ভিজিডির চাল বিক্রি করলেন ইউপি চেয়ারম্যান ও সচিব

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নাটোর
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নাটোরের সিংড়া উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের উপকারভোগীদের ২২ বস্তা ভিজিডির চাল বিক্রি করে দিয়েছেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ এবং সচিব মিজানুর রহমান। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তবে গত মঙ্গলবার দুপুরে ইউপি বামিহাল হাসপাতালের সামনে থেকে এসব চাল উদ্ধার করেন সাবেক ইউপি সদস্য ফরিদুল ইসলাম ও স্থানীয় জনগণ। ওইদিন বিকেল ৫টায় সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার করা চালের ১৯ বস্তা উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করেন। বাকি তিন বস্তা চাল ওই ইউনিয়নের স্টোর রুমে জমা রাখেন।

অভিযোগ আছে, সুকাশ ইউনিয়নের যে ২২ জনের নামে চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল তাদের নাম ও ঠিকানা ভুয়া। আগেও এই কার্ডের আওতায় একাধিকবার চাল তুলে বিক্রি করা হয়। ফলে বঞ্চিত হয়েছে প্রকৃত উপকারভোগীরা।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ মে উপজেলার সুকাশ ইউনিয়নের ২৪৭ জন উপকারভোগী সদস্যদের মাঝে কার্ড প্রতি ৩০ কেজি করে ২৪৭ বস্তা ভিজিডি চাল বিতরণের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। ওই দিন ২২৫ বস্তা চাল বিতরণের পর অবশিষ্ট ২২ বস্তা চাল ঈদুল ফিতরের আগে বিতরণের জন্য ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ও সচিব মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেয়া হয়। কিন্তু চাল বিতরণ না করে বিক্রি করে দেওয়া হয়। ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ ও ২নং ওয়ার্ড সদস্য সোহরাব হোসেনের নির্দেশে এ চাল বিক্রি করেন ইউপি সচিব মিজানুর রহমান।

এ বিষয়ে বুধবার (১২ জুন) ইউপি সচিব মিজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘চাল অনেকদিন ধরে পড়ে থাকায় নষ্ট হচ্ছিল। তাই চেয়ারম্যান ও মেম্বারের নির্দেশে চাল বিক্রি করা হয়। তবে এ ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

ইউনিয়ন পরিষদ কর্মকর্তা সোলায়মান হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘২২ বস্তা চাল ঈদুল ফিতরের আগে বিতরণ করার কথা ছিল। কিন্তু উপকারভোগীরা উপস্থিত না হওয়ায় বিতরণ করা সম্ভব হয়নি।’

সিংড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুশান্ত কুমার মাহাতো বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘চাল উদ্ধার করে উপকারভোগী সদস্যদের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। চাল বিক্রির বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :