Barta24

বুধবার, ২৬ জুন ২০১৯, ১২ আষাঢ় ১৪২৬

English Version

তরুণরা গড়ে তুললেন পাঠাগার ‘প্রাণে প্রাণ বইকুঞ্জ’

তরুণরা গড়ে তুললেন পাঠাগার ‘প্রাণে প্রাণ বইকুঞ্জ’
ছবি: বার্তা২৪.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নেত্রকোনা


  • Font increase
  • Font Decrease

নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত একটি গ্রাম হচ্ছে বলাইশিমুল। যোগাযোগ ব্যবস্থাসহ নানাভাবে অবহেলিত ভাটি অঞ্চলের এ গ্রামটির স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া অর্ধশত উদ্যমী তরুণ মিলে গড়ে তুলেছেন ‘প্রাণ প্রাণ বইকুঞ্জ’ নামে একটি পাঠাগার। 

তারা পাঠাগারটির ভিত্তি স্থাপন করতে মাসব্যাপী শ্রম দিয়েছেন। নিজেরাই চাঁদা তুলে সংগ্রহ করেছেন অর্থ। গ্রামটির বাড়ি বাড়ি ঘুরে জোগাড় করেছেন বাঁশ।

তারপর ওই তরুণরা নিজেরাই মাটি ও বাঁশ কেটে গড়ে তুলেছেন ‘প্রাণে প্রাণ বইকুঞ্জ’ নামে পাঠাগারটির ভিত্তি। তাদের অক্লান্ত শ্রম ও ঘামে অবশেষে দাঁড় করিয়েছেন একটি টিনশেড ঘর। এ ঘরেই চলবে ‘প্রাণে প্রাণ বইকুঞ্জ’ পাঠাগারের কার্যক্রম।

তরুণদের পাঠাগার গড়ে তোলার এমন প্রচেষ্টা দেখে তাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন এলাকাবাসীসহ মহৎ মনের বেশ কয়েকজন মানুষ। তারা হলেন- ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. আমিনুল হক, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া ও ময়মনসিংহস্থ কেন্দুয়া সমিতির সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম আকন্দ লিটনসহ অনেকেই।

তবে পাঠাগারটি গড়ে তোলার জন্য সার্বিকভাবে ওই তরুণদের উৎসাহ দিয়ে এবং তাদের সঙ্গে থেকে সার্বক্ষণিক সহযোগিতা করে গুরুদায়িত্ব পালন করেন সমাজ উন্নয়নকর্মী ও লেখক আবুল কালাম আল আজাদ। আর পাঠাগারের ভূমি দান করে তরুণদের ‘প্রাণে প্রাণ বইকুঞ্জ’ প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি করে দিয়েছেন একই গ্রামের সমাজসেবক আব্দুল হান্নান।

এ বিষয়ে বুধবার (১২ জুন) দুপুরে প্রাণে প্রাণ বইকুঞ্জ পাঠাগারের সভাপতি কলেজ পড়ুয়া তরুণ মোস্তাকিম হোসেন তালহা ও সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম আরিফ জানান, তথ্য প্রযুক্তির এই যুগে তরুণ সমাজ বই পড়া থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। গ্রামের উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা মোবাইল হাতে ফেসবুক-ইন্টারনেটে অহেতুক সময় নষ্ট করছে। তাদের বইমুখী করতেই এই ‘প্রাণে প্রাণ বইকুঞ্জ’ প্রতিষ্ঠা করা।

প্রথমে অর্ধশত তরুণ মিলে পাঠাগারটি গড়ে তুললেও এখন তরুণ-তরুণী মিলিয়ে তাদের সদস্য সংখ্যা ৮০ জন বলেও জানান তারা।

আপনার মতামত লিখুন :

আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে এক ব্যক্তি নিহত

আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে এক ব্যক্তি নিহত
বজ্রপাতে নিহতের মরদেহ দেখতে এলাকাবাসী ভিড় জমান, ছবি: বার্তা২৪

চাঁপাইনবাবগঞ্জে ঝড়ের সময় আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রপাতে আবুল কালাম (৪৫) নামের এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

বুধবার (২৬ জুন) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত কালাম শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বোগলাউড়ি গ্রামের মুসলেম উদ্দীনের ছেলে।

স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হামিদ জানান, বেলা সাড়ে ৩টার দিকে বৃষ্টিসহ ঝড় শুরু হয়। এ সময় একই এলাকার ফজলু মেম্বরের বাগানে আবুল কালাম আম কুড়াতে যান। হঠাৎ করে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা প্রকৌশলী আরিফুল ইসলাম জানান,স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে পরিবারটিকে সহযোগিতা করা হবে।

মরিচের বাম্পার ফলন কৃষকের গলার কাঁটা

মরিচের বাম্পার ফলন কৃষকের গলার কাঁটা
মরিচের উৎপাদন ভালো হলেও দাম পাচ্ছেন না চাষিরা, ছবি: বার্তা২৪

মরিচ উৎপাদন এলাকা হিসেবে পরিচিত গাইবান্ধার ধাপেরহাট। এ এলাকার কৃষকরা অধিক পরিমাণে মরিচের আবাদ করে থাকেন। অন্যান্য বছরে মরিচ আবাদ করে লাভের মুখ দেখলেও এবারের মৌসুমে মরিচ যেন কৃষকের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। পানির দামে মরিচ বিক্রি করে লোকসানের হিসাব গুনছেন তারা।

বুধবার (২৬ জুন) সরেজমিনে বাজারের এই পরিস্থিতি বার্তা২৪.কম-এর কাছে ফুটে ওঠে।

গত বছর মরিচ চাষিরা ভালো দাম পেলেও এবার সেই দাম পাচ্ছেন না। যে কারণে উৎপাদন ভালো হলেও এতো পরিমাণ মরিচ কীভাবে বিক্রি করবেন সেটা নিয়ে সংশয়ে রয়েছেন চাষিরা। অনেকেই পচে যাওয়ার ভয়ে লোকসান দিয়েই বিক্রি করে ফেলছেন মরিচ।

কৃষক জয়নাল আবেদীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘গত বছর ২৫ শতক জমিতে মরিচ আবাদ করেছিলাম। বাজারে দাম ঠিক থাকায় ভাল মুনাফা পেয়েছিলাম। এবারে ৪০ শতক জমিতে মরিচ চাষ করি। ফলন ভাল হলেও ন্যায্য মূল্য পাওয়া যাচ্ছে না। বর্তমান বাজারের ৪০০-৫০০ টাকা মণ দরে মরিচ বিক্রি করতে হচ্ছে। এর ফলে লোকসানের হিসাব গুণতে হচ্ছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/26/1561548726617.jpg

আরেক কৃষক শাহাআলম মিয়া বার্তা২৪.কমকে জানান, মরিচ চাষে বিঘা প্রতি খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। এতে প্রায় ৪০-৫০ মণ মরিচ উৎপাদন হয়। বাজারে মরিচের দাম ঠিক থাকলে ২০-২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত নীট লাভ করা সম্ভব। সপ্তাহ খানেক আগে প্রতি মণ মরিচের দাম ছিল আড়াই হাজার টাকা। আর এখন বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০০-৫০০ টাকা। এর ফলে জমিতে মরিচ রাখা কিংবা উত্তোলন করা দুষ্কর হয়ে পড়েছে।

পাইকারি বাজারে মরিচের দাম কমলেও উত্তাপ কমেনি খুচরা বাজারে। ক্রেতারা এখনো বেশি দাম দিয়েই কাচা মরিচ কিনছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

নাজির হোসেন, খয়বার আলী ও লুৎফর রহমান নামের কয়েকজন ক্রেতা বার্তা২৪.কমকে অভিযোগ করে বলেন, ‘পাইকারি বাজারে মরিচের দাম কমলেও, কমেনি খুচরা বাজারের দাম। এখনো প্রতি কেজি মরিচ ১৫-২০ দিয়ে কিনতে হচ্ছে।’

উপজেলা কৃষি অফিসার খাজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, সম্প্রতি কাঁচা মরিচের উৎপাদন বেশি। তুলনামূলকভাবে চাহিদা কম থাকায় বাজার মূল্য কিছুটা কমেছে। তবে আর কিছু দিন পরই দাম বাড়তে পারে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র