Barta24

বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

চিকিৎসক সংকটে রোগী দেখছেন ওয়ার্ড বয়!

চিকিৎসক সংকটে রোগী দেখছেন ওয়ার্ড বয়!
জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের অবর্তমানে রোগী দেখছেন ওয়ার্ড বয় / ছবি: বার্তা২৪
মো.তারেক রহমান
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
চাঁপাইনবাবগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

ডাক্তার দেখানোর জন্য হাতে টিকিট নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে শতাধিক রোগী। চিকিৎসক সঙ্কটের কারণে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। সকাল ৮টায় কর্মে আসা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আজিজুল হক ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভর্তি রোগীর পাশাপাশি তিনি জরুরি বিভাগেরও চিকিৎসা দিচ্ছেন।

রোগীদের ডাকাডাকিতে এ চিকিৎসক যখন ভর্তি রোগীদের দেখতে যান, তখন জরুরি বিভাগের রোগী দেখছেন একজন ওয়ার্ড বয় ও সিনিয়র স্টাফ নার্স। এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।

সোমবার (২৭ মে) সকাল ১০টা থেকে প্রায় আধাঘণ্টা চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে অবস্থান করে এমন চিত্র দেখা গেছে।

এলাকার জালাল উদ্দীন নামে এক রোগীকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসেন বিনোদপুর ইউনিয়নের মো.বিশু। তিনি বার্তা২৪.কমকে জানান, প্রায় ঘণ্টাখানেক অসুস্থ রোগীকে নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। তার পরও তিনি এমবিবিএস চিকিৎসক দেখাতে পারেননি। পরে জালাল উদ্দীনের চিকিৎসা দিয়েছেন হাসপাতালের ওয়ার্ড বয় আশুতোষ ঘোষ ও সিনিয়র স্টাফ নার্স আবদুস সালাম।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/27/1558953445151.jpg

মো.বিশুর মতো এমন অভিযোগ করেছেন সীমান্তবর্তী এলাকার আজমতপুর গ্রামের একরামুল হক। তিনি বার্তা২৪.কমকে জানান, প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূর থেকে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে আসেন। প্রায় পৌনে ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে যখন ওয়ার্ড বয় চিকিৎসা করতে যান, তখন তিনি রাগ করেই চিকিৎসা না নিয়ে হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে আসেন।

একই অভিযোগ চিকিৎসা নিতে আসা অসংখ্য রোগীর।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ২১ জনের। তাদের মধ্যে প্রেশনে সদরে আছেন দু’জন, চারজন কনসালটেন্ড। ছুটি ছাড়াই প্রায় একমাস ধরে আত্মগোপনে আছেন হাসপাতালের টিএইচ ডা.জাহাঙ্গীর হোসেন। ফলে মাত্র পাঁচজন চিকিৎসক দিয়ে কোন রকমে চলছে প্রায় ৫ লাখ মানুষের একমাত্র ভরসার হাসপাতালটি। আর বাকি পদগুলো শূন্য রয়েছে।

জানতে চাইলে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আজিজুল হক বলেন, ‘সকাল ৮টায় ডিউটি শুরু করে সব দিক সামাল দিতে হচ্ছে। আমাকেই আরএমও, টিএইচও এবং জরুরি বিভাগসহ ভর্তি রোগীদের চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। তার পরও যথাসাধ্য রোগীদের সেবা দিয়ে যাচ্ছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/May/27/1558953492981.jpg

তবে ওয়ার্ড বয় দ্বারা চিকিৎসার কথা জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. সাইফুল ফেরদৌস কামাল আর্তাতুত বলেন, ‘শিবগঞ্জ হাসপাতালের চিকিৎসকরা রোগীদের প্রতি সব সময় আন্তরিক। চিকিৎসক সঙ্কট থাকায় বাড়তি ডিউটি করতে হচ্ছে তাদের। তার পরও ওয়ার্ড বয় দিয়ে চিকিৎসা করানোর কথা নয়।’

তার দাবি- আগামী এক মাসের মধ্যে চিকিৎসক সঙ্কটের সমাধান করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, গুরুতর আহত শিশু

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ, গুরুতর আহত শিশু
আহত শিশু মনিরা, ছবি: সংগৃহীত

চলন্ত ট্রেনে পাথর নিক্ষেপ করায় লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মনিরা খাতুন (৮) নামে এক শিশুর রক্তাক্ত জখম হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সকালে আদিতমারী হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছে সে। তবে তার বাম কানের পাশে আঘাত পাওয়া কথা কম শুনতে পাচ্ছে। শিশু মনিরা আদিতমারী উপজেলার পলাশী ইউনিয়নের নামুড়ি মদনপুর গ্রামের গোলাম মোস্তফার মেয়ে। সে স্থানীয় মদনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (২৬ জুন) রাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সোহাগপুর থেকে দাদু সোলায়মান আলীর সঙ্গে ট্রেন যোগে বাড়ি ফিরছল শিশু মনিরা। জানালার পাশেই বসে ছিল সে। পথিমধ্যে হাতীবান্ধা এলাকায় হঠাৎ করে কে বা কারা পাথর নিক্ষেপ করে। সেই পাথরের আঘাতে আহত হয় মনিরা। পরে তাকে আদিতমারী হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়ে বৃহস্পতিবার সকালে তাকে বাড়ি নিয়ে যায়।

মনিরার দাদু সোলায়মান আলী বার্তা২৪.কমকে জানান, ‘হাতীবান্ধা এলাকায় এলে কে বা কারা ট্রেনে পাথর ছুড়ে মারে। এ সময় তার নাতনি মনিরা রক্তাক্ত জখম হয়। বাম কানের পাশে আঘাত পায় সে। হাসপাতালে চিকিৎসাপত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে।’

লালমনিরহাট রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদম আলী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনে পাথর ছুড়ে শিশু আহতের খবর পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

কলার বাগানে সাথী ফসল চাষে লাভবান কৃষকরা

কলার বাগানে সাথী ফসল চাষে লাভবান কৃষকরা
কলার বাগানে সাথী ফসল চাষ, ছবি: বার্তা২৪

কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলায় কলা চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে বিভিন্ন শাক-সবজি চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকরা। এ পন্থা অবলম্বন করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেক চাষি।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, এবার চার হাজার ১৯১ হেক্টর জমিতে কলা চাষ হয়েছে। এরমধ্যে অধিকাংশ জমিতে কলার সাথী ফসল হিসেবে মুগ, কলাই, তিল, পুঁইশাক, লাল শাক, বরবটি, ঢেড়সসহ অন্যান্য সবজি চাষ করা হয়েছে।

মিরপুর উপজেলার কেউপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি আড়াই বিঘা জমিতে কলা চাষ করেছি। কলাবাগানের মধ্যে সাথী ফসল হিসেবে পুঁইশাক, লাল শাক, বরবটি, ঢেড়শ চাষ করেছি। সবজি বিক্রি করে ইতোমধ্যেই এক লাখ টাকা আয় হয়েছে। এখনো কিছু সবজি বিক্রি করা যাবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561603442932.jpg

তিনি আরও বলেন, ‘মিরপুর উপজেলা কৃষি অফিসারের পরামর্শে প্রথমবার এক বিঘা জমিতে কলার পাশাপাশি সবজি চাষ করেছিলাম। কৃষি অফিস থেকে আমাকে কয়েকবার প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়েছে।’

চিথলিয়া এলাকার কৃষক মফিজুল ইসলাম এক বিঘা জমিতে কলার বাগানে মুগ ডালও লাগিয়েছেন। কলা চাষ করতে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৬০ হাজার টাকার কলা বিক্রি হয়েছে। আর বাড়তি ১০ হাজার টাকার মুগ বিক্রি হবে বলে আশা করেন তিনি।

বারুইপাড়া ইউনিয়নের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মাহিরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমরা কৃষকদের বাড়িতে গিয়ে কলার পাশাপাশি সাথী ফসল চাষে উৎসাহ দিচ্ছি। এছাড়াও তাদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণসহ প্রণোদনা দিয়ে সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/27/1561603463185.JPG

কুষ্টিয়া সদর উপজেলার উজানগ্রাম ইউনিয়নের দুর্বাচারা এলাকার আব্দুল লতিফ মোল্লা জানান, দেড় বিঘা জমিতে কলার সঙ্গে তিলের আবাদ করেছেন। তিল থেকে অন্তত ২০ হাজার টাকা বাড়তি আয় হবে বলে আশা তার।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বিষ্ণুপদ সাহা বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘একই জমিতে একাধিক ফসল চাষে আমরা কৃষকদের পরামর্শ দেই। পাশাপাশি সুষম সার ব্যবহারেও উৎসাহ দেওয়া হয়।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র