তিস্তার পানি প্রবেশে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, লালমনিরহাট
কলা গাছের ভেলায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তা২৪

কলা গাছের ভেলায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নেওয়া হচ্ছে, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

টানা বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা ঢলে লালমনিরহাটের তিস্তার তীরবর্তী নদ-নদী পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো। জেলার পাঁচ উপজেলায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন।

হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বন্যায় হাটু পরিমাণ পানি জমেছে বেশকয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। আবার কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শ্রেণি কক্ষে প্রবেশ করেছে পানি। এতে বিদ্যালয়ে যেতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠানো অনিরাপদ হয়ে পড়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অভিভাবকরাও।

বুধবার (১৯ জুন) বিকেলে তিস্তার পানি কিছুটা কমলেও আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নে একটি উচ্চ বিদ্যালয়সহ পাঁচটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চারদিকে অথৈ পানি দেখা যায়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/19/1560959871639.jpg

বিদ্যালয়গুলো হলো- গোবর্দ্ধন হায়দারীয়া উচ্চ বিদ্যালয়, গোবর্দ্ধন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, আদর্শপাড়া এমএইচ সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, ইসমাইলপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাহাদুর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও গোবর্দ্ধন চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। এছাড়া হাতীবান্ধা ও কালীগঞ্জের অনেক বিদ্যালয়ে বন্যার পানিতে পাঠদানে বিঘ্ন ঘটে।

দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার তিস্তার পানি প্রবাহ বিপদ সীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যার সৃষ্টি হয়। এ পয়েন্টে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ৫২ দশমিক ৬০ সেন্টিমিটার। তবে মধ্যরাত থেকে পানি প্রবাহ কমতে থাকে। বুধবার সকাল ৯টায় এ পয়েন্টে পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার, যা বিপদ সীমার ৩৫ সেন্টিমিটার নিচে।

আরও পড়ুন: হঠাৎ তিস্তার পানি বৃদ্ধি, ৫ হাজার পরিবার বন্দী

মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মতিয়ার রহমান বার্তা২৪.কমকে জানান, এ ইউনিয়নের ছয়টি বিদ্যালয়ে পাঠদানে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া কয়েকটি বিদ্যালয়ে শ্রেণি কক্ষে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পাঠদানে সম্পূর্ণরুপে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

গোবর্দ্ধন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শরিফা আক্তার জানান, বুধবার সকাল থেকে বিদ্যালয়ের সামনে পানি চলে আসে। দুপুরে আরও বাড়তে থাকে। তাই স্থানীয়দের সহায়তায় কলাগাছের ভেলায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে নিচ্ছেন তিনি।

তবে তিস্তায় পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় পাটগ্রাম ও হাতীবান্ধা মন উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি ঘটলেও বাকি তিন উপজেলায় অপরিবর্তিত রয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে পানি বা জেলায় বন্যা চলছে সেটা আমার জানা নেই। কেউ বিষয়টি বলেনি। তবে উপজেলা শিক্ষা অফিসারদের মাধ্যমে খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলায় কতটি বিদ্যালয় বন্যা কবলিত এলাকায় রয়েছে তা তিনি জানেন না বলেও জানান।

আপনার মতামত লিখুন :