Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৩০-৩৫ কেজি চালে কী ঈদ হয়?

৩০-৩৫ কেজি চালে কী ঈদ হয়?
বরগুনায় ঘাটে বাঁধা জেলেদের নৌকা। ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
বরগুনা


  • Font increase
  • Font Decrease

পরিবার-পরিজন নিয়ে সবাই যখন ঈদ আগমনের আনন্দে মত্ত, তখন বেকার দিন কাটাচ্ছেন বরগুনার প্রায় ৩৯ হাজার জেলে। ঈদের নামমাত্র আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও কোনো আনন্দ নেই জেলার উপকূলের জেলে পল্লীগুলোতে।

কারণ নিষেধাজ্ঞার কারণে ৬৫ দিন মাছ ধরতে পারবে না তারা। আর মাছ ধরতে না পারলে জেলেদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে যায়। তখন তারা ৩ বেলা ঠিকমতো খেতেও পারে না। ফলে আসছে ঈদের আনন্দও ম্লান হয়ে গেছে তাদের।

এদিকে এই নিষেধাজ্ঞার কারণে সরকারিভাবে ঈদের আগে জেলেদের ৪০ কেজি করে চাল দেওয়ার কথা থাকলেও দিচ্ছে ৩০-৩৫ কেজি করে। জেলেরা বলছে এই চাল দিয়ে কী ঈদ করা যায়?

আর মৎস্য অফিস বলছে, বরগুনার ৩৯ হাজার জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকা পাথরঘাটার জেলে পল্লীগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, নিস্তব্ধ হয়ে আছে মৎস্য ঘাট। নেই জেলেদের কোনো ব্যস্ততা আর হাঁকডাক। প্রায় প্রতিটি জেলে পরিবারেই চলছে টানাপোড়েন। অনেক পরিবারই ঈদের দিন ভালো খাবারের ব্যবস্থা করতে পারবে না বলে জানিয়েছে।

মৎস্যজীবীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকার অধিকাংশ মানুষ নদীতে মাছ ধরেই জীবিকা নির্বাহ করে থাকে। প্রজনন মৌসুমে মাছ ধরা বন্ধ ঘোষণা করা হলেও পুনর্বাসন না করায় চরম বিপাকে পড়েছে তারা।

তালতলীর নলবুনিয়া গ্রামের এমাদুল বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘৩০-৩৫ কেজি চালে কী ৭ জনের সংসারে ঈদ হয়? শুধুই আশা দেখানো ছাড়া আর কিছু না।’

পাথরঘাটা জেলে পল্লীর ফারুক বার্তা২৪.কমকে জানান, তার সংসারে ৮ জন সদস্য। প্রতিদিন মাছ ধরে যে অর্থ পেতেন তা দিয়ে কোনো রকমে দিন চলে যেত। ৬৫ দিন মাছ ধরা বন্ধের কারণে সংসার চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন। ঈদে কাউকে নতুন পোশাক কিনে দিতে পারেননি তিনি।

জেলে জাহাঙ্গীর জানান, তারা অনেকেই মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে জাল ও নৌকা কিনেছেন। কিন্তু সে টাকা এখন পরিশোধ করতে পারছেন না।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিষয়টি বিবেচনা করে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছিলাম। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৪০ কেজি করে চাল পাচ্ছে জেলেরা।

জেলা প্রশাসক মো. কবীর মামুদ বার্তা২৪.কমকে জানান, বরগুনা জেলায় ৩৯ হাজার জেলেকে ৪০ কেজি করে চাল দেয়া হচ্ছে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্রেমের টানে লক্ষ্মীপুরে মার্কিন নারী

প্রেমের টানে লক্ষ্মীপুরে মার্কিন নারী
স্বামী সোহেলের সঙ্গে মার্কিন নাগরিক সারলেট, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

প্রেম-ভালোবাসা মানে না কোনো বাধা। আর সেই প্রেমের টানেই দেশ ছেড়েছেন মার্কিন নারী সারলেট। সুদূর আমেরিকা ছেড়ে এসে ঘর বাঁধলেন বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের শ্রীরামপুর গ্রামে।

শ্রীরামপুর গ্রামের সফিক উল্যার ছেলে সোহেল হোসেনকে বিয়ে করে এখন তিনি বাংলাদেশের বধূ। তাকে দেখতে আশপাশের মানুষ ভিড় জমায় সোহেলদের বাড়িতে।

শ্রীরামপুর গ্রামের বাসিন্দারা জানায়, ২০১৩ সালের ৪ নভেম্বর ফেসবুকের মাধ্যমে তাদের পরিচয়। এরপর বন্ধুত্ব-প্রেম। দুই দেশের দুই সংস্কৃতি থাকলেও শেষ পর্যন্ত ভালোবাসারই জয় হয়েছে। উভয়ের পরিবার মেনে নেওয়ার পর ১২ জুলাই বাংলাদেশে আসেন সারলেট।

প্রেমের টানে লক্ষ্মীপুরে মার্কিন নারী

মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বরণ করে নেয়া হয়। ভিনদেশি হলেও পুত্রবধূকে দেখে বেশ খুশি সোহেলের মা-বাবা।

এদিকে মার্কিন এই নারীকে দেখতে আসেন আশপাশ এলাকার বিভিন্ন বয়সী হাজারো নারী-পুরুষ। সারলেটর বাড়ি আমেরিকার নিউজার্সিতে। এর আগে ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই বাংলাদেশে তাদের বিয়ে হয়।

স্বামী সোহেল হোসেন বলেন, 'সাত বছর আগে ফেসবুকের মাধ্যমে সারলেটের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর তার সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে উঠে। একপর্যায়ে আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়। এরপর সারলেট বাংলাদেশে আসে। ২০১৬ সালের ১৭ জুলাই আমরা বিয়ে করেছি। পরে সে আমেরিকায় চলে যায়। ১২ জুলাই পুনরায় বাংলাদেশে আসলে আমাদের গ্রামের বাড়িতে আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে বরণ করে নেওয়া হয়।'

প্রেমের টানে লক্ষ্মীপুরে মার্কিন নারী

সোহেলের বাবা সফিক উল্যা বলেন, 'আমরা ছেলের বিয়েতে বেশ খুশি। এ বিয়ের মাধ্যমে প্রেমের জয় হয়েছে। আমার ছেলে ও তার বউয়ের জন্য সবাই দোয়া করবেন।'

জানতে চাইলে দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আহসানুল কবির রিপন বলেন, 'মার্কিন নারী আমাদের এলাকার বধূ। এ নিয়ে এলাকায় কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে। তাকে এক নজর দেখতে মানুষজন ওই বাড়িতে ভিড় করছে।'

কচুয়ায় খাল দখলের হিড়িক

কচুয়ায় খাল দখলের হিড়িক
খাল দখল করে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম।

চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার ভূমি কর্মকর্তাদের অবহেলার কারণে অধিকাংশ ছোট ও বড় খাল স্থানীয় প্রভাবশালীদের দখলে চলে গেছে। একজনকে দখল করতে দেখে অন্যরাও খাল ভরাট করে সেখানে ভবন নির্মাণ করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছে। তবে খাল দখলের এমন হিড়িকে নীরব ভূমিকায় রয়েছে প্রশাসন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, কচুয়া বাজার খাল, হাজীগঞ্জ খাল, পরানপুর খাল, সাচার খাল, নায়েরগাঁ খাল, বড়দৈল খাল, রঘুনাথপুর খাল, কাপিলা বাড়ি খাল, বাখৈইয়া খাল, সাপলোলা খাল ও সুন্দরী খালসহ বেশকিছু খাল দখল করে নিয়েছে স্থানীয়রা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563367358595.jpg

সরেজমিনে আরও দেখা গেছে, খালের উপরে কেউ বাঁধ নির্মাণ করে বাড়িতে আসা যাওয়ার পথ তৈরি করেছে, আবার কোথাও কোথাও খাল ভরাট করে দোকানপাট নির্মাণ করে ব্যবসা-বাণিজ্য পরিচালনা করছে।

এতে খালের পানি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মাঠে ঘাটে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ কারণে ফসল উৎপাদনে মারাত্মকভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয়।

এ বিষয়ে কচুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রুমন দে জানান, খালগুলো দখলমুক্ত করতে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়া চলতি মাস থেকে খালগুলো উদ্ধারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র