Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পাচার হওয়া ৬ বাংলাদেশি কিশোরীকে ফেরত দিল ভারত

পাচার হওয়া ৬ বাংলাদেশি কিশোরীকে ফেরত দিল ভারত
পাচার হওয়া ৬ বাংলাদেশি কিশোরীকে ফেরত দিল ভারত
মোহাম্মদ রনি মিয়াজী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
পঞ্চগড়


  • Font increase
  • Font Decrease

 

বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত হতে ভারতে পাচার হওয়া বাংলাদেশি ৬ কিশোরীকে দেশের সর্ব উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে দিয়ে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

রোববার (১৬ জুন) দুপুরে পঞ্চগড়ের বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি সীমান্ত চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে পাচার হওয়া ৬ কিশোরীকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করছে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশ।

ফেরত আসা তরুণীরা হলেন, নড়াইল জেলার সদর উপজেলার মির্জাপুর গ্রামের বাবুল শেখের মেয়ে আয়েশা খাতুন (১৭),পটুয়াখালী জেলার কোলাপাড়া উপজেলার তোলাতোলি গ্রামের কালাম গাজীর মেয়ে মায়া লাকী (২৫), খুলনা জেলার সদর উপজেলার বাঘামাড়াই গ্রামের  মহারাজ মির্জার মেয়ে শারমিন (২৬), খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা উপজেলার বলিন্দ্রপাড়া গ্রামের মৃত সিদ্দিকুর রহমানের মেয়ে পাখি শেখ,বাগেরহাট জেলার মোল্লার হাট উপজেলার ডাবরা গ্রামের ইউসুফ শেখের মেয়ে মনিরা শেখ, যশোর জেলার উভয় নগর  উপজেলার নেওয়া পাড়া গ্রামের মৃত আছর আলী মোল্লার মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন।

জানা যায়, ভারতের বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে পাচার হওয়া বাংলাদেশি ৬ কিশোরীকে ভারতের মেঘালয়, শিলং ইমপালস নেটওয়ার্ক নামে একটি বেসরকারি এনজিও তাদের ভারতে উদ্ধার করে পরবর্তীতে চেন্নাইয়ের একটি সরকারী আশ্রয় কেন্দ্রে হস্তান্তর করে। গত ১৫ জুন উদ্ধার হওয়া ৬ কিশোরীকে এনজিওটি বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য চেন্নাই থেকে শিলিগুড়িতে নিয়ে আসে।

আজ বাংলাবান্ধা-ফুলবাড়ি সীমান্তে বিএসএফ-এর একটি প্রতিনিধি দল উদ্ধার হওয়া ৬ কিশোরীকে বিজিবি'র কাছে হস্তান্তর করে৷

এ সময় উপস্থিত ছিলেন পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল মোহাম্মদ এরশাদুল হক,বিএসএফ ৫১ এর কমান্ডার শ্রী কে উমেশ ,বাংলাবান্ধা ইমিগ্রেশন পুলিশের অফিসার ইনচার্জ ইশার উদ্দিন প্রমুখ।

এ বিষয়ে পঞ্চগড় ১৮ বিজিবি ব্যাটেলিয়নের অধিনায়ক লে.কর্নেল মোহাম্মদ এরশাদুল হক বার্তা২৪. কমকে জানান, 'আজ সকালে ভারতে উদ্ধারকৃত বাংলাদেশি ৬ কিশোরীকে ফেরত দেয় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী (বিএসএফ)।

তেঁতুলিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ জহুরুল ইসলাম বার্তা২৪.কমকে জানান, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত হতে ভারতে পাচার হওয়া ৬ কিশোরীকে বিজিবি-  ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে হস্তান্তর করে। পরে  তাদের প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষা শেষে তেঁতুলিয়া মডেল থানায় আনা হয়। উদ্ধার হওয়া ৬ কিশোরীকে ব্রাকের কর্মসূচী প্রধান শাহরিয়ার শাহাদাতের উপস্থিতিতে তাদের অবিভাবকদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

আপনার মতামত লিখুন :

গাইবান্ধায় বন্যায় এক লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, ৪ জনের মৃত্যু

গাইবান্ধায় বন্যায় এক লাখ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত, ৪ জনের মৃত্যু
গাইবান্ধায় বন্যা কবলিত এলাকা/ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধার বন্যার পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছে। কমতে শুরু করেছে ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদের পানি। এবারের বন্যায় পাঁচটি উপজেলার প্রায় এক লাখ পরিবারের চার লাখ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব মানুষের মাঝে নানান রোগের প্রার্দুভাব ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শনিবার (২০ জুলাই) সকাল পর্যন্ত জেলা শহরে প্রবেশদ্বারে চারটি সড়কে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। বিশেষ জরুরি কাজে অনেকে পায়ে হেঁটে হাঁটুপানি দিয়ে শহরে প্রবেশ করছেন। রেল লাইনের উপরে পানি থাকায় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

গত কয়েকদিনে বন্যার পানিতে ডুবে চার জনের মৃত্যু হয়েছে। ভেসে গেছে শত শত গবাদিপশু।

এদিকে সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সাদুল্লাপুর ও সদর উপজেলার বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি হলেও, গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী দুটি উপজেলায় নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। এখানকার বন্যা পরস্থিতি অবনতি হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563599690325.jpg

গাইবান্ধা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, চলমান বন্যায় জেলার সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি, সাদুল্লাপুর ও সদর উপজেলার একলাখ ৪ হাজার পরিবারের ৪ লাখ মানুষের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার কাঁচা রাস্তা ৫১৭ কিলোমিটার, পাকা রাস্তা কিলোমিটার, ১৮ টি কালভার্ট এবং সাড়ে ৫৭ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৬৬টি আশ্রয় কেন্দ্রে ৭১ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ৭৫ টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার কন্ট্রোলরুমের দায়িত্বরত কর্মকর্তা লালন আহমেদ বার্তাটুয়েন্টিফোর.কমকে জানান, শনিবার (২০ জুলাই) সকাল ৯ টা পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১২৯ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি ৬৯ সেন্টিমিটার এবং তিস্তা নদীর পানি ৫০ সেন্টিমিটার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক (রুটিন দায়িত্ব) রোখসানা বেগম বার্তাটুয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত দুর্গতদের নানান সহায়তা দেওয়াসহ ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। যা চলমান থাকবে।

জামালপুরে বন্যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে

জামালপুরে বন্যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে জামালপুরের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। জেলার সাত উপজেলায় ৬২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে, বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক ও রেল পথ, তলিয়ে গেছে ১৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি। অপরিবর্তিত রয়েছে বন্যার পরিস্থিতি। এ পর্যন্ত ১২ লাখ ৭০ হাজার মানুষ বন্যা কবলিত হয়েছে ও বকশীগঞ্জে পৃথকস্থানে বন্যার পানিতে ডুবে ৩ জন মারা গেছে ।

শনিবার (২০ জুলাই) সকালে যমুনার পানি বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩৯ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করার ফলে জেলার ৬২ টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পুকুরের মাছ, মুরগীর খামার, গরুর খাবার ও ফসলের মাঠ। সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে গেছে। দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর-দুরমুট, মেলান্দহ, তারাকান্দি রেল স্টেশনে লাইনে পানি উঠায় ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ হয়ে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563598827686.jpg
বন্যা পরিস্থিতি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে 

 

পানি বৃদ্ধির কারণে বন্যা কবলিত এলাকায় ১১০৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। জামালপুরে বন্যা কবলিত ২ লাখ ৩০০ পরিবারের ১২ লাখ ৭০ হাজারের অধিক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এদিকে পানি বৃদ্ধি পাওয়ার শুকনো খাবারের তীব্র অভাবের পাশাপাশি শিশু খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

বন্যা কবলিত এলাকায় ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছে হাজার বানভাসি মানুষ। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোট বরাদ্দকৃত ত্রাণের পরিমাণ ৮৫০ মেট্রিকটন চাল চার হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার এবং ১৪ লাখ ৫০ হাজার নগদ অর্থ বরাদ্দ করেছে ।
এদিকে আশ্রয়কেন্দ্রে মেডিকেল টিমের কোন দেখা মেলেনি। কোন বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ নেই। ফলে বন্যা কবলিত মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে ।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র