Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

নামেমাত্র চিকিৎসা হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে

নামেমাত্র চিকিৎসা হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে
হরিরামপুর উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
খন্দকার সুজন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
মানিকগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

মেডিসিন, সার্জারি, গাইনি ও ডেন্টাল সার্জনসহ মোট সাতজন চিকিৎসক রয়েছেন মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। প্রশিক্ষণের কারণে হাসপাতালে উপস্থিত নেই চারজন। সংযুক্তিজনিত কারণে আরও দুই জন চিকিৎসক অনুপস্থিত। সব মিলিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবার জন্য একমাত্র ভরসা গাইনি চিকিৎসক।

এদিকে ইউনিয়ন উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে চিকিৎসক এনে কোনরকমে সচল রাখা হয়েছে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা। গুরুতর অসুস্থ কোন রোগী হাসপাতালে আসামাত্রই রেফার্ড করা হচ্ছে অনত্র। এভাবেই নামেমাত্র চিকিৎসাসেবা চালু রয়েছে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে।

বুধবার (১২ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায়। অসুস্থতাজনিত কারণে উপজেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সেবা নিতে আসা রোগীদের নিরুপায় হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অন্য হাসপাতালে। এমনকি হাসপাতালে দেখা মেলেনি পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তারও।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560353118990.jpg
হাসপাতালটিতে দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও একটি অকেজো এবং আরেকটি সচল হলেও নেই কোন চালক। যে কারণে অ্যাম্বুলেন্সের সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন উপজেলাবাসী। হাসপাতালের এক্সরে মেশিনটি দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্যও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে এ হাসপাতালের রোগীদের।

হরিরামপুর ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালের প্রধান সহকারী কাম হিসাবরক্ষক হারুন অর রশিদ বার্তা২৪.কমকে জানান, ডাক্তার আনিছুর রহমান (ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার), একজন মেডিকেল অফিসার, জুনিয়র কনসালট্যান্ট (মেডিসিন) এবং ডেন্টাল সার্জনসহ মোট চারজন প্রশিক্ষণে রয়েছেন। জুনিয়র কনসালট্যান্টের (সার্জারি) এবং (এনেসথেসিয়া) দায়িত্বরত চিকিৎসকও রয়েছেন প্রেষণে। হাসপাতালে উপস্থিত একমাত্র জুনিয়র কনসালট্যান্ট গাইনি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক রোগীদের সেবা দিতে ব্যস্ত রয়েছেন।

প্রতিবেশীর অসুস্থতার কারণে অ্যাম্বুলেন্সের খোঁজে হাসপাতালটিতে আসা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাসুদুর রহমান জানান, অ্যাম্বুলেন্সের চালক না থাকায় বিপাকে রয়েছেন হরিরামপুরবাসী। খুব দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের দাবি জানান তিনি।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560353146975.jpg
সরেজমিনে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কোন চিকিৎসকের দেখা না পেয়ে কথা হয় ওয়ার্ডবয় হৃদয় হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, সকালে জরুরি বিভাগে পরপর দুই জন রোগী আসেন সেবা নিতে। জরুরি বিভাগে আসার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। পরে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে চিকিৎসকের খোঁজে গিয়ে তিনি আর জরুরি বিভাগে ফিরে আসেননি।

হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিষয়ে মানিকগঞ্জের সিভিল সার্জন আনোয়ারুল আমীন আখন্দ বার্তা২৪.কমকে জানান, চলতি মাসে চিকিৎসকদের ট্রেনিং বেশি হওয়ার কারণে চিকিৎসাসেবায় কিছুটা ভোগান্তি হচ্ছে। আর অ্যাম্বুলেন্স চালক নিয়োগের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে। খুব দ্রুত সময়ের মধ্যেই এ সমস্যার সমাধান করে হরিরামপুরবাসীর জন্য উপযুক্ত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

অর্থ আত্মসাৎ: এলাকাবাসীর ধাওয়ায় পালালেন প্রকল্প পরিচালক

অর্থ আত্মসাৎ: এলাকাবাসীর ধাওয়ায় পালালেন প্রকল্প পরিচালক
ছবি: সংগৃহীত

বিদ্যালয়ের মাঠ মাটি দিয়ে ভরাট প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগে উঠেছে প্রকল্প পরিচালক আব্দুল হান্নান শেখের বিরুদ্ধে। এতে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে মোটরসাইকেল ফেলে পালান তিনি। বুধবার (২৬ জুন) নড়াইল সদর উপজেলার রঘুনাথপুরে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজা সদর উপজেলার রঘুনাথপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ ভরাট কাজের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। কিন্তু প্রকল্প পরিচালক দায়সারাভাবে কাজ করে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেন। মাঠটি যথাযথভাবে ভরাট করতে বার বার অনুরোধ করা হলেও তিনি শোনেননি। এমনকি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি ও স্থানীয় এলাকাবাসী তাকে সভায় ডাকলে তিনি হাজির হননি। এতে এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন।

আরও জানা গেছে, বুধবার সকালে ওই বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন আব্দুল হান্নান শেখ। তাকে দেখে এলাকাবাসী ধাওয়া করলে তিনি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে যান।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এফ এম আকবর হোসেন বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'শুনেছি মাঠ ভরাট কাজের প্রকল্প কমিটিতে আমাকে রাখা হয়েছে। তবে আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। এ কমিটির পিআইসি আব্দুল হান্নান শেখ একাই কাজ করছেন। তিনি সামান্য কিছু মাটি দিয়ে দায়সারাভাবে কাজ শেষ করতে চেয়েছেন।'

বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি আবু বক্কার ফকির বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'আব্দুল হান্নান শেখ কাউকে কিছু না বলে রাতের আঁধারে বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি ভরাটের কাজ করেছেন। সামান্য মাটি দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাৎ করেছেন।'

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল হান্নান শেখ বার্তা২৪.কম-কে বলেন, 'কাজ এখনও শেষ হয়নি। এ পর্যন্ত ৩০ হাজার টাকার মতো খরচ হয়েছে। বাকি কাজ শিগগিরই শেষ করা হবে।'

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, বিদ্যালয় বিমুখ শিক্ষার্থীরা!

ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, বিদ্যালয় বিমুখ শিক্ষার্থীরা!
কাগমারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলার ৪৪ নং কাগমারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ও পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস করতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। ফলে ভবনটি ধসে পড়ার আশঙ্কায় বিদ্যালয়ে আসতে চায় না শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১৮৮২ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়ে একটি টিনশেড বিল্ডিং ও দুটি পাকাভবন রয়েছে। এরমধ্যে একটি ভবনে ৪টি কক্ষ, যা ২০০১ সালে নির্মিত হয়। কিন্তু ১৪ বছর পর ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০১৫ সালে ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বিদ্যালয়ে ২৬৩ শিক্ষার্থী রয়েছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ওই ভবন ছাড়াও বিদ্যালয়টিতে একটি পাকা ও একটি টিনশেড ভবন রয়েছে। পাকা ভবনের অর্ধেক অংশে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানো হয় এবং বাকি অংশে শিক্ষকরা অফিস হিসেবে ব্যবহার করেন। টিনশেড ভবনের দুটি কক্ষে অন্য শ্রেণির ক্লাস হয়।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561564748695.jpg
সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কলাম থেকে বিম ফেটে গেছে, পলেস্তরা খসে খসে পড়ছে। ভবনটির উত্তর ও পশ্চিম পাশে দেবে গেছে। এছাড়া বৃষ্টি হলেই ছাদ দিয়ে চুয়ে চুয়ে পানি পড়ে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে বিদ্যালয় বিমুখ হচ্ছে শিক্ষার্থীরা।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক দিলআরা আফরোজ বার্তা২৪.কমকে বলেন, শিক্ষার্থীদের বসার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে পরিত্যক্ত ভবনে ক্লাস নিতে হচ্ছে। তবে ভবন ভেঙে পড়ার আশঙ্কায় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসছে না। নতুন ভবন নির্মাণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হয়েছে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহনেওয়াজ পারভীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণার বিষয়টি আমার জানা নেই। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে বিদ্যালয়ে নতুন ভবন নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র