Barta24

রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ৩ ভাদ্র ১৪২৬

English

পাঁচদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই নাটোর জেলা ক্রীড়া সংস্থায়!

পাঁচদিন ধরে বিদ্যুৎ নেই নাটোর জেলা ক্রীড়া সংস্থায়!
ফাইল ছবি।
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নাটোর


  • Font increase
  • Font Decrease

পাঁচ দিন ধরে অন্ধকারে রয়েছে নাটোর জেলা ক্রীড়া সংস্থাটি। বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার জন্য বারবার চিঠি দেওয়ার পরও কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় ক্রীড়া সংস্থার দৈনন্দিন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। স্টেডিয়াম এলাকা অন্ধকারে থাকায় রাতে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে স্থানীয় এলাকাবাসীও। নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সূত্র জানায়, গত ৯ জুন সন্ধ্যায় হঠাৎ করেই নাটোর শংকর গোবিন্দ চৌধুরী স্টেডিয়ামে পল্লী বিদ্যুতের একটি মিটার পুড়ে যায়। পরবর্তীতে নতুন মিটারের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল স্বাক্ষরিত একটি চিঠি পল্লী বিদ্যুতের জিএম বরাবর পাঠানো হয়। অনুলিপি দেওয়া হয় জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্যদের। কিন্তু বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নের ৫ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি।

জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ মোস্তাক আলী মুকুল বলেন, ‘প্রতি মাসে আমরা ১৫-২০ হাজার টাকা বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করি। কোনো মাসের বিল বকেয়া থাকে না। পরপর দুইবার আমরা কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিলেও তারা কোনো সাড়া দিচ্ছে না।’

পল্লী বিদ্যুতের জিএম (সেবা) নুর-ই আলম বলেন, ‘ওভারলোডের কারণে মিটারটি পুড়ে গেছে। তবে অতিরিক্ত লোডের জন্য ক্রীড়া সংস্থাকে টাকা পরিশোধ করতে হবে। তবেই সংযোগ মিলবে। নিয়মের মধ্যে থেকে যতটুকু করা যায়, আমরা সে বিষয়ে ব্যবস্থা নিচ্ছি।’

এ বিষয়ে নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর জেনারেল ম্যানেজার সোহরাব হোসেন জানান, জেলা ক্রীড়া সংস্থায় দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

রাতে বিশ্রামাগারে তালা, ট্রেনযাত্রীদের দুর্ভোগ

রাতে বিশ্রামাগারে তালা, ট্রেনযাত্রীদের দুর্ভোগ
মেঝেতে শুয়ে আছেন ট্রেনের জন্য অপেক্ষমান কিছু যাত্রী, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কোথাও যাত্রীরা বসে আছেন অন্ধকারে, কোথাও যাত্রীরা শুয়ে আছে নোংরা মেঝেতে। কোথাও আবার মালপত্র নিয়ে পায়চারি করছেন। মাঝে মধ্যে ট্রেনের হুইসেল শুনে যাত্রীদের কেউ কেউ এদিক-সেদিক তাকিয়ে নড়েচড়ে বসছেন।

রোববার (১৮ আগস্ট) রাত দেড়টায় ময়মনসিংহের গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের প্ল্যাটফরমে এমন দৃশ্য দেখা যায়। জংশনের প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় বৈরী আবহাওয়ায় ও অন্ধকারের মধ্যে রাতের ট্রেনযাত্রীরা প্ল্যাটফরমের নোংরা মেঝেতে আশ্রয় নিয়েছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566090508229.jpg

জানা গেছে, গৌরীপুর রেলওয়ে স্টেশন হয়ে প্রতিদিন ঢাকা-জারিয়া, ঢাকা-মোহনগঞ্জ, ময়মনসিংহ-চট্টগ্রাম এই তিনটি রুটে আন্তঃনগর, মেইল, কমিউটার ও লোকালসহ ৩২টি ট্রেন চলাচল করে। এসব ট্রেনে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী চলাচল করে। কিন্ত রাতের বেলা বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

আরও পড়ুন: টেলিফোন বিকল, গ্রাহকের বিল সচল

রাতে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনে গিয়ে দেখা যায় প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগারটি তালাবদ্ধ। বিশ্রামাগারের সামনে স্তূপ করে রাখা বাইর (মাছ ধরার ফাঁদ)। যাত্রীরা জায়গা না পেয়ে টিকিট কাউন্টার ও প্ল্যাটফরমের মেঝেতে বসে ও শুয়ে আছে। এরমধ্যে নারীযাত্রীরা অন্ধকারের মধ্যে গুটিসুটি হয়ে বসে আছে। নিরাপত্তার শঙ্কায় নারী যাত্রীদের কেউ কেউ আশ্রয় নিয়েছেন চায়ের দোকানে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী যাত্রী বলেন, ‘বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় রাতের বেলা প্রাকৃতিক কাজ সারতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। বাধ্য হয়েই এখন নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে অন্ধকারে বসে আছি। এই হচ্ছে গৌরপুর স্টেশনে যাত্রীদের সেবার মান।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566090548478.jpg

অপরদিকে, দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগারের সামনে গিয়ে দেখা যায় দরজা তালাবদ্ধ। বিশ্রামাগারে স্থান না পেয়ে যাত্রীরা কেউ চায়ের দোকান ও রেলওয়ে ওভারব্রিজের সিঁড়িতে বসে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করছেন। এরমধ্যে অনেক যাত্রী কাঁথা কিংবা চাদর বিছিয়ে বিশ্রামাগারের সামনে শুয়ে আছেন।

আরও পড়ুন: ৫৬ বছরে গৌরীপুর সরকারি কলেজ

ট্রেনযাত্রী মানিক মিয়া বলেন, ‘পরিবারের লোকজন রাতের ট্রেনে ঢাকা যাবে। কিন্তু দুটি বিশ্রামগার বন্ধ থাকায় বৈরী আবহাওয়ায় মালপত্র নিয়ে প্ল্যাটফরমে দাঁড়িয়ে থাকতে হচ্ছে। স্টেশন কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেয় না এটা অত্যন্ত দুঃখজনক।’

গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান ফকির বলেন, ‘বিশ্রামাগার বন্ধ থাকায় যাত্রীরা মালপত্র নিয়ে বাইরে আশ্রয় নেওয়ায় স্টেশনে চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। নারী যাত্রীরা বখাটেদের উৎপাতের শিকার হচ্ছে। এতে করে এই স্টেশনে যাত্রীসেবার মান দিন দিন কমে যাচ্ছে। সেবার মান বাড়াতে এই চিহ্নিত সমস্যাগুলো সমাধানে কর্তৃপক্ষকে উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566090572707.jpg

এ বিষয়ে জানতে রাতে গৌরীপুর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার আব্দুর রশিদের মুঠোফোনে কয়েকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সংযোগ পাওয়া যায়নি।

তবে স্টেশনের বুকিং সহকারী রাজিব বলেছেন, ‘প্রথম শ্রেণির বিশ্রামাগার বন্ধ থাকলেও দ্বিতীয় শ্রেণির বিশ্রামাগার খোলা থাকার কথা। কিন্ত আজ কেন বন্ধ বলতে পারছি না ‘

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঘিরে চলছে প্রস্তুতি!

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঘিরে চলছে প্রস্তুতি!
প্রত্যাবাসন ঘাটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করছে শ্রমিকরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

অবশেষে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া অল্প সংখ্যক রোহিঙ্গাকে তাদের দেশে ফিরিয়ে নিয়ে যাবে মিয়ানমার। তাই মিয়ানমারে ফেরত পাঠাতে কক্সবাজারের টেকনাফের কেরুণতলী প্রত্যাবাসন ঘাট ও নয়াপাড়া শালবন রোহিঙ্গা শিবিরে চলছে প্রস্তুতি।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্স বলছে, আগামী ২২ আগস্ট বাংলাদেশ থেকে মিয়ানমারে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরত যাবে তিন হাজার ৫৪০ জন রোহিঙ্গার একটি দল। মিয়ানমার সরকারের এমন ঘোষণা দেয়ার পর এ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566085892098.jpg

শনিবার (১৭ আগষ্ট) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, টেকনাফের সদর ইউনিয়নের কেরুণতলী প্রত্যাবাসন ঘাটে কয়েকজন শ্রমিক কাজ করছেন। এ সময় প্রত্যাবাসন নিয়ে কাজ করা একটি দল কেন্দ্রের বিভিন্ন স্থান ও কক্ষ ঘুরে দেখেন।

আরও পড়ুন: মিয়ানমারের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিস্মিত রোহিঙ্গারা

সেখানে শ্রমিক হামিদুর রহমান ও মো. সেলিম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, এখান থেকে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে। ফলে ক্যাম্প ইনচার্জের নির্দেশে গত কয়েকদিন প্রত্যাবাসন ঘাটে নতুন করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রতিদিন অফিসের লোকজন তদারকি করছেন।

ঘাটে দায়িত্বে থাকা প্রত্যাবাসন কমিশনার কার্যালয়ের প্রতিনিধি মো. শহীদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, এই ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন হওয়ার কথা রয়েছে। তাই কতৃপক্ষের নির্দেশে এখানে কয়েকদিন ধরে বিভিন্ন কাজ কর্ম চলছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566085916417.jpg

প্রত্যাবাসন ঘাটে দায়িত্বরত ১৬ আনসার ব্যাটালিয়নের হাবিলদার মো. আইনুল হক বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ঘাটে কয়েকদিন ধরে কাজ চলছে। তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করছি। শুনেছি কয়েকদিনের মধ্যে এই ঘাট দিয়ে রোহিঙ্গারা মিয়ানমারে ফেরত যাবে।’

অন্যদিকে, একইদিন নয়াপাড়া শালবন রোহিঙ্গা শিবিরে সিআইসি কার্যালয়ের পাশে ‘প্রত্যাবাসনের তালিকায়’ নাম থাকা রোহিঙ্গাদের সাক্ষাতকার নেওয়ার জন্য তড়িগড়িভাবে প্লাস্টিকের ছোট ঘর তৈরি করে ঘেরা দিতে দেখা গেছে। এতে বেশকিছু রোহিঙ্গা শ্রমিক কাজ করছে।

কথা হয় শিবিরের চেয়ারম্যান রমিদা বেগমের সঙ্গে। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘মিয়ানমারে ফেরত যাবে এমন রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলার জন্য এসব তৈরি করা হচ্ছে। আমরা শুনেছি এরপর তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর কথা রয়েছে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566085936946.jpg

তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরসি) মো. আবুল কালাম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু করতে সরকার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কখন প্রত্যাবাসন শুরু হবে সে-বিষয়ে এখনো অবগত নই।

তিনি আরও বলেন, ‘রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে জেলা প্রশাসন ও শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের প্রত্যাবাসন সক্রান্ত জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে ‘

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/18/1566085963278.jpg

উল্লেখ্য, গত বছরের ১৫ নভেম্বর নির্ধারিত সময়ে রোহিঙ্গাদের প্রতিবাদে প্রত্যাবাসন শুরু করতে পারেনি। সে-সময় উখিয়ার ঘুমধুম ও টেকনাফের নাফ নদীর তীরে কেরুণতলী (নয়াপাড়া) প্রত্যাবাসন ঘাট নির্মাণ হয়েছিল। এর মধ্যে টেকনাফের প্রত্যাবাসন ঘাটে প্যারাবনের ভেতর দিয়ে লম্বা কাঠের জেটি, ৩৩ আধা সেমি-টিনের থাকার ঘর, চারটি শৌচাগার রয়েছে। সেখানে ১৬ আনসার ব্যাটালিয়ন ক্যাম্পের সদস্যরাও দায়িত্ব পালন করছেন।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র