Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

যশোরে মাদরাসা ছাত্র হত্যা: পলাতক শিক্ষক গ্রেফতার

যশোরে মাদরাসা ছাত্র হত্যা: পলাতক শিক্ষক গ্রেফতার
গ্রেফতার শিক্ষক হাফিজুর / ছবি: সংগৃহীত
আজিজুল হক
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বেনাপোল (যশোর)
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বলাৎকারে ব্যর্থ হয়ে আক্রশে খুন হওয়া মাদরাসা ছাত্র শাহাপরান (১১) হত্যা মামলার পালাতক আসামি শিক্ষক হাফিজুরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২জুন) দুপুর ১টায় শার্শা থানা পুলিশ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায়।

এর আগে ভোরে খুলনা জেলার দিঘলিয়া উপজেলার একটি কওমি মাদরাসার ভেতর থেকে হাফিজুরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামি হাফিজুর বেনাপোলের কাগজপুকুর খেদাপাড়া হেফজুল কোরান হাফিজিয়া মাদরাসার শিক্ষক। হত্যাকাণ্ডের শিকার ছাত্র ওই মাদরাসার ছাত্র এবং কাগজপুকুর গ্রামের শাহাজান আলীর ছেলে।

সংবাদ সম্মেলনে শার্শার নাভারণ সার্কেলের সহকারী পুলশি সুপার জুয়লে ইমরান জানান, অভিযুক্ত মাদরাসা শিক্ষক হাফিজুরকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তিনি অনেকদিন ধরে ছাত্র শাহাপরানকে বলাৎকারের চেষ্টা করে আসছিল। কিন্তু বার বার ব্যর্থ হয়। এক পর্যায়ে হাফিজুর তার আক্রোশ মেটাতে ছাত্র শাহাপনারকে বেড়ানোর কথা বলে গত ৩১ মে শার্শার গোগা গ্রামে নিয়ে যান। পরে তাকে নিজ ঘরে শ্বাসরোধে হত্যা করে মহাদেহ খাটের নিচে রাখে। পরে ঘরে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যান হাফিজুর।

তিনি আরও জানান, ২ জুন ওই ঘর থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে প্রতিবেশিরা পুলিশকে খবর দেয়। এ সময় পুলিশ এসে ছাত্রের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের এ কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন স্থানে আসামিকে আটকের জন্য অভিযান চালানো হয়। তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযান পরিচালানা করলেও তাকে আটক করা যায়নি। অবশেষে বুধবার ভোরে দিঘলিয়া উপজেলার একটি কওমি মাদরাসা থেকে শিক্ষক হাফিজুরকে গ্রেফতার করা হয়।

এদিকে এ হত্যার ঘটনায় উপযুক্ত বিচার দাবি করে আসছেন শাহাপরানের পরিবার। তারা বলেন, সততা আর আদর্শ নিয়ে মানুষ গড়ার স্বপ্নে ছেলেকে মাদরাসায় ভর্তি করেছিলাম। কিন্তু আমাদের সব স্বপ্ন ওই শিক্ষকের লালসার কাছে মিথ্যা হয়ে গেছে। আর কাউকে যেন এমনভাবে জীবন দিতে না হয়।

এ জন্য উপযুক্ত বিচার দাবি করেন শাহপরানের পরিবারের সদস্যরা।

এদিকে শিক্ষক হাফিজুরকে আটকের আগে তার আত্মীয় স্বজনকে আটক করে পুলিশের বিপুল পরিমাণে অর্থ বাণিজ্য হয়েছে, এমন গুঞ্জন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমিও শুনেছি। কিন্তু যাদের নিকট থেকে অর্থ বাণিজ্য হয়েছে, তাদের আমি ডেকে জিজ্ঞাসা করলে এর কোনো সত্যতা মেলেনি।’

আপনার মতামত লিখুন :

১৪ দিন ধরে অচল বেনাপোল কাস্টমসের স্ক্যানার

১৪ দিন ধরে অচল বেনাপোল কাস্টমসের স্ক্যানার
বেনাপোল স্থলবন্দরের স্ক্যানার, ছবি: বার্তা২৪

বেনাপোল স্থলবন্দরের কাস্টমস চেকপোস্টে চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবহৃত একমাত্র স্ক্যানারটি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অচল হয়ে আছে। এটি মেরামতে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ মূল্যবান সামগ্রী পাচারের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবহৃত এই স্ক্যানারটি প্রতিমাসে একবার করে অচল হয়। এতে চেরাকারবারীরা এ পথ দিয়ে নির্ভয়ে পাচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, মেশিনটির যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে দেশে পাওয়া যায় না। ফলে মেরামতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে বেনাপোল দিয়ে চিকিৎসা,ব্যবসা ও ভ্রমণসহ বিভিন্ন কাজে যাত্রীদের যাতায়াত বেশি। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার যাত্রী যাতায়াত করছে। তেমনি অনুন্নত অবকাঠামোর কারণে, চোরাচালানীরাও এ পথকে নিরাপদ ভেবে স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী যাত্রীর ছদ্দবেশে পাচার করছে। বেনাপোল কাস্টমসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এ সমস্ত চালানের অধিকাংশ আটক হচ্ছে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে।

বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে গিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যাত্রীর ব্যাগেজ পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত স্ক্যানারটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে আছে। ব্যাগ পরীক্ষা না করেই কাস্টমস সদস্যরা সব ধরনের যাত্রীদেরকে ভারত প্রবেশে অনুমতি দিচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী পারভেজ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রতি বছর এপথ দিয়ে যে পরিমাণ যাত্রী যাতায়াত করে তা থেকে সরকার প্রায় শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত যাত্রী সেবা নেই কাস্টমসে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়নও নেই। এ প্রকার দুর্ভোগ ও হয়রানির মধ্য দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া কাস্টমসের সহযোগিতায় অবাধে পাচার হচ্ছে অনেক পণ্য। এতে কাস্টমসের কারও পকেট ভারী হলেও সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।’

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, স্ক্যানার অচল থাকায় পাচারের সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। পাঁচ হাজার যাত্রীর ব্যাগ তো আর হাতে তল্লাশি করা যায় না। বিষয়টি কাস্টমসের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এছাড়া যে যন্ত্রটি নষ্ট হয়েছে তার মূল্য ১২ লাখ টাকা। দেশেও এটি কিনতে পাওয়া যায় না। তাই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

বিতর্কের মুখে মোছা হলো শহীদ স্মৃতিফলকের নাম

বিতর্কের মুখে মোছা হলো শহীদ স্মৃতিফলকের নাম
ছবি: বার্তা২৪

বিতর্ক থাকায় নির্মাণের প্রায় ১৫ বছর পর মুছে ফেলা হয়েছে সাতক্ষীরা কালেক্টরেট চত্বরে স্থাপিত শহীদ স্মৃতিফলকের সব নাম। যাদের নাম ছিল তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী মানুষ, এমন অভিযোগ থাকায় স্মৃতিফলক নির্মাণের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

২০০৫ সালের মে মাসে ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে ওই ফলক নির্মাণ কাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। ওই বছরের ৯ জুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩১ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সাতক্ষীরার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠায়। সেই তালিকা অনুযায়ী মার্বেল পাথরে নাম খোদাই করে বসানো হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হয়।

এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মোশারাফ হোসেন মশু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ফলকে যাদের নাম বসানো হয় তাদের মধ্যে কলারোয়ার বাগডাঙ্গা গ্রামের গোলাম রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ও রাজাকার ছিলেন। এছাড়াও আশাশুনির রফিকুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হক এবং তালার সৈয়দ আবুল হোসেন বেদার বখত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। আরও একাধিক নাম নিয়ে বিতর্ক থাকায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসতেন না।’

উপজেলা কমান্ডার হাসানুল ইসলাম ও গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান বাবু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘২০১২ সালে স্মৃতিফলক থেকে বিতর্কিতদের নাম মুছতে মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে যান এবং কালি দিয়ে বেশ কিছু নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেন।’

মৃক্তিযোদ্ধাদের দাবি, স্মৃতিফলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী রাজাকার ও অমুক্তিযোদ্ধার নাম থাকলেও ১৭ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম স্থান পায়নি। তাদের মধ্যে ছিলেন- এ বি এম নাজমুল আবেদীন খোকন, মুনসুর আলী, আব্দুস সামাদ, আব্দুর রহমান, শাহাদাৎ হোসেন, আব্দুল ওহাব, গোলজার আলী, জাকারিয়া, নূর মোহাম্মদ, সোহরাব হোসেন, আবু দাউদ বিশ্বাস, নূল ইসলাম কারিগর, সুবেদার ইলিয়াস খান, আবুল কালাম আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, মো. মোজাম্মেল হক ও মো. ইউনুস আলী।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিতর্ক থাকায় ওই নাম ফলকটি তুলে ফেলতে গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলোচনা করে ও গেজেট দেখে প্রকৃত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বসানো হবে। আর যদি ঐক্যমতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে নাম ছাড়াই ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ’ হিসেবে সেটি থাকবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র