ক্ষতিগ্রস্ত হাঁস খামারি কাশেমের পাশে ছাত্রলীগ

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, নেত্রকোনা, বার্তা২৪.কম
ক্ষতিগ্রস্ত হাঁস খামারি কাশেমের পাশে ছাত্রলীগ, ছবি: বার্তা২৪.কম

ক্ষতিগ্রস্ত হাঁস খামারি কাশেমের পাশে ছাত্রলীগ, ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ছবিলা গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত হাঁস খামারি শারীরিক প্রতিবন্ধী আবুল কাশেমের পাশে দাঁড়িয়েছে ছাত্রলীগ। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানীর নির্দেশে মঙ্গলবার (১১ জুন) বিকেলে নেত্রকোনা জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সম্পাদক সোবায়েল আহমদ খান আবুল কাশেমের হাতে ২শ হাঁসের মূল্য বাবদ ২৮ হাজার টাকা তুলে দেন।

রোববার (৯ জুন) আবুল কাশেমের ৪১৩টি হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলার অভিযোগ উঠে। গত রোববার বিকেলে উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ছবিলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি তাৎক্ষণিক পুলিশকে জানান ওই খামারি আবুল কাশেম।

এসব হাঁসের দেওয়া ডিমের উপার্জনে শারীরিক প্রতিবন্ধী আবুল কাশেম সংসার চালাতেন। মরে যাওয়া হাঁসের বাজার মূল্য প্রায় আড়াই লাখ টাকা ছিল বলে জানান তিনি।

ঘটনার বিষয়ে হাঁস খামারের মালিক আবুল কাশেম জানান, রোববার সকালে প্রতিদিনের মতো ১৭শ’ হাঁসকে হাওড়ের পরিত্যক্ত খাবার খেতে ছেড়ে দেন। হাঁসগুলো বাড়ির খামার থেকে বেরিয়ে পাশের একটি পরিত্যক্ত ধান ক্ষেতে খাবার খায়। খাবার খাওয়ার কয়েক মিনিট পরেই হাঁসগুলো মারা যেতে শুরু করে।

আবুল কাশেমের ধারণা, ওই ধান ক্ষেতে কেউ হয়ত শত্রুতাবশত বিষ দিয়ে রেখেছিল। এজন্য হাঁসগুলো এক এক করে দ্রুত মারা যায়।

প্রতিবন্ধী খামারির হাঁস মারা যাওয়ার বিষয়টি নজরে এলে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী তার ফেইসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন। ওই স্ট্যাটাসে তিনি লিখেন, ‘নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার বলাইশিমুল ইউনিয়নের ছবিলা গ্রামের হতদরিদ্র আবুল কাশেম। শারীরিক প্রতিবন্ধী কাশেম ভাই কায়িক শ্রমের কাজ করতে পারেন না বলেই মোটা সুদে ঋণ করে হাঁসের খামার করেছিলেন ভাগ্য ফেরানোর আশায়। বিধি বাম! দুর্বৃত্তদের প্রয়োগ করা বিষে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে তার বেঁচে থাকার অবলম্বন প্রায় ৮০০ হাঁস!’

‘আমরা বাংলাদেশ ছাত্রলীগ পরিবার অসহায় আবুল কাশেম ভাইয়ের পাশে দাঁড়াব। সারা দেশের লাখো লাখো ছাত্রলীগ কর্মীর মাঝে আমরা ৮শ’ কর্মী যদি একটি করে হাঁসের দায়িত্ব নেই, কাশেম ভাইয়ের পরিবার আবার বাঁচার অবলম্বন পাবে।’

‘আমি আজ কথা বলেছি তার সাথে, ইনশাআল্লাহ- আমরা সবাই মিলে কাশেম ভাইয়ের পাশে থাকবো। দ্রুতই ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে তাকে ৮শ’ হাঁস কিনে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। মানুষ মানুষের জন্য, জীবন জীবনের জন্য।’

জেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সোবায়েল আহমেদ খান গোলাম রব্বানীর নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেলে আবুল কাশেমের বাড়িতে যেয়ে ২শ’ হাঁসের দাম ২৮ হাজার টাকা তার হাতে তুলে দেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন- উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল হক ফকির, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ফজলু মিয়া, জেলা ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক সৈয়দ আল রাকিব, সদস্য সাইফুল ইসলাম শুভ্র, মো. করিম, ওবায়দুর রহমান খান, সাইফুল ইসলাম লালন, জাহিদ হাসান প্রান্ত, তানভীর হাসান বাধন, জাহিদুল হাসান জিকু, তাকবির হোসেন, সাদ সাদেক, আব্দুল্লাহ আল মামুন, মো. মুরসালিন, রাকিব তুষার, মাহফুজুর রহমান পিয়াস, সানোয়ার সাকলাইন, সারিমূল ইসলাম সানি ও সানিমূল ইসলাম তুহিন প্রমুখ।

এ প্রসঙ্গে খামার মালিক আবুল কাশেম জানান, ছাত্রলীগ নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা আমাকে হাঁস কেনার টাকা দিয়েছেন। আমি এখন ছেলে-মেয়ে নিয়ে চলতে পারবো।

সোবায়েল আহমদ খান জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী ভাইয়ের সাথে কথা বলে তার পক্ষে তিনি এই সহায়তা করেছেন।

আপনার মতামত লিখুন :