Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

শেরপুরে ট্রাকচাপায় কাঠমিস্ত্রি নিহত

শেরপুরে ট্রাকচাপায় কাঠমিস্ত্রি নিহত
ট্রাকচাপায় নিহত কাঠমিস্ত্রি বিপুল
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
শেরপুর


  • Font increase
  • Font Decrease

শেরপুরে ট্রাকচাপায় পিষ্ট হয়ে বিপুল (৩০) নামে এক কাঠমিস্ত্রি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ওই কাঠমিস্ত্রির ভাই আমিন (৪৫)।

সোমবার (১৭ জুন) দিবাগত রাত ১১টার দিকে শেরপুর শহরের অষ্টমীতলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ট্রাকের হেলপারকে পুলিশ আটক করলেও পলাতক রয়েছেন ট্রাকটির চালক।

নিহত ও আহতরা সম্পর্কে দুই সহোদর, তারা অষ্টমীতলা এলাকার নাহের উদ্দিনের ছেলে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রাতে নিজেদের ফার্নিচারের দোকানের সামনে কাজ করছিলেন সহোদর আমিন ও বিপুল। এ সময় ময়মনসিংহ থেকে শ্রীবরদীগামী ইমাদ এন্টারপ্রাইজের একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে ওই দুইজনকে চাপা দেয়।

এতে গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা ছোট ভাই বিপুলকে মৃত ঘোষণা করেন এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় বড় ভাই আমিনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

শেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় ঘাতক ট্রাকটি জব্দ করে হেলপারকে আটক করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী

সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী
সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

যমুনা নদীর পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে বিপদসীমার ৯৮ সেন্টিমিটার ও কাজিপুর পয়েন্টে ১৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতি হয়েছে। মাত্র ছয় থেকে সাতদিনে সিরাজগঞ্জ জেলার ৩৬টি ইউনিয়নের ২৭৭ গ্রামসহ দুটি পৌরসভা প্লাবিত হয়ে আড়াই লাখ পানিবন্দী মানুষ মানবেতর জীবনযাপন করছে। প্রতিদিন যমুনার পানি বাড়ছে-সাথে বাড়ছে মানুষের দুর্ভোগও। 

রান্নাঘরসহ চুলা তলিয়ে যাওয়ায় কোনো রকমে একবেলা খেয়ে দিনপার করছে। বিশেষ করে শিশুদের ভুগতে হচ্ছে খাদ্যকষ্টে। টিউবওয়েল তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। টয়লেট তলিয়ে যাওয়ায় নারীদের দুর্ভোগ সীমাহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। সারাক্ষণ পানির মধ্যে থাকায় হাত-পায়ে ঘা দেখা দিয়েছে বন্যা দুর্গতদের।

চরাঞ্চলের কাওয়াকোলা ও মেছড়া, খাসরাজবাড়ী ও মুনসুরনগরসহ কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। আশ্রয় নেয়ার মতো উচু জায়গা না থাকায় চরাঞ্চলের বন্যা কবলিতরা শিশু সন্তানসহ গরু-ছাগল-হাঁস মুরগী নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।

খোকশাবাড়ী, পুঠিয়া বাড়ী, কাটেঙ্গা ও মেছড়া ও ভাটপিয়ারীসহ কয়েকটি গ্রামের বন্যাকবলিতদের অভিযোগ, দুর্ভোগে থাকলেও সরকারের পক্ষে প্রশাসন বা ইউপি মেম্বর-চেয়ারম্যানসহ জনপ্রতিনিধি-প্রশাসন কেউ আমাদের খোঁজ নেয়নি। কিছু কিছু স্থানে দশ কেজি করে চাল দেয়া হলেও অধিকাংশ বন্যা কবলিতরা বঞ্চিত রয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563458107680.jpg

এ দিকে সরকারি তথ্যে, মাত্র সাতদিনের বন্যায় ইতোমধ্যে দেড়-দুই হাজার পরিবার সম্পূর্ণ ঘরবাড়ি-বসতভিটা হারিয়েছে। আর প্রবলস্রোতের কারণে প্রায় ৩০ হাজার ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৬৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখনো পানির নীচে রয়েছে। প্রায় ৩০০ কিলোমিটার রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আট হাজার হেক্টর জমির ধান-পাট ও সবজি ক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে।

অন্যদিকে, পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার কাজিপুরে খাসরাজবাড়ী বাজারে বন্যার পানিতে  তলিয়ে থাকা প্রায় ২০টি বসতবাড়ী-দোকানপাট মালামালসহ যমুনায় ডুবে গেছে। সর্বস্ব খুইয়ে মানুষগুলো এখন দিশেহারা। এছাড়াও এনায়েতপুরের আড়কান্দি ও চৌহালীর খাসপুকুরিয়া এবং কাজিপুরের শুভগাছা, পাটাগ্রাম, সদর উপজেলার কাওয়াকোলাসহ বেশ কয়েকটি পয়েন্টে ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। পানির প্রবল চাপের কারণে শহরসহ উপজেলা রক্ষাবাঁধগুলোও হুমকিতে রয়েছে।

সোনাগাছা ইউনিয়েন পারপাচিল গ্রামের সানোয়ার হোসেন জানান, বাড়ি ঘরে পানি ওঠায় বাঁধে আশ্রয় নিয়েছি। ঘর তৈরি কারার মত টিনও নাই তাই রাতে মশারি টাঙ্গিয়ে ঘুমাই। বৃষ্টি হলে সারা রাত বৃষ্টিতে ভিজে নির্ঘুম রাত্রী যাপন করছি। রান্নাঘরসহ চুলা তলিয়ে যাওয়ায় রান্না করতে পারছি না।

খাসরাজবাড়ী ইউপি চেয়ারম্যান জহুরুল ইসলাম জানান, তিনদিন আগে খাসরাজবাড়ী বাজারে পানি ওঠে। কিন্তু বৃহস্পতিবার দুপুরে হঠাৎ করে ভাঙন শুরু হয়। মুহূর্তের মধ্যে ভাঙনে দোকান-পাট ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মালামালসহ ডুবে যায়।

জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন জানান, সরকার বন্যা কবলিতদের পাশে সবসময় রয়েছে। ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত সব উপজেলায় ত্রাণ সামগ্রী বরাদ্দ ও বিতরণ শুরু হয়েছে। হয়তো কোন কোন এলাকায় বিতরণ করতে একটু সময় লাগছে। আশা করছি পর্যায়ক্রমে সব বন্যা কবলিত মানুষ ত্রাণ সামগ্রী পাবে।

পানির নিচে ফসলি জমি, দাম বেড়েছে সবজির

পানির নিচে ফসলি জমি, দাম বেড়েছে সবজির
তলিয়ে যাওয়া ফসলি মাঠে মাথা বের করে আছে পাট গাছ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গত কয়েক দিনে যমুনা ও বাঙ্গালী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে তলিয়ে গেছে বগুড়ার ফসলি জমি। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে বিভিন্ন ধরনের সবজি এবং কাঁচা মরিচের জমি। এতে বাজারে সবজির দাম বেড়েছে কয়েকগুণ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বন্যা কবলিত এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ শুধু পানি আর পানি। তবে দু-এক জায়গায় মাথা বের করে থাকা পাট গাছ দেখে বোঝা যায় যে, এটি ফসলের মাঠ।

জানা গেছে- পূর্ব বগুড়ার গাবতলী, সারিয়াকান্দি ও সোনাতলা উপজেলায় প্রচুর পরিমাণ সবজি ও মরিচ চাষ হয়ে থাকে। স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পর ওই সবজি শহরে বিক্রি হয়। কিন্তু বন্যায় পূর্ব বগুড়ার সবজি শহরে আসছে না। এ কারণে গত কয়েকদিনে সবজির দাম বেড়েছ কয়েকগুণ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563454852700.jpg

বৃহস্পতিবার বগুড়ার বিভিন্ন হাট বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, বেগুন ৬০ টাকা, কচুর মুখি ৫০ টাকা,করলা ৬০ টাকা,কাকরোল ৬০ টাকা, ঢেড়শ ৬০ টাকা, পটল ৩০ টাকা, মিষ্টি লাউ ৩০ টাকা, পুইশাক ২০ টাকা, লাল শাক ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণত এ সময় সবজির দাম হতো এর অর্ধেক।

জেলা প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী- বন্যা কবলিত সোনাতলা, সারিয়াকান্দি ও ধুনট উপজেলায় ৮ হাজর ৯৭৮ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে আউশ ধান, বিভিন্ন ধরনের সবজি, মরিচ, আমন বীজতলা ও আখ।

এদিকে, বাঙ্গালী নদীর পানি বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যায় ফসলি জমির পাশাপাশি ওই তিন উপজেলার চরাঞ্চলের মানুষগুলো পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

অন্যদিকে, যমুনা নদীর পানিও বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ৩টা পর্যন্ত পানি বিপদসীমার ১২৭ সেন্টিমটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, আগামী শনিবার (২০ জুলাই) পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। এরপর পানি কমতে শুরু করবে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আজাহার আলী মন্ডল বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বন্যা দুর্গত এলাকায় ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে এবং ৩৩৭ মেট্রিক টন জিআর চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বিতরণের জন্য। এছাড়া জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে অতিরিক্ত ত্রাণের জন্য স্থানীয়ভাবে সারিয়াকান্দিতে ৫ লাখ, সোনাতলায় ২ লাখ এবং ধুনটে ১ লাখ টাকার শুকনো খাবারের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র