অ্যাম্বুলেন্স আছে চালক নাই, চালক আছে গাড়ি নাই

মনিরুজ্জামান বাবলু, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, চাঁদপুর, বার্তা২৪.কম
চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স। ছবি: বার্তা২৪.কম

চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অ্যাম্বুলেন্স। ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

রোগীদের সেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স আছে। কিন্তু চালক নাই। আবার হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার নতুন বরাদ্দের পাজেরো গাড়ি আসার আগেই চালক হাজির। এমন গাফিলতির দায়ভার কে নেবে এই প্রশ্ন এখন চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলাবাসীর।

বলছিলাম চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কথা। এখানে অ্যাম্বুলেন্স আছে চালক নাই। আবার চালক আছে গাড়ি নাই।

চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর অভিভাবকরা বলছেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আহতসহ মুমূর্ষু রোগীদের বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তর করতে অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে ঝামেলায় পড়তে হয়।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ওই হাসপাতালে প্রতি মাসে গড়ে ১২ হাজার রোগী সেবা নিয়ে থাকেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি মেরামতের অযোগ্য হিসেবে গত ৫ বছর যাবৎ হাসপাতালের গ্যারেজে পড়ে ছিল। পরবর্তীতে স্থানীয় সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলামের প্রচেষ্টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন অ্যাম্বুলেন্স দেন। যা গত বছরের ২৩ অক্টোবর সংসদ সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। কিন্তু চালকের অভাবে এই উপজেলার ৪ লাখ জনগোষ্ঠীর কোনো কাজে আসছে না অ্যাম্বুলেন্সটি।

হাসপাতালটি জেলার মধ্যবর্তী স্থান ও কুমিল্লা-চাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এবং রেলপথ, স্থলপথ ও নদীপথের সংযোগ থাকার কারণে পার্শ্ববর্তী উপজেলা কচুয়া, শাহরাস্তি, ফরিদগঞ্জ, মতলব ও চাঁদপুর সদর এবং লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার একাংশের জনগণ স্বাস্থ্য সেবা নিতে প্রতিনিয়ত ছুটে আসেন এই হাসপাতালে।

তবে কবে নাগাদ চালক নিয়োগ হবে তা জানেন না উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ারুল আজিম। তিনি জানান, জরুরি মুহূর্তে রোগীর জন্য অ্যাম্বুলেন্স সেবা না পাওয়াটা কষ্টদায়ক। বিশেষ করে আর্থিকভাবে অসচ্ছল পরিবারের লোকদের জন্য। এ বিষয়ে সংসদ সদস্য মেজর অব. রফিকুল ইসলাম বীরউত্তমসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে।

তিনি আরও জানান, হাজীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার জন্য নতুন পাজেরো গাড়ি বরাদ্দ হয়েছে। অথচ গাড়ি আসার আগেই চালক নিয়োগ হয়েছে। এখন চালক আছে, গাড়ি নাই।

এদিকে নিয়োগকৃত চালক হারুন বলেন, ‘আমি এখন হাসপাতালের রোগীদের স্বার্থে স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার অনুরোধে অ্যাম্বুলেন্স চালাই।’

আপনার মতামত লিখুন :