শাহপরীর দ্বীপে উচ্ছেদ নোটিশ, আতঙ্কে ভূমিহীন জেলেরা

উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, টেকনাফ (কক্সবাজার)
উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে ভূমিহীন পরিবারের মানববন্ধন

উচ্ছেদ বন্ধের দাবিতে ভূমিহীন পরিবারের মানববন্ধন

  • Font increase
  • Font Decrease

কক্সবাজারের টেকনাফে বেড়িবাঁধ সংস্কার বা সীমান্ত নিরাপত্তা সড়ক নির্মাণ করার উদ্যোগ নিয়েছে কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। আর এজন্য শাহপরীর দ্বীপে জেলেপাড়ার ভূমিহীন দুই শতাধিক পরিবারকে সরকারি জমি থেকে উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

গত মঙ্গলবার পাউবোর পক্ষ থেকে এসব পরিবারের সদস্যদের সাতদিনের সময়ও বেঁধে দেওয়া হয়। ফলে উচ্ছেদ আতঙ্কে আছে বাঁধের পাশে নদীর তীরে যুগ যুগ ধরে বসবাস করা দুই শতাধিক ভূমিহীন জেলে পরিবার। তবে জেলেদের পক্ষ থেকে বর্ষা মৌসুমটা সময় চেয়ে পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার পাউবো কর্মকর্তারা জেলেপাড়ায় উপস্থিত হয়ে দুই শতাধিক পরিবারকে উচ্ছেদের নোটিশ দেন। কক্সবাজার পাউবোর উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. তাজুল ইসলাম স্বাক্ষরিত নোটিশে আগামী সাতদিনের মধ্যে বাঁধের আশপাশে নির্মিত ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, বুধবার (১৯ জুন) উচ্ছেদ অভিযান স্থগিত করার দাবিতে মানববন্ধন পালন করেন ভূমিহীন পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, নাফ নদের তীরে তাদের স্থায়ী বসতভিটা ছিল। কিন্তু নদের ভাঙনে তা বিলীন হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে তারা বেড়িবাঁধের পাশে অস্থায়ীভাবে বসতি স্থাপন করেছেন। ফলে এই বর্ষা মৌসুমে উচ্ছেদ করা হলে তাদের আশ্রয় নেয়ার কোন জায়গা থাকবে না।

জেলেপাড়ার বাসিন্দা আব্দুল গণি বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বেড়িবাঁধ সংস্কার বা সীমান্ত নিরাপত্তা সড়ক নির্মাণের উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। কিন্তু যে সময় দেওয়া হয়েছে তাতে অন্যত্র সরে যাওয়া সম্ভব না। তাই বর্ষা মৌসুমটা আমরা সুযোগ চাচ্ছি।’

সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুস সালাম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘নাফ নদের তীরে বেড়িবাঁধের পাশে দুই শতাধিক পরিবারের বসতি আছে। তাদের সবাই ভূমিহীন এবং দরিদ্র জেলে। নাফ নদে প্রায় দুই বছর ধরে মাছ ধরা বন্ধ থাকায় জেলেরা এমনিতেই মানবেতর জীবনযাপন করছে। তাই এ মুহূর্তে তাদের উচ্ছেদ করা হলে তারা অসহায় হয়ে পড়বে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এখানকার অধিকাংশ পরিবারের বাড়িঘর বা স্থাপনা ভেঙে নেওয়ার মতো আর্থিক সামর্থ্য নেই। তাই দারিদ্র্যসীমার নিচে বাস করা অসহায় ভূমিহীন জেলেদের ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করতে আগে তাদের পুনর্বাসনে সহযোগিতা করা দরকার।’

কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা উন্নত করতে উখিয়া ও টেকনাফের নাফ নদ বরাবর পোল্ডারগুলোর আওতায় বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। তাই কাজের স্বার্থে শাহপরীর দ্বীপের জেলেপাড়ায় বাঁধের ওপর গড়ে তোলা ঘরবাড়ি ও দোকানপাট সরিয়ে নিতে বলা হয়েছে।’

এ ব্যাপারে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল হাসান বলেন, ‘দরিদ্র জেলেদের পক্ষে বর্ষাকালে বেড়িবাঁধের পাশের স্থাপনা সরিয়ে নেওয়া কঠিন। তাই মানবিক বিবেচনায় উচ্ছেদের সময় বাড়ানো যেতে পারে।’

আপনার মতামত লিখুন :