Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

এলেঙ্গা-ভূঞাপুরে উন্নয়ন কাজে কেটে ফেলা হচ্ছে শতবর্ষী গাছ!

এলেঙ্গা-ভূঞাপুরে উন্নয়ন কাজে কেটে ফেলা হচ্ছে শতবর্ষী গাছ!
কেটে ফেলা হচ্ছে শতবর্ষী সব গাছ, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
টাঙ্গাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

এলেঙ্গা-ভূঞাপুর সড়ক বর্ধিত করার লক্ষ্যে কেটে ফেলা হচ্ছে শতবর্ষী বিভিন্ন প্রজাতির গাছ। এতে পরিবেশের মারাত্মক ঝুঁকির সম্ভাবনা রয়েছে।

সড়ক ও জনপদ (সওজ) এর অরবিকালচার ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, এলেঙ্গা-ভূঞাপুর সড়কে বিভিন্ন প্রজাতির ২৭১টি গাছ কয়েকটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ৪৫ লাখ ৬০ হাজার ৭৪৫ টাকায় টেন্ডারের মাধ্যমে ইজারা দেয়া হয়। গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে মেহগনি, কড়ই, আম, শিমুল, রেন্ট্রি, কাঁঠালসহ কয়েকটি প্রজাতির গাছ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/27/1558947255614.jpg
গাছ কেটে ট্রাকে বোঝাই করা হচ্ছে, ছবি: বার্তা২৪

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সড়ক বিস্তৃত করার লক্ষে এলেঙ্গা-ভূঞাপুর-তারাকান্দি সড়কের এলেঙ্গা হতে ভূঞাপুর পর্যন্ত প্রায় ১৭ কিলোমিটার এলাকার সড়কের দুইপাশে কয়েক শতাব্দীর গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে।

টাঙ্গাইল সড়ক ও জনপদ (সওজ) বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আমিমুল এহসান বার্তা২৪.কমকে বলেন, সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় চলমান ১৮ ফুট থেকে ২৪ ফুট ওপরে প্রশস্ত হবে এবং সড়কের ১০টি সেতু পুনর্নির্মিত করা হবে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/27/1558947468725.jpg
কেটে ফেলা হয়েছে গাছগুলো, ছবি: বার্তা২৪

ঢাকা মহানগর কৃষি বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গাছগুলো সড়ক ও জনপদ বিভাগের মালিকানাধীন ছিল। জনসাধারণের নিলামের মাধ্যমে গাছ বিক্রি করা হয়। যার মূল্যে ৪৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা। এর আগে একটি জরিপ পরিচালনা করা হয়েছিল।’

টাঙ্গাইলের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা হারুন-অর-রশিদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘এলেঙ্গা-ভূঞাপুর সড়কের দুই পাশে সামাজিক বনায়ন কর্মসূচির আওতায় ২ হাজার ২২০টি গাছ রোপণ করা হয়েছিল। বর্তমানে এর বয়স ১০ থেকে ১১। এখন প্রয়োজনের তাগিদে গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। সড়কের উন্নয়ন কাজ শেষ হওয়ার পর নতুন গাছ লাগানো হবে।'

আপনার মতামত লিখুন :

গাইবান্ধায় বন্যায় এক লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, ৪ জনের মৃত্যু

গাইবান্ধায় বন্যায় এক লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, ৪ জনের মৃত্যু
গাইবান্ধায় বন্যা কবলিত এলাকা/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধার বন্যার পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদের পানি। এবারের বন্যায় পাঁচটি উপজেলার প্রায় এক লাখ পরিবারের চার লাখ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব মানুষের মাঝে নানান রোগের প্রার্দুভাব ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (২০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত জেলা শহরে প্রবেশদ্বারে চারটি সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিশেষ জরুরি কাজে অনেকে পায়ে হেঁটে হাঁটুপানি দিয়ে শহরে প্রবেশ করছেন। রেল লাইনের উপরে পানি থাকায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গত কয়েকদিনে বন্যার পানিতে ডুবে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। ভেসে গেছে শত শত গবাদিপশু।

এদিকে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সাদুল্লাপুর ও সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও, গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী দুটি উপজেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এখানকার বন্যা পরস্থিতি অবনতি হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563599690325.jpg

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলমান বন্যায় জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সাদুল্লাপুর ও সদর উপজেলার একলাখ ৪ হাজার পরিবারের ৪ লাখ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার কাঁচা রাস্তা ৫১৭ কিলোমিটার, পাকা রাস্তা কিলোমিটার, ১৮ টি কালভার্ট এবং সাড়ে ৫৭ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৬৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৭১ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৭৫ টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা লালন আহমেদ বার্তাটুয়েন্টিফোর.কমকে জানান, শনিবার (২০ জুলাই) সকাল ৯ টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১২৯ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি ৬৯ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর পানি ৫০ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) রোখসানা বেগম বার্তাটুয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গতদের নানান সহায়তা দেওয়াসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। যা চলমান থাকবে।

জামালপুরে বন্যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে

জামালপুরে বন্যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জেলার সাত উপজেলায় ৬২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক ও রেল পথ, তলিয়ে গেছে ১৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। অপরিবর্তিত রয়েছে বন্যার পরিস্থিতি। এ পর্যন্ত ১২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছে ও বকশীগঞ্জে পৃথকস্থানে বন্যার পানিতে ডুবে ৩ জন মারা গেছে ।

শনিবার (২০ জুলাই) সকালে যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার ফলে জেলার ৬২ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুকুরের মাছ, মুরগীর খামার, গরুর খাবার ও ফসলের মাঠ। সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর-দুরমুট, মেলান্দহ, তারাকান্দি রেল স্টেশনে লাইনে পানি উঠায় ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563598827686.jpg
বন্যা পরিস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে 

 

পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যা কবলিত এলাকায় ১১০৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। জামালপুরে বন্যা কবলিত ২ লাখ ৩০০ পরিবারের ১২ লাখ ৭০ হাজারের অধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার শুকনো খাবারের তীব্র অভাবের পাশাপাশি শিশু খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

বন্যা কবলিত এলাকায় ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছে হাজার বানভাসি মানুষ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট বরাদ্দকৃত ত্রাণের পরিমাণ ৮৫০ মেট্রিকটন চাল চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৪ লাখ ৫০ হাজার নগদ অর্থ বরাদ্দ করেছে ।
এদিকে আশ্রয়কেন্দ্রে মেডিকেল টিমের কোন দেখা মেলেনি। কোন বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নেই। ফলে বন্যা কবলিত মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র