Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

দৌলতদিয়ায় যাত্রীদের কাজে আসছে না হেল্প ডেস্ক

দৌলতদিয়ায় যাত্রীদের কাজে আসছে না হেল্প ডেস্ক
দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীদের জন্য তৈরি হেল্প ডেস্ক। ছবি: বার্তা২৪.কম
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
রাজবাড়ী


  • Font increase
  • Font Decrease

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে যাত্রীদের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও সহযোগিতার জন্য জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হেল্প ডেস্কটি কোনো কাজে আসছে না। বেশির ভাগ সময়ই বন্ধ থাকায় এই সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে যাত্রীরা। ঘাট এলাকায় এসে কোনো সমস্যায় পড়লে এখান থেকে সহযোগিতা নিতে পারছে না তারা।

জেলা প্রশাসন বলছে, ঈদ উপলক্ষে এখন পর্যন্ত ঘাটে যাত্রীদের চাপ না থাকায় তারা এটি চালু করেনি। তবে শনিবার (১ জুন) দুপুরের পর হেল্প ডেস্ক খোলা থাকবে বলে বার্তা২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর হুসাইন।

এদিকে সরেজমিনে শনিবার দুপুরে হেল্প ডেস্কের সামনে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখা যায়। আর হেল্প ডেস্কের সামনে পাশের বাড়ির কয়েকজন শিশু বসে খেলছে। হেল্প ডেস্কের সাইনবোর্ডের হটলাইনে কল দিলে নয়ন সাহা নামে একজন রিসিভ করেন। পরিচয় দেওয়ার পর তিনি নিজেকে হেল্প ডেস্কের অফিস সহায়ক বলে জানান।

হেল্প ডেস্ক বন্ধ কেন জানতে চাইলে তিনি বার্তা২৪.কমকে জানান, হেল্প ডেস্কের চাবি তার কাছে থাকে না। চাবি দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তৈয়বুর রহমানের কাছে থাকে।

হেল্প ডেস্কের চাবি আছে কিনা জানার জন্য দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তৈয়বুর রহমানকে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেননি। তবে ২০ মিনিট পর দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদের কর আদায়কারী আব্দুর রহমান কয়েকটি চাবি নিয়ে এসে হেল্প ডেস্কটি খোলার চেষ্টা করছে। কিন্তু আব্দুর রহমান অনেক চেষ্টা করেও সেটি খুলতে পারেননি।

চাবি ও তালা খুলতে না পারার ব্যাপারে আব্দুর রহমানকে প্রশ্ন করা হলে কোনো উত্তর দেননি তিনি।

হেল্প ডেস্কের সামনে মুদির দোকানদার ইয়াকুব মণ্ডল বার্তা২৪.কমকে জানান, সব সময়ই এটি বন্ধ থাকে। মাঝে মাঝে যাও খোলে তাও অল্প সময়ের জন্য। আর ঈদের আগে এখানকার স্যাররা একটা ব্যানার টাঙিয়ে কিছু ওষুধ-পানি নিয়ে বসে থাকে। তবে এবার এখন পর্যন্ত খোলেনি।

গোয়ালন্দ পৌর আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নারায়ণ চন্দ্র সাহা বার্তা২৪.কমকে জানান, এখানে বেশ কয়েক বছর আগে যুব উন্নয়নের একটি প্রকল্প চালু ছিল। সে প্রকল্প থেকে মামুন নামে একটি ছেলে সব সময় থাকত। প্রকল্পটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এখন সেও আসে না, এটিও কেউ খোলে না।

এ সময় তিনি জানান, যেহেতু এই ঘাটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। তাই প্রশাসনের উচিত হেল্প ডেস্কটি সার্বক্ষণিকভাবে খোলা রাখা।

ঈদের আর মাত্র কয়েকদিন বাকি, এখনো কেন হেল্প ডেস্ক বন্ধ এমন প্রশ্ন করলে রাজবাড়ীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আলমগীর হুসাইন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আজ শনিবার (১ জুন) দুপুরের পর থেকে এটি খোলা থাকবে। যেহেতু এ কয়দিন ঘাটে যাত্রীদের তেমন একটা ভিড় ছিল না, তাই আমরা এটি চালু করিনি। ঘাট এলাকায় ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের যাতে কোনো ধরনের সমস্যা না হয় সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :

চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
প্রতীকী ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুলাই) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমানগন্ডা ও কালির বাজার এলাকায় এ দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার পূর্ব ধনমুড়ির ওবায়েদুল্লাহর ছেলে নুরুল আলম জাবলু (৩৫), প্রাণ গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের পড়ুয়া গ্রামের জুয়েল মোল্লার ছেলে জোবায়ের (২১) ও ফেনী জেলার কুমিড়া গ্রামের গিত্তলাল দাসের ছেলে শিমুল দাস (২০)।

চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ইমাম হোসেন পাটোয়ারী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, সকাল ৯টার দিকে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা থেকে বাই সাইকেলে করে মিয়াবাজার যাচ্ছিলেন জোবায়ের ও শিমুল। পথে মহাসড়কের আমানগন্ডা এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় তারা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই শিমুল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে জোবায়ের মারা যান।

অপরদিকে কালির বাজার এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় মানসিক প্রতিবন্ধী নুরুল আলম জাবলু নিহত হন।

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্গতদের আহাজারি

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্গতদের আহাজারি
গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধায় বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, যমুনা ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, সাঘাটা ফুলছড়ি, সাদুল্লাপুর উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষদের সহায় সম্বল ভেসে যাচ্ছে। নানান দর্ভোগে পড়ে তাদের মধ্যে আহাজারি শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে পানি তীব্র স্রোতে বেশ কিছু বাঁধ ও রাস্তা-ঘাট ভেঙে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563364202006.gif

গাইবান্ধা শহরের কোম্পানিপাড়ার বাসাবাড়িতে কোমর পানি জমেছে। শহরের পিকে বিশ্বাস রোডের ডিসি, এসপি ও দায়রা জজের বাসভনে হাঁটুপানি জমেছে। শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলো ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিশেষ জরুরি কাজে অনেকে বিকল্প সড়কে আবার কেউ ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563364127351.gif

এদিকে পানিবন্দি মানুষরা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। অনেকে উঁচু রাস্তায় অস্থায়ী ঘর তুলে বসবাস করছে। এসব জায়গা অনেকে স্থান না পেয়ে নৌকায় বা কলাগাছের ভেলায় দিন-রাত কাটাচ্ছে।

বন্যা কবলিত মানুষ গৃহপালিত পশুপাখি ও আসবাপত্র নিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। এসব দুর্গত মানুষদের সরকারিভাবে নানান সহায়তা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বন্যা কবলিত মানুষদের খাদ্য ও আবাসনসহ বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

দূষিত পানি পানে বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন চিন্তায় মাথায় রেখে ইতোমধ্যে নিরাপদ পানি সরবারহে কাজ করেছেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, গাইবান্ধা ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563364150846.gif

এই পরিস্থিতিতে জেলার ৩০টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০০ গ্রামের প্রায় চার লাখ মানুষের সাড়ে ৩৫ হাজার ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাকা-কাঁচা রাস্তা ও বাঁধ এবং ১০টি ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে গেছে। ফসলহানি হয়েছে দুই হাজার একর জমির, ভেসে গেছে চার শতাধিক পুকুরের মাছ।

জেলা শিক্ষা অফিসার হোসেন আলী জানান, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে ঐসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563364177416.gif

পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘বুধবার সকাল পর্যন্ত ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৩৫ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক রোখসানা বেগম বার্তাটুয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। যা বিতরণ চলমান থাকবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র