Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

৮ কোটি টাকা নিয়ে নিরুদ্দেশ ঈশ্বরদীর ছাত্রদল সভাপতি

৮ কোটি টাকা নিয়ে নিরুদ্দেশ ঈশ্বরদীর ছাত্রদল সভাপতি
ছাত্রদল সভাপতি, ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
পাবনা


  • Font increase
  • Font Decrease

সাউথ ইস্ট ব্যাংক পাবনার ঈশ্বরদী শাখার প্রায় ৬ কোটি টাকা নিয়ে ‘নিরুদ্দেশ’ হওয়া ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরুল কায়েস সুমনের জমি, বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ সকল সম্পত্তি অবশেষে নিলামে তুলছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

সাউথ ইস্ট ব্যাংক ঈশ্বরদী শাখার বর্তমানে দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার মনসুর আহমেদ বার্তা২৪.কমকে জানান, ব্যাংকের কাছে আমানত রাখা সুমনের ১২৮ দশমিক ৯৭ শতক জমিসহ তার বসত বাড়ি, সমিল, ভিটা, বাণিজ্যিক ভবন সবকিছুই নিলামে বিক্রি করার প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই নিয়ম অনুযায়ী চূড়ান্ত কার্যক্রমে যাবে ব্যাংক।

এদিকে ব্যাংকের এই টাকা খোয়া যাওয়ায় সাউথইস্ট ব্যাংকের ঈশ্বরদী শাখার ওই সময়ের দায়িত্বে থাকা ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদসহ ৪জন কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ইতোমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করেছে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। এ তথ্য নিশ্চিত করেন ম্যানেজার মনসুর।

এদিকে, ঈশ্বরদীর ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ‘ড্যাফোডিলস্’ এর মালিক আবদুল মান্নান টিপু জানান, উধাও হওয়ার আগে তার কাছে থেকে ২০ লাখ টাকা ধার নেন সুমন। প্রমাণ স্বরূপ সুমন তাকে ২০ লাখ টাকার একটি চেক প্রদান করে। নির্ধারিত সময়ের পরও টাকা ফেরত না দেয়ায় আদালতের মাধ্যমে সুমনের নামে উকিল নোটিশও পাঠান তিনি।

জানা গেছে, ঈশ্বরদী উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি ব্যবসায়ী ইমরুল কায়েস সুমনকে (৪০) গত ১১ এপ্রিল থেকে এখন পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া যায়নি। বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানান, ব্যাংক থেকে টাকা নেয়ার পর সুমন প্রথমে ভারতে এবং পরে মালয়েশিয়া অথবা অন্য কোনো দেশে পালিয়ে গেছেন।

ব্যাংক সূত্র জানায়, গত ১১ এপ্রিল দুপুরে সাউথ ইস্ট ব্যাংক ঈশ্বরদী শাখার তৎকালীন ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদের কাছ থেকে তিনি ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা নগদ গ্রহণ করেন। এই টাকা ওই দিন বিকেলেই ফেরত দিয়ে ঋণ সমন্বয় করার কথা ছিল। কিন্তু সন্ধ্যা পর্যন্ত টাকা জমা না দেয়া এবং সুমনের দুটি মোবাইল ফোনই বন্ধ থাকায় সাউথ ইস্ট ব্যাংক ঈশ্বরদী শাখার সে সময়ের ম্যানেজার মোস্তাক আহমেদের সন্দেহ হয়। তার বাড়িসহ সম্ভাব্য সবস্থানে খোঁজ-খবর নিয়ে সুমনের কোনো হদিস না পেয়ে তিনি বাদি হয়ে ঈশ্বরদী থানায় ওই দিন রাতে সুমনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন।

ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এই টাকাসহ ঈশ্বরদীর একাধিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান এবং কয়েকজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে ধার নেয়া আরও প্রায় ২ কোটি টাকাসহ প্রায় ৮ কোটি টাকা নিয়ে এখনো নিরুদ্দেশ রয়েছেন সুমন।

পুলিশ ও সাউথ ইস্ট ব্যাংকের নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ইমরুল কায়েস সুমন ঈশ্বরদী পৌরসভার ঠিকাদারি করার পাশাপাশি বিকাশ লিমিটেড, ইউনিলিভার বাংলাদেশ লি. এর ঈশ্বরদী এলাকার পরিবেশক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে ঈশ্বরদী ও আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যবসা করে আসছিলেন। সক্রিয়ভাবে বিএনপির রাজনীতি করার পাশাপাশি তিনি ‘স’ মিলসহ অন্যান্য একাধিক ব্যবসাও পরিচালনা করতেন। সাউথ ইস্ট ব্যাংক ঈশ্বরদী শাখা থেকে তিনি করাত কল, বিকাশ ও ইউনিলিভার ব্যবসা, পৌরসভার ঠিকাদারি কাজ পরিচালনাসহ নানা প্রয়োজনে বিভিন্ন সময়ে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা ঋণ নেন।

আপনার মতামত লিখুন :

পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই সন্তানসহ বাবার মৃত্যু

পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই সন্তানসহ বাবার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে সদর উপজেলার হাফিজাবাদ এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই ছেলেসহ বাবার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় হাফিজাবাদ ইউনিয়নে পানিমাছ পুকুরী মাহানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- পানিমাছ পুকুরী মাহানপাড়া এলাকার আইজুদ্দীনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৬৩) এবং তার দুই ছেলে নাজিরুল ইসলাম (৩৬) ও আশাদুল (২২)।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে একটি খালে কারেন্ট জাল বসিয়েছিলেন নাজিরুল। কিন্তু বৈদ্যুতিক তার পানিতে পড়ে যাওয়ায় জাল তুলতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে তার বাবা শহিদুল ইসলাম পানিতে নামলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এরপর নাজিরুলের ছোট ভাই আশাদুল তার বড় ভাই ও বাবাকে উদ্ধার করতে পানিতে নামলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই ছেলেসহ বাবাকে আহত অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের তিন জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু আক্কাস আহম্মেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান' এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

রায়পুরায় ডাকাতের গুলিতে গরু ব্যবসায়ী নিহত, গুলিবিদ্ধ ২

রায়পুরায় ডাকাতের গুলিতে গরু ব্যবসায়ী নিহত, গুলিবিদ্ধ ২
নিহত গরু ব্যবসায়ীর মরদেহ, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

নরসিংদীর রায়পুরার ডাকাতের গুলিতে মোন্তাজ উদ্দিন ( ৪০) নামে এক গরু ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুলিবিদ্ধ হয়েছের আরও দুই গরু ব্যবসায়ী।

শনিবার (২০ জুলাই) রাতে উপজেলার নিলক্ষা ইউনিয়নে চংপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদেরকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠানো হয়।

নিহত মোন্তাজ উদ্দিন রায়পুরার আব্দুল্লাহপুর গ্রামের সাধু মিয়ার ছেলে। আহতরা হলেন চরসুবুদ্ধি গ্রামের আসাদ মিয়া (৩০) ও রায়পুরায় বাহেরচর গ্রামের মানিক (৩৫)।

রায়পুরা থানা পুলিশ জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সলিমগঞ্জ বাজারের সাপ্তাহিক গুরুর হাট বসে। হাটে রায়পুরার নিলক্ষাসহ বিভিন্ন উপজেলার গরু ব্যবসায়ীরা গরু নিয়ে সলিমগঞ্জ বাজারে যায়। হাটে বেচাকেনা শেষে শনিবার রাতে গরু ব্যবসায়ীরা নৌকা যোগে নিলক্ষা আসছিলেন।

ব্যবসায়ীদের নৌকাটি নিলক্ষায় চরমধুয়া এলাকায় পৌঁছলে পেছন থেকে একটি স্পিডবোট নিয়ে ডাকাতরা তাদের ধাওয়া করেন। ওই সময় তারা জীবন বাঁচাতে নিলক্ষার চংপাড়া এলাকায় নৌকা ভিড়িয়ে নামার চেষ্টা করে। এ সময় ডাকাতরা ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ডাকাতের ছোড়া গুলি গরু ব্যবসায়ী মোন্তাজ উদ্দিনের মাথায় বিদ্ধ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

ডাকাতদের ছোড়া গুলিতে চরসুবুদ্ধি গ্রামের আসাদ মিয়া ও রায়পুরায় বাহেরচর গ্রামের মানিক মিয়া নামে আরও দুই গরু ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়। এ সময় তাদের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে ডাকাতদের ধাওয়া করে। পরে ডাকাতদল পালিয়ে যায়।

রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি ) মহসিনুল কাদির ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ডাকাতদের ছোড়া গুলিতে ঘটনাস্থলেই একজন নিহত হয়। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় পাঠায়।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র