Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিজয়নগরে ইভিএমের যন্ত্রাংশ লুট

বিজয়নগরে ইভিএমের যন্ত্রাংশ লুট
ছবি: প্রতীকী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
ব্রাহ্মণবাড়িয়া


  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী তানভীর ভূঁইয়ার এজেন্টদের বিরুদ্ধে ভোটকেন্দ্র থেকে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের (ইভিএম) বিভিন্ন যন্ত্রাংশ লুটে নেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মঙ্গলবার (১৮ জুন) দুপুরে উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের সাতগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় এক ঘণ্টা ভোটগ্রহণ বন্ধ ছিল।

এ ঘটনার খবর পেয়ে ভোটকেন্দ্রে ছুটে যান জেলা প্রশাসক হায়াত-উদ-দৌলা খাঁন, পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন খান, বিজিবির ২৫ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মুহাম্মদ গোলাম কবির ও জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কেন্দ্রের এক এজেন্ট জানান, স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী নাছিমা মুকাই আলীর ঘোড়া প্রতীকে বেশি ভোট পড়ছে বুঝতে পেরে নৌকা প্রতীকের এজেন্টরা হঠাৎ করে আক্রমণ চালায়। এ সময় তারা ইভিএমের কয়েকটি মনিটর লুটে নিয়ে যায় এবং কয়েকজনকে মারধর করে।

সাতগাঁও মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা নূর মাহমুদ জানান, দুপুরে হঠাৎ করে কয়েকজন বুথে আক্রমণ করে। এ সময় তারা ইভিএমের সঙ্গে সংযুক্ত একটি মনিটর ভাঙচুরসহ ৪টি মনিটর লুটে নিয়ে যায়।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত লুটে হওয়া এভিএমের যন্ত্রাংশ উদ্ধার হয়নি।

আপনার মতামত লিখুন :

হুমায়ূন বিহীন ভালো নেই শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ

হুমায়ূন বিহীন ভালো নেই শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ তাঁর মা আয়েশা ফয়েজের কথামতো নিজগ্রাম নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার প্রত্যন্ত পল্লী কুতুবপুর গ্রামে প্রতিষ্ঠা করেন শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। 

১৯৯৬ সালে সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর বিদ্যালয়টির ভিত্তি প্রস্থর স্থাপনের পর মেহের আফরোজ শাওনের করা নকশা অনুযায়ী ২০০০ সালে ভবন নির্মাণ শেষে ২০০৬ সালে পাঠদান কার্যক্রম শুরু করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি নিয়ে অনেক স্বপ্ন ছিল হুমায়ূন আহমেদের। তিনি চেয়েছিলেন তাঁর এ প্রতিষ্ঠানটি দেশসেরা একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে। বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিয়মিতভাবে হুমায়ূন আহমেদ নিজে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের কাছে এসে তাদের খোঁজ-খবর নিতেন এবং বিদ্যালয়টি নিয়ে তাঁর স্বপ্নের কথা তাদের কাছে বর্ণনা করে শোনাতেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563543663660.jpg
প্রতিষ্ঠানকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যেতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা 

 

২০১২ সালে হুমায়ূন আহমেদের প্রয়াণের পর অনেকটা হোঁচট খায় এ প্রতিষ্ঠানটি। মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন বিদ্যালয়টির শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসী। তবে হুমায়ূনপত্মী মেহের আফরোজ শাওন স্বামীর অসমাপ্ত স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ করছেন। হাল ছাড়েননি শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। তারা হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের প্রতিষ্ঠানকে সফলতার শীর্ষে নিয়ে যেতে নিরলস চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা বলেন, '২০১৯ সালে বিদ্যালয়টির অভিভাবক হুমায়ূন আহমেদকে ছাড়া সাত বছর পার করেছে। বিদ্যালয়টির প্রতিটি স্থাপনার সাথে জড়িয়ে রয়েছে হুমায়ূন আহমেদের নানা রকম স্মৃতি। সেই সব স্মৃতিকে পাথেয় করেই সফলার পথ ধরে এগিয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। এছাড়া বিদ্যালয় মাঠের এক পাশে রয়েছে শহীদ স্মৃতি ফলক। যা কবি শামসুর রাহমান উদ্বোধন করেন।'

শহীদ ফয়জুর রহমান সড়ক ঘেঁষে অবস্থিত বিদ্যালয়টিতে রয়েছে বিশাল মাঠ। কিন্তু মাটি ভরাট না করায় পানি জমে থাকে। বিদ্যালয়টিতে হুমায়ূন আহমেদের পিতা শহীদ ফয়জুর রহমান আহমেদের নামে একটি বিশাল পাঠাগার, কম্পিউটার ল্যাব ও বিজ্ঞানাগার রয়েছে। কম্পিউটার ল্যাবে থাকা ১২টি কম্পিউটারের মধ্যে ৮টি কম্পিউটারই অকেজো রয়েছে বলে জানান বিদ্যালয়টির আইসিটি শিক্ষক।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563543581536.jpg
হুমায়ূন আহমেদের প্রতিষ্ঠিত শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠ বিদ্যালয় 

 

প্রথমে মাত্র ৪০ শিক্ষার্থী নিয়ে বিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করলেও বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে ছাত্রছাত্রী রয়েছে ৩৬৭ জন। এদের মধ্যে ছাত্র ২২০ জন ও ছাত্রী সংখ্যা রয়েছে ১৪৭ জন। পাঠদান কার্যক্রমের জন্য শিক্ষক রয়েছেন ১৫ জন এবং কর্মচারী রয়েছেন ৩ জন।

প্রতি বছরই জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষায় এ বিদ্যাপীঠের শিক্ষার্থীরা শতভাগ সফলতা অর্জনসহ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক জিপিএ-৫ লাভ করে আসছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রায় সত্তর ভাগ ছাত্রছাত্রীই দূর-দূরান্ত থেকে বাইসাইকেলে করে প্রতিদিন বিদ্যালয়টিতে যাতায়াত করে বলেও জানান স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবে এলাকার অধিকাংশ রাস্তা যাতায়াতের অনুপযোগী হওয়ায় শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এছাড়া এক যুগেরও বেশি সময় পেরিয়ে যাওয়ায় বিদ্যালয়ের একমাত্র ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ভেঙে গেছে শ্রেণিকক্ষের জানালার কাচ। যে কারণে বৃষ্টি এলেই শিক্ষার্থীরা ক্লাস করতে পারে না। পানি ঢুকে শিক্ষার্থীদের বই, খাতাসহ তাদের জামা কাপড় ভিজে নষ্ট হয়ে যায়।

বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষক শরীফ আনিস রহমান বলেন, 'অচিরেই বিদ্যালয়টি এমপিওভুক্ত করা হবে বলে বিভিন্ন মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে আশ্বাসের বাণী শোনা গেলেও আজও তা হয়নি। এ অবস্থায় শিক্ষকরা মানবেতর জীবন যাপন করেন।'

শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর দাবি, সরকার যেন হুমায়ূন আহমেদের স্বপ্নের এ প্রতিষ্ঠানটির দিকে সুনজর দেন এবং বিদ্যালয়টিকে এমপিওভুক্তির আওতায় নিয়ে আসেন।

 https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563543539355.jpg

 

শহীদ স্মৃতি বিদ্যাপীঠের প্রধান শিক্ষক আসাদুজ্জামান বলেন, 'শত প্রতিকূলতা স্বত্বেও শিক্ষকদের নিরলস চেষ্টার ফলে শিক্ষার্থীরা শতভাগ সফলতা অর্জন করে আসছে। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটি  সেরা প্রতিষ্ঠান হওয়ার সম্মানও লাভ করেছে। প্রতিষ্ঠানটির বয়স এক যুগ পেরিয়ে গেছে।'

এদিকে এমপিওভুক্ত না হওয়ায় শিক্ষকরা পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে রয়েছেন। সম্প্রতি স্থানীয় সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে এমপিওভুক্তির বিষয়ে শিক্ষকদের আশ্বস্ত করেছেন বলে জানান বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। 

ত্রাণের চাইতে গাইবান্ধার মানুষের নজর বেশি বাঁধের দিকে

ত্রাণের চাইতে গাইবান্ধার মানুষের নজর বেশি বাঁধের দিকে
বন্যাদুর্গত ফুলছড়িতে হেলিকপ্টারের ওঠা-নাম দেখতে ভিড় জমিয়েছে স্থানীয়রা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ফুলছড়ি (গাইবান্ধা) থেকেঃ ব্রহ্মপুত্র নদ, তিস্তা, যমুনা, ঘাঘট, বাঙালি নদীর জেলা গাইবান্ধা। দিনভর এই জেলার বিভিন্ন বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে ঘুরে মনে হয়েছে এ অঞ্চলের মানুষ যতটা না ত্রাণ চায়, তার চেয়ে বেশি প্রত্যাশা দ্রুত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ মেরামতের।

শুক্রবার (১৯ জুলাই) বিকালে দেখা যায়, গাইবান্ধা জেলা শহরেও ঢুকে গেছে বন্যার পানি। জেলা জজের বাসা থেকে সরকারি বিভিন্ন স্থাপনার চারপাশ জলমগ্ন। স্থানীয়রা বলছেন, বন্যা যে আসবে, সেটি তারা জানতেন। কিন্তু এভাবে বানের জল যে শহর প্লাবিত করবে, তা তাদের ভাবনাতেও আসেনি।

শহরতলীর বাসিন্দা আশরাফ হোসেন ক্ষোভের সাথে জানান, বাঁধগুলো যে নাজুক, এটা মাথায় রাখেনি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্তারা। জেলা শহর থেকে ফুলছড়ি, সর্বত্রই থৈ থৈ পানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563542210921.gif
বন্যাদুর্গত এলাকা পরিদর্শনে দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

নদীর পাড়ের মানুষদের কাছে বন্যা প্রতি বছরের নিয়তি। নিজেরাই সময়মতো আশ্রয় খুঁজে নিয়েছেন। মজুদ রেখেছিলেন আপদকালীন খাদ্যশস্য। বলছিলেন উপজেলার ফজলুপুর ইউনিয়নের পশ্চিম খাটিয়া বাড়ি গ্রামের মরিচা বেগম সহ বেশকিছু আশ্রিত বানভাসী।

ত্রাণের জন্য তেমন হাহাকারও নেই এখানকার দুর্গত মানুষদের। বিষয়টি এমন, সরকারি অথবা মানবিক ত্রাণ সহায়তা পেলে ভালো, না পেলেও আফসোস নেই। দিন চলে যাবে।

গাইবান্ধার এই বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে হাজির হয়েছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান। সঙ্গে ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার অ্যাড. ফজলে রাব্বী মিয়া, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে সিনিয়র সচিব মো: শাহ্ কামাল, আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী সহ প্রশাসনের ঊদ্ধর্তন কর্মকর্তারা।

ত্রাণ নিয়ে বাড়তি হৈচৈ বা ত্রাণের জন্য হামলে পড়া- এমন দৃৃশ্য কল্পনাও করে না এ অঞ্চলের মানুষ। কেন? দুর্যোগ সহনশীলতা। দুর্যোগে নিজেদের সামর্থ্য নিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। যে কারণে ত্রাণ নিয়ে বাড়তি হাহাকার নেই এখানে- বলছিলেন স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আবু হানিফ।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563542312611.gif

ইউপি চেয়ারম্যানের বক্তব্যের সত্যতা মিলল, জেলা শহরের মাঠে। যেখানে হেলিকপ্টার নেমেছে, সেই আকাশযান দেখার জন্য জড়ো হয়েছিল কয়েক হাজার মানুষ। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে বাড়ির ছাদে, মাঠে বসে বা দাঁড়িয়ে উপভোগ করছিলেন হেলিকপ্টারের অবতরণ আর উড্ডয়ন।

সমাবেত এই মানুষদের সংখ্যা নি:সন্দেহে কয়েক গুণ বেশি ছিল ত্রাণ প্রত্যাশী বানভাসী মানুষদের তুলনায়। যা প্রমাণ করে এই অঞ্চলের মানুষদের সক্ষমতা। তবে ত্রাণের চাইতে হেলিকপ্টার দর্শনেই কি আগ্রহ বেশি এই জনপদের বানভাসী মানুষদের? বলতে পারেন তেমনই। গত তিনদিন ধরে এখানে কাজ করছি। এ অঞ্চলের মানুষরা আসলে ত্রাণ চায় না, চায় বাঁধ মেরামত এবং সেটা হওয়া চাই টেকসই- বলছিলেন ঢাকার একজন গণমাধ্যম কর্মী।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র