Alexa

নাটোরে আমের বাজার ক্রেতাশূন্য, দামও কম

নাটোরে আমের বাজার ক্রেতাশূন্য, দামও কম

আম নিয়ে অলস সময় পার করছেন ব্যবসায়ী / ছবি: বার্তা২৪

প্রশাসন থেকে সংগ্রহের সময় বেঁধে দেওয়ায় নাটোরের বাজারে এক সঙ্গে এসেছে তিনটি জাতের আম। এ প্রতিযোগিতায় আম হারিয়েছে দাম আর বাজার হারিয়েছে ক্রেতা। আমের দাম কমে যাওয়ায় হতাশ চাষিরা। কম দামে কেনা এসব আম ফেরি করে বিক্রি করতে গিয়েও একই দশা মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। 

এদিকে, গত বছর থেকে প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে আম পাড়তে গিয়ে আর লাভের মুখ দেখেনি এখানকার আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা। এ বছরও লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা তাদের। তাই আম উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে প্রশাসনিক সময়সীমা কোনো সুফল বয়ে আনছে না বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে তারা সকরারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান।

জানা যায়, নাটোর জেলা প্রশাসন গত ১৫ মে থেকে আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দেয়। সে অনুযায়ী বাজারে এখন পর্যন্ত গুটি আম, হিমসাগর, ল্যাংড়া, লক্ষণভোগ ও নাকফজলি আমের সরবরাহ থাকার কথা থাকলেও নেই লক্ষণভোগ ও নাকফজলি আম। আগামী ২৫ শে জুলাইয়ের মধ্যে বাজারে আসার অপেক্ষায় আছে আম্রপালি, বারি-৪, আশ্বিনা ও গৌরমতি আম।

স্থানীয় আম চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, এমনিতেই চলতি মৌসুমে আমের উৎপাদন বেড়েছে নাটোরে। তার উপর একাসঙ্গে বাজারে আসায় সরবরাহ আধিক্যে আমের বাজার নিম্নমুখী। বাজারে আমের মধ্যে ল্যাংড়া ও গুটি আম বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় ও হিমসাগর ১ হাজার ৪০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায়। তবে এসব আম ফেরি করে এলাকা ঘুরে ঘুরে কেজি প্রতি ৪০ থেকে ৭০ টাকা কেজি পর্যন্ত বিক্রি করছে মৌসুমি বিক্রেতারা।

আমের দাম পড়ে যাবার কারণ হিসেবে চাষিরা বলছেন, রমজান মাসের শেষদিকে একসঙ্গে বাজারে সব আম আসায় মৌসুমে ব্যবসার শুরুতেই ধাক্কা খেয়েছেন তারা। ক্রেতা না থাকায় আম গাছেই পাকে তখন। এভাবে নিম্নদরে আম বিক্রি শুরু হওয়ায় হতাশ হয়ে পড়েন আম চাষিরা।

বুধবার (১০ জুন) বাগাতিপাড়া থেকে নাটোর রেলস্টেশন বাজারে আম নিয়ে আসা চাষি খয়ের উদ্দীন বার্তা২৪.কমকে জানান, স্থানীয় বাজারে ক্রেতার অভাবে ফলন ভালো হওয়া সত্বেও শহরে এনে আম বিক্রি করতে হচ্ছে।

নলডাঙ্গার মাধনাগর গ্রামের অরেক আম চাষি রফিকুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, বেধে দেওয়া সময়ে সংগ্রহের পরও বিক্রি না হওয়ায় আম পেকে পেকে পচে যাচ্ছে। তাই পাকা আমগুলো শুকিয়ে আমতা তৈরি করেছেন তিনি।

একই দিন শহরের বড়গাছা পালপাড়া এলাকায় ফেরি করে ক্যারেটভর্তি আম বিক্রি করতে দেখা যায় মৌসুমি ব্যবসায়ীদের। হাফিজুল ইসলাম নামের একজন ব্যবসায়ী বার্তা২৪.কম বলেন, ‘এবার মানুষ আম খাচ্ছে কম। কিন্ত বাজারে আম প্রচুর। মানুষের দোরগোড়ায় এনেও আম কেনাতে বেগ পেতে হচ্ছে।’

গুরুদাসপুর উপজেলার মজারাজপুর গ্রামের ব্যবসায়ী মেরাজ উদ্দীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রশাসনিক সময়সীমায় আম উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে কোনো সুফল বয়ে আনছে না। ক্রেতারাও আম কিনছেন না। ফলে সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনা করা দরকার।’

আম-লিচুর সর্ববৃহৎ মোকাম নাটোর স্টেশন বাজারের আম ব্যবসায়ী সিরাজুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘চলতি মৌসুমে বাজারে আমের সরবরাহ অনান্যবারের চেয়ে তুলনামূলক বেশি। রোজার মাঝামাঝি সময় আম বাজারে আসায় বিক্রি কম ছিল। এখন আমের সরবরাহ পর্যাপ্ত কিন্ত ক্রেতা কম হওয়ায় দামও কম।’

আপনার মতামত লিখুন :