Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পঞ্চগড় স্টেশনে নেই ফিরতি টিকিট, মিলছে কালোবাজারে

পঞ্চগড় স্টেশনে নেই ফিরতি টিকিট, মিলছে কালোবাজারে
লাইনের পাশ থেকে কালোবাজারি টিকিট বিক্রির চেষ্টা করছেন এক ব্যক্তি / ছবি: বার্তা২৪
মোহাম্মদ রনি মিয়াজী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
পঞ্চগড়


  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম রেলওয়ের স্টেশনে ঈদে ফিরতি টিকিট পাচ্ছেন না যাত্রীরা। কিন্তু বাড়তি দামে কালোবাজারিদের কাছে মিলছে টিকিট।

অভিযোগ আছে, ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে ওঠছে একটি চক্র। ফলে ঈদের ফিরতি টিকিট কাউন্টারে পাওয়ার কথা থাকলেও তা পাওয়া যাচ্ছে কালোবাজারে। যা নির্ধারিত দামের তিনগুণ দামে সংগ্রহ করতে হচ্ছে যাত্রীদের।

গত ৩০ মে থেকে পঞ্চগড়-ঢাকা রুটে ট্রেনের ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হয়। কিন্তু পঞ্চগড়ের জন্য বরাদ্দকৃত টিকিট কালোবাজারিদের হাতে চলে যাওয়ায় হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হচ্ছেন ভুক্তভোগীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/03/1559560184641.jpg

সূত্রে জানা গেছে, স্টেশনের আশপাশের স্থানীয় বাসিন্দা, স্টেশনের সামনের বিভিন্ন দোকানদারসহ, স্টেশনের পাশে কর্মরত মহিলা, ভিক্ষুক এমনিকি টোকাইরাও লাইনে দাঁড়িয়ে এসি ও নন এসির টিকিট কিনছে। যা পরবর্তীতে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করা হচ্ছে সাধারণ যাত্রীদের কাছে।

যাত্রীদের অভিযোগ, কাউন্টারে কোনো টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। তবে কালোবাজারে শোভন চেয়ারের নির্ধারিত মূল্য ৫৫০ টাকা হলেও সেটি এক হাজার ৩০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকায়, এসি চেয়ার এক হাজার ৫৩ টাকা নির্ধারিত মূল্য থাকলেও আড়াই থেকে তিন হাজার টাকায় কিনতে হচ্ছে। এবারই প্রথম পঞ্চগড়ের স্টেশন থেকে টিকিট কাটছেন যাত্রীরা। কিন্তু বেশিরভাগ টিকিট প্রত্যাশীদের খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। প্রশাসন ও রেলওয়ে কতৃপক্ষ বিষয়টি আমলে না নিলে আবারও বাসের দিকে ঝুঁকবেন অনেকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/03/1559560236371.jpg

মুসলিম উদ্দিন নামে এক যাত্রী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আজ (শনিবার) সেহেরির পর রেলস্টেশনে গিয়ে দেখি দেড় শতাধিক লোকের লাইন। তবে তাদের কেউ যাত্রী না, সবাই সিন্ডিকেট সদস্য।’

তিনি আরও বলেন, ‘কালোবাজারে অতিরিক্ত দামে টিকিট বিক্রি হলেও প্রশাসন ও রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

সানাউল্লাহ নামে আরেক যাত্রী বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গত শুক্রবার ফিরতি টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে দীর্ঘ লাইন দেখি। পরে লাইনের পাশ থেকে কয়েকজন কাছে গিয়ে টিকিট লাগবে কিনা জানতে চায়। অনেকে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে টিকিট নিয়ে ফিরছেন। আবার অনেকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট না নিয়েই বাড়ি ফিরছেন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/03/1559560426790.jpg

পঞ্চগড়ের মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম স্টেশনের মাস্টার মোশারফ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘যারা লাইনে দাঁড়িয়েছে তারা ঠিকই টিকিট পাচ্ছে। তবে কালোবাজারির বিষয়টা আমার জানা নেই।’

আপনার মতামত লিখুন :

প্লাবিত এলাকায় দোকানপাট বন্ধ, খাবার সংকট চরমে

প্লাবিত এলাকায় দোকানপাট বন্ধ, খাবার সংকট চরমে
প্লাবিত এলাকায় দোকানপাট বন্ধ খাবার সংকট চরমে, ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা থেকে: আসমা বেগম। তিন দিন ধরে অনাহারে আছেন। পানিবন্দী হয়ে ঘরে থাকায় চুলোয় রান্না করেনি। তার কোমর পানির মতো গ্রামের বেশ কিছু দোকান পানিতে ডুবে আছে। নিকটে দোকান থেকেও খাবার চিনতে না পারায় আসমা বেগমের মত প্লাবিত এলাকার অনেক মানুষই আছেন অনাহারে-অর্ধাহারে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের আনন্দবাজারে থাকেন লতিফ মিয়া। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, পানি বাড়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রেখেছে। এ কারণে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় খাবার কিনে রান্নাবান্না করতে পারছে না। অনেকেই এখন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।

দোকানপাট বন্ধ রাখার এ অবস্থা গাইবান্ধার সাত উপজেলার পানিবন্দী হাটবাজারে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বন্যা কবলিত সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বেশিরভাগ বাজারগুলোতে কম সংখ্যক দোকান খোলা থাকতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, গাইবান্ধার পানিবন্দী এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বন্যা কবলিত এলাকার বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত নিম্নাঞ্চলের মত শহরতলীর অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563489852368.jpg

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রমশ পানি বাড়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু রাস্তা ও বাঁধের ওপর অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন। এ সব মানুষদের ভিড়ে ছোট-বড় অনেক দোকান মালিক রয়েছেন। পানিবন্দী পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলছেন না তারা। তবে কিছু কিছু এলাকায় হাঁটু পানির নিচে ডুবে থাকা দোকানপাট খোলা রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জের উত্তরপরাণের বানভাসি ইদ্রিস আলী বলেন, ‘কোনো ত্রাণ না পেলেও স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবার আশ্রিতদের মাঝে খিচুরি বিতরণ করেছেন। সব ব্যবসায়ী দোকান খোলা রাখলে অন্তত এই দূর্ভোগে পেটে কিছু খাবার দেয়া যাবে।

বর্তমানে গাইবান্ধার সাত উপজেলার এক লাখ পরিবারের অন্তত সাড়ে ৪ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দী রয়েছেন । এ সব মানুষদের মধ্য থেকে ১৬১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছে মাত্র ৬১ হাজার। বাকিরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিশেহারা হয়ে উঠেছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের দাবি নৌযান সংকট থাকলেও পানিবন্দী মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। যা বিতরণ চলমান থাকবে।

বন্যা কবলিত এলাকায় নৌযান সংকট চরমে

বন্যা কবলিত এলাকায় নৌযান সংকট চরমে
বন্যা কবলিত এলাকায় নৌযান সংকট চরমে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধা থেকে: গত দুই সপ্তাহের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে অস্বাভাবিকহারে পানি বেড়েছে ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীতে। নদীর বুক উঁচিয়ে প্লাবিত হয়েছে গাইবান্ধা জেলার বহু চর চরদীপ ও নিম্নাঞ্চল। হু হু করে পানি বাড়ায় এখন শহরের অলিগলিও হাঁটু পানির নিচে। এতে করে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ভেঙ্গে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় গাইবান্ধার বন্যা কবলিত মানুষের পাশে ত্রাণ পৌঁছে দিতে নৌযানের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে করে দুর্গম এলাকায় পানিবন্দী মানুষদের হাতে প্রশাসনের ত্রাণ পৌঁছানো কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয় বন্যাকে ঘিরে নৌযান ব্যবসায়ীরাও ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন।

গাইবান্ধার সাত উপজেলার এক লাখ পরিবারের অন্তত সাড়ে ৪ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দী। এ সব মানুষদের মধ্য থেকে ১৬১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছে মাত্র ৬১ হাজারের মতো মানুষ।

বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হওয়ায় চলাচলের জন্য ছোট-বড় ডিঙ্গি নৌকার কদর বেড়েছে। এদিকে নৌযান সংকটের কারণে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা গ্রামে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সহযোগিতা ও ত্রাণ সহসাই পাচ্ছেন না পানিবন্দী মানুষ। আবার কোথাও কোথাও নৌযান ব্যবসায়ীরা বন্যা কবলিত দুর্গম এলাকায় যেতে নারাজ বলে জানা গেছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563486291192.jpg

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নে তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ-মাদরাসা সবই এখন পানির নিচে। অথৈ পানিতে ডুবে আছে দীর্ঘদিনের চেনা পথঘাটও। এই ইউনিয়নের আনন্দবাজারে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-এর সঙ্গে কথা হয় নৌকা চালক লালন মিয়ার। ইঞ্জিনচালিত নৌকার এই চালক বালাসীঘাট যেতে ৪ হাজার টাকা দাবি করেন।

হঠাৎ ভাড়া বেশি চাওয়ার যুক্তি হিসেবে বলেন, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো অশান্ত হয়ে উঠেছে ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র নদী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব চরাঞ্চল নদী এলাকায় যেতে হচ্ছে। অন্য নৌকা চালকরাও যেতে চাচ্ছেন না। তাই মালিকের হিসেব মতো ভাড়া বেশি।

আনন্দবাজারের পাশে গলাকাঁচি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে কথা হয় আনসার আলীর সাথে। সত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধ জানান, তিন দিন ধরে অসুস্থ থাকার পরও নৌযান সংকটের কারণ এই শহরে যেতে পারছেন না তিনি।

এদিকে জেলা প্রশাসনের দাবি নৌযান সংকট থাকলেও পানিবন্দী মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। যা বিতরণ চলমান থাকবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র