Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

মাধবপুরে বন্যায় বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা

মাধবপুরে বন্যায় বিপর্যস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা
বন্যার পানিতে মাধবপুরের কমলপুরের একটি রাস্তা যোগাযোগের অনুপযুক্ত হয়ে পড়েছে/ ছবি: বার্তা২৪.কম
কাজল সরকার
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
হবিগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি অতি বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সোনাই নদীর তীর ভেঙে হবিগঞ্জের মাধবপুরের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অন্তত ২০টি গ্রাম বেশ কয়েকদিন যাবৎ পানিবন্দি ছিল। বর্তমানে ঐ গ্রামগুলোতে পানি নামলেও ভেঙে পড়েছে গ্রামীণ অবকাঠামো। রাস্তাগুলো ভেঙে পড়ায় সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কয়েক হাজার গ্রামবাসীকে। সেই সাথে ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে ফসল ও মৎস খামারের।

এদিকে, সব হারিয়ে নিঃস্ব হওয়া কৃষকরা এখনো কোনো সরকারি সহযোগিতা পাননি। ঘুরে দাঁড়ানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেও সফল হতে পারছেন না অনেকেই।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১ জুন রাতভর প্রবল বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সোনাই নদীর আলাবক্স ও কমলপুর অংশে তিনটি ভাঙন দেখা দেয়। ঐ ভাঙনগুলো দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করায় উপজেলার কমলপুর, হরিণখোলা, সিদ্ধরপুর, চৈতন্যপুর, কালিকাপুর, জয়নগর, দেবপুর, নুরুল্লাপুর, মনোহরপুর, সাতপাড়িয়াসহ প্রায় ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়।

গ্রামগুলো পানিবন্দি হওয়ায় প্রায় অর্ধশতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পানিতে ভেসে যায় প্রায় দুই শতাধিক পুকুরের মাছ। ৫০০ হেক্টর জমির উঠতি ফসল (বিভিন্ন ধরনের সবজি) তলিয়ে যায়।

বেশ কয়েকদিন পানিবন্দি থাকার পর এখন পানি নামলেও দেখা দিয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। গ্রামগুলোর অধিকাংশ রাস্তায়ই দেখা দিয়েছে ভাঙন। অনেক গ্রামে যোগাযোগের একমাত্র রাস্তাটি ভেঙে যাওয়ায় সীমাহীন দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বেশ কয়েকটি ছোট ব্রিজ ও কালভার্ট ভেঙে গেছে। স্কুল-কলেজের রাস্তাঘাট নষ্ট হওয়ায় ব্যাঘাত ঘটছে শিক্ষা কার্যক্রমে। পায়ে হেঁটে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে ঐসব গ্রামের জনসাধারণকে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/12/1560359093250.jpg

এ ব্যাপারে চৌমুহনী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আপন মিয়া বলেন, ‘এর আগে কখনো পাহাড়ি ঢলে চৌমুহনী এলাকার এমন ক্ষতি হয়নি। প্রতিটি গ্রামের ছোট-বড় রাস্তা বন্যার পানিতে ভেঙে গেছে। রাস্তাগুলো দ্রুত মেরামতের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারি বিভিন্ন দফতরে জানানো হয়েছে। বরাদ্দের অপেক্ষায় আছি।’

শাহজাহানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যানের তৌফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘আমার ইউনিয়নের শাহপুর, জালোয়াবাদ, নোয়াগাঁও গ্রামের রাস্তাঘাট বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়গুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দফতরে যোগাযোগ করা হয়েছে।’

এদিকে, মাধবপুর-চুনারুঘাট আসনের সাংসদ, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী অ্যাড. মাহবুব আলী স্থানীয় প্রশাসনকে ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা ও ক্ষতির পরিমাণ হিসাব করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ ব্যাপারে মাধবপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য আপাতত চার মেট্রিকটন চাল ও ঘর হারাদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ১০০ বান্ডিল টিনের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। গ্রামীণ ভাঙা রাস্তা বিশেষ টিআর-এর মাধ্যমে মেরামতের কাজ চলছে।’

আরও পড়ুন: মাধবপুরে সোনাই নদী ভেঙে ২০ গ্রাম প্লাবিত

আপনার মতামত লিখুন :

গাইবান্ধায় কাঁচা মরিচ এখন কৃষকের গলার কাঁটা

গাইবান্ধায় কাঁচা মরিচ এখন কৃষকের গলার কাঁটা
মরিচের উৎপাদন ভালো হলেও দাম পাচ্ছেন না চাষিরা, ছবি: বার্তা২৪

মরিচ উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধার ধাপেরহাট। এ এলাকার কৃষকরা অধিক পরিমাণে মরিচের আবাদ করে থাকেন। অন্যান্য বছরে মরিচ আবাদ করে লাভের মুখ দেখলেও এবারের মৌসুমে মরিচ যেন কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির দামে মরিচ বিক্রি করে লোকসানের হিসাব গুনছেন তারা।

বুধবার (২৬ জুন) সরেজমিনে বাজারের এই পরিস্থিতি বার্তা২৪.কম-এর কাছে ফুটে ওঠে।

গত বছর মরিচ চাষিরা ভালো দাম পেলেও এবার সেই দাম পাচ্ছেন না। যে কারণে উৎপাদন ভালো হলেও এতো পরিমাণ মরিচ কীভাবে বিক্রি করবেন সেটা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন চাষিরা। অনেকেই পচে যাওয়ার ভয়ে লোকসান দিয়েই বিক্রি করে ফেলছেন মরিচ।

কৃষক জয়নাল আবেদীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গত বছর ২৫ শতক জমিতে মরিচ আবাদ করেছিলাম। বাজারে দাম ঠিক থাকায় ভাল মুনাফা পেয়েছিলাম। এবারে ৪০ শতক জমিতে মরিচ চাষ করি। ফলন ভাল হলেও ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান বাজারের ৪০০-৫০০ টাকা মণ দরে মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে। এর ফলে লোকসানের হিসাব গুণতে হচ্ছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561548726617.jpg

আরেক কৃষক শাহাআলম মিয়া বার্তা২৪.কমকে জানান, মরিচ চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এতে প্রায় ৪০-৫০ মণ মরিচ উৎপাদন হয়। বাজারে মরিচের দাম ঠিক থাকলে ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নীট লাভ করা সম্ভব। সপ্তাহ খানেক আগে প্রতি মণ মরিচের দাম ছিল আড়াই হাজার টাকা। আর এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০০-৫০০ টাকা। এর ফলে জমিতে মরিচ রাখা কিংবা উত্তোলন করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

পাইকারি বাজারে মরিচের দাম কমলেও উত্তাপ কমেনি খুচরা বাজারে। ক্রেতারা এখনো বেশি দাম দিয়েই কাচা মরিচ কিনছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাজির হোসেন, খয়বার আলী ও লুৎফর রহমান নামের কয়েকজন ক্রেতা বার্তা২৪.কমকে অভিযোগ করে বলেন, ‘পাইকারি বাজারে মরিচের দাম কমলেও, কমেনি খুচরা বাজারের দাম। এখনো প্রতি কেজি মরিচ ১৫-২০ দিয়ে কিনতে হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি অফিসার খাজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, সম্প্রতি কাঁচা মরিচের উৎপাদন বেশি। তুলনামূলকভাবে চাহিদা কম থাকায় বাজার মূল্য কিছুটা কমেছে। তবে আর কিছু দিন পরই দাম বাড়তে পারে।

 

১৪ দিন ধরে অচল বেনাপোল কাস্টমসের স্ক্যানার

১৪ দিন ধরে অচল বেনাপোল কাস্টমসের স্ক্যানার
বেনাপোল স্থলবন্দরের স্ক্যানার, ছবি: বার্তা২৪

বেনাপোল স্থলবন্দরের কাস্টমস চেকপোস্টে চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবহৃত একমাত্র স্ক্যানারটি প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে অচল হয়ে আছে। এটি মেরামতে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। ফলে স্বর্ণ ও বৈদেশিক মুদ্রাসহ মূল্যবান সামগ্রী পাচারের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, চোরাচালান প্রতিরোধে ব্যবহৃত এই স্ক্যানারটি প্রতিমাসে একবার করে অচল হয়। এতে চেরাকারবারীরা এ পথ দিয়ে নির্ভয়ে পাচার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

কাস্টমস কর্তৃপক্ষ বলছে, মেশিনটির যন্ত্রাংশ নষ্ট হলে দেশে পাওয়া যায় না। ফলে মেরামতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। বিষয়টি ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

জানা গেছে, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়াতে বেনাপোল দিয়ে চিকিৎসা,ব্যবসা ও ভ্রমণসহ বিভিন্ন কাজে যাত্রীদের যাতায়াত বেশি। প্রতিদিন প্রায় ৫ থেকে ৭ হাজার যাত্রী যাতায়াত করছে। তেমনি অনুন্নত অবকাঠামোর কারণে, চোরাচালানীরাও এ পথকে নিরাপদ ভেবে স্বর্ণ, বৈদেশিক মুদ্রাসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী যাত্রীর ছদ্দবেশে পাচার করছে। বেনাপোল কাস্টমসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ায় এ সমস্ত চালানের অধিকাংশ আটক হচ্ছে ভারতের পেট্রাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে।

বুধবার (২৬ জুন) দুপুরে বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসে গিয়ে জানা যায়, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যাত্রীর ব্যাগেজ পরীক্ষার কাজে ব্যবহৃত স্ক্যানারটি সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়ে আছে। ব্যাগ পরীক্ষা না করেই কাস্টমস সদস্যরা সব ধরনের যাত্রীদেরকে ভারত প্রবেশে অনুমতি দিচ্ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী পারভেজ বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘প্রতি বছর এপথ দিয়ে যে পরিমাণ যাত্রী যাতায়াত করে তা থেকে সরকার প্রায় শত কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে থাকে। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত যাত্রী সেবা নেই কাস্টমসে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়নও নেই। এ প্রকার দুর্ভোগ ও হয়রানির মধ্য দিয়ে যাত্রীদের যাতায়াত করতে হয়। এছাড়া কাস্টমসের সহযোগিতায় অবাধে পাচার হচ্ছে অনেক পণ্য। এতে কাস্টমসের কারও পকেট ভারী হলেও সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব।’

বেনাপোল চেকপোস্ট কাস্টমসের রাজস্ব কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, স্ক্যানার অচল থাকায় পাচারের সম্ভাবনা থেকে যাচ্ছে। পাঁচ হাজার যাত্রীর ব্যাগ তো আর হাতে তল্লাশি করা যায় না। বিষয়টি কাস্টমসের ঊধ্বর্তন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। এছাড়া যে যন্ত্রটি নষ্ট হয়েছে তার মূল্য ১২ লাখ টাকা। দেশেও এটি কিনতে পাওয়া যায় না। তাই অপেক্ষা করতে হচ্ছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র