায় দ্বিগুণ সময় পার করছে এ রেল সেতুটি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561609713590.jpg

সরেজমিনে দেখা যায়, তিস্তা রেলসেতুসহ লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কয়েকটি রেলসেতুর উপর বসানো অর্ধশত বছরের পুরনো কাঠের স্লিপারের অধিকাংশ নষ্ট হয়ে গেছে। স্লিপারের সঙ্গে লাইন আটকানোর জন্য দুটি পিন দেওয়ার কথা থাকলেও রয়েছে একটি করে। এছাড়া লাইনের ক্লিপ চুরি হওয়ার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে রেলপথ। 

কোনো কোনো স্থানে স্লিপারে লোহার প্লেটই নেই। এছাড়া সেতুর পাশে দুটি লাইনের জোড়ায় ফিসপ্লেটে চারটি নাট-বল্টু থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছে তিনটি। দিনের পর দিন এ পথের রেললাইন ঝুঁকিতে থাকলেও কর্মীদের নজর পড়ে না।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561609728231.jpg

এদিকে, মেয়াদ উত্তীর্ণ তিস্তা রেলসেতুর ভয়াবহতার কথা খোদ রেল বিভাগই স্বীকার করেছে। তবে তাদের দাবি, বিট্রিশ আমলের কাজ দেখে এখনো সেতুটি চলছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সারাদেশে সড়ক ও রেলপথের সকল সেতুর অবকাঠামো জরিপের নির্দেশ দিলেও তার কোনো কার্যক্রম চোখে পড়ছে না।

অবশ্য রেলমন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন সম্প্রতি বলেছেন, ‘বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে নতুন আরেকটি সংযোগ হলেই ঝুঁকিপূর্ণ লালমনিরহাট রেল সেতুর পাশে আরও একটি সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নিবে বাংলাদেশ রেলওয়ে।’

তিস্তা রেল সেতু এলাকার রফিকুল ইসলাম জানান, ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু দিয়ে প্রতিদিন ট্রেন চলাচল করছে। এখানকার মানুষ সব সময় আতঙ্কে থাকে, কখন কোন দুর্ঘটনা ঘটে যায়। দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আগেই সমাধান করা প্রয়োজন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561609745312.jpg

রেলওয়ের লালমনিরহাট বিভাগীয় ম্যানেজার মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘মঙ্গলবার (২৫ জুন) একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী এ বিভাগের (লালমনিরহাট-কুড়িগ্রাম) ছোট বড় ৪০৮টি সেতুর মেরামতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিস্তা রেলসেতু মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও ঝুঁকিপূর্ণ নয়। তবুও তিস্তা রেলসেতুর পশ্চিম পাশে নতুন করে আরও একটি ডাবল ব্রোডগেজ সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে এ সেতু দিয়ে স্বাভাবিকভাবে ট্রেন চলাচল করতে পারবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র