Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

এসএসসি পরীক্ষার প্রশংসাপত্র নিতে ৪০০ টাকা

এসএসসি পরীক্ষার প্রশংসাপত্র নিতে ৪০০ টাকা
ফাইল ছবি।
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
পাবনা


  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের প্রশংসাপত্র দেওয়ার নামে জনপ্রতি ৪শ টাকা করে নেয়া হচ্ছে।

পাবনার ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এই চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, ঈশ্বরদী গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে এসএসসি পরীক্ষার প্রশংসাপত্র তৈরিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা খরচ হয়। তবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সঙ্গে যোগসাজশে অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে জোরপূর্বক ৪শ টাকা করে আদায় করছেন। ইতোমধ্যে ১২৮ জন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে ৫১ হাজার ২শ টাকা আদায় করা হয়েছে।

একাধিক শিক্ষার্থী জানায়, পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হতে প্রতিষ্ঠানের প্রশংসাপত্র প্রয়োজন হয়। সে লক্ষ্যেই প্রশংসাপত্র নেয়ার জন্য স্কুলে গিয়েছিল তারা। কিন্তু অফিস সহকারী তাদের কাছ থেকে জনপ্রতি ৪শ টাকা করে আদায় করেছে।

এ ঘটনায় অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মো. আসলাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের এই প্রতিষ্ঠানটি বেসরকারি এমপিও ভুক্ত। প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে অনেক খরচ হয়। তাছাড়া আমি যোগদানের পর থেকেই জেনেছি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্তেই এই টাকা আদায় করা হয়।’

এদিকে অন্যান্য পরীক্ষার সময়ও বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। তবে অভিযোগটি অস্বীকার করেন অধ্যক্ষ মো. আসলাম হোসেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা শিক্ষা অফিসার সেলিম আক্তার জানান, এভাবে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেয়ার নিয়ম নেই।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার আহাম্মদ হোসাইন ভূঁইয়া জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দেয়নি। খোঁজ নিয়ে ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :

প্লাবিত এলাকায় দোকানপাট বন্ধ, খাবার সংকট চরমে

প্লাবিত এলাকায় দোকানপাট বন্ধ, খাবার সংকট চরমে
প্লাবিত এলাকায় দোকানপাট বন্ধ খাবার সংকট চরমে, ছবি: সংগৃহীত

গাইবান্ধা থেকে: আসমা বেগম। তিন দিন ধরে অনাহারে আছেন। পানিবন্দী হয়ে ঘরে থাকায় চুলোয় রান্না করেনি। তার কোমর পানির মতো গ্রামের বেশ কিছু দোকান পানিতে ডুবে আছে। নিকটে দোকান থেকেও খাবার চিনতে না পারায় আসমা বেগমের মত প্লাবিত এলাকার অনেক মানুষই আছেন অনাহারে-অর্ধাহারে।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নের আনন্দবাজারে থাকেন লতিফ মিয়া। তিনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, পানি বাড়ার কারণে অনেক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ রেখেছে। এ কারণে কেউ কেউ প্রয়োজনীয় খাবার কিনে রান্নাবান্না করতে পারছে না। অনেকেই এখন ত্রাণের ওপর নির্ভরশীল।

দোকানপাট বন্ধ রাখার এ অবস্থা গাইবান্ধার সাত উপজেলার পানিবন্দী হাটবাজারে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে বন্যা কবলিত সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা ও ফুলছড়ি উপজেলার বেশিরভাগ বাজারগুলোতে কম সংখ্যক দোকান খোলা থাকতে দেখা গেছে।

জানা গেছে, গাইবান্ধার পানিবন্দী এলাকাগুলোতে শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বন্যা কবলিত এলাকার বেশিরভাগ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এই সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। প্লাবিত নিম্নাঞ্চলের মত শহরতলীর অনেক দোকানপাট বন্ধ রয়েছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563489852368.jpg

ব্যবসায়ীরা বলছেন, ক্রমশ পানি বাড়ায় ঘরবাড়ি ছেড়ে উঁচু রাস্তা ও বাঁধের ওপর অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন। এ সব মানুষদের ভিড়ে ছোট-বড় অনেক দোকান মালিক রয়েছেন। পানিবন্দী পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যস্ত থাকায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলছেন না তারা। তবে কিছু কিছু এলাকায় হাঁটু পানির নিচে ডুবে থাকা দোকানপাট খোলা রয়েছে।

সুন্দরগঞ্জের উত্তরপরাণের বানভাসি ইদ্রিস আলী বলেন, ‘কোনো ত্রাণ না পেলেও স্থানীয় এক ব্যবসায়ী বৃহস্পতিবার আশ্রিতদের মাঝে খিচুরি বিতরণ করেছেন। সব ব্যবসায়ী দোকান খোলা রাখলে অন্তত এই দূর্ভোগে পেটে কিছু খাবার দেয়া যাবে।

বর্তমানে গাইবান্ধার সাত উপজেলার এক লাখ পরিবারের অন্তত সাড়ে ৪ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দী রয়েছেন । এ সব মানুষদের মধ্য থেকে ১৬১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছে মাত্র ৬১ হাজার। বাকিরা নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দিশেহারা হয়ে উঠেছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের দাবি নৌযান সংকট থাকলেও পানিবন্দী মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। যা বিতরণ চলমান থাকবে।

বন্যা কবলিত এলাকায় নৌযান সংকট চরমে

বন্যা কবলিত এলাকায় নৌযান সংকট চরমে
বন্যা কবলিত এলাকায় নৌযান সংকট চরমে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধা থেকে: গত দুই সপ্তাহের বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে অস্বাভাবিকহারে পানি বেড়েছে ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র ও তিস্তা নদীতে। নদীর বুক উঁচিয়ে প্লাবিত হয়েছে গাইবান্ধা জেলার বহু চর চরদীপ ও নিম্নাঞ্চল। হু হু করে পানি বাড়ায় এখন শহরের অলিগলিও হাঁটু পানির নিচে। এতে করে বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে ভেঙ্গে পড়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা।

প্রতিদিন নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় গাইবান্ধার বন্যা কবলিত মানুষের পাশে ত্রাণ পৌঁছে দিতে নৌযানের সংকট তৈরি হয়েছে। এতে করে দুর্গম এলাকায় পানিবন্দী মানুষদের হাতে প্রশাসনের ত্রাণ পৌঁছানো কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু তাই নয় বন্যাকে ঘিরে নৌযান ব্যবসায়ীরাও ইচ্ছেমতো ভাড়া নিচ্ছেন।

গাইবান্ধার সাত উপজেলার এক লাখ পরিবারের অন্তত সাড়ে ৪ লাখ মানুষ এখন পানিবন্দী। এ সব মানুষদের মধ্য থেকে ১৬১টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছে মাত্র ৬১ হাজারের মতো মানুষ।

বন্যা পরিস্থিতির ক্রমশ অবনতি হওয়ায় চলাচলের জন্য ছোট-বড় ডিঙ্গি নৌকার কদর বেড়েছে। এদিকে নৌযান সংকটের কারণে বন্যার পানিতে ডুবে থাকা গ্রামে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের সহযোগিতা ও ত্রাণ সহসাই পাচ্ছেন না পানিবন্দী মানুষ। আবার কোথাও কোথাও নৌযান ব্যবসায়ীরা বন্যা কবলিত দুর্গম এলাকায় যেতে নারাজ বলে জানা গেছে।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563486291192.jpg

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার উদাখালী ইউনিয়নে তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। এখানকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মসজিদ-মাদরাসা সবই এখন পানির নিচে। অথৈ পানিতে ডুবে আছে দীর্ঘদিনের চেনা পথঘাটও। এই ইউনিয়নের আনন্দবাজারে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-এর সঙ্গে কথা হয় নৌকা চালক লালন মিয়ার। ইঞ্জিনচালিত নৌকার এই চালক বালাসীঘাট যেতে ৪ হাজার টাকা দাবি করেন।

হঠাৎ ভাড়া বেশি চাওয়ার যুক্তি হিসেবে বলেন, সাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মতো অশান্ত হয়ে উঠেছে ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র নদী। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব চরাঞ্চল নদী এলাকায় যেতে হচ্ছে। অন্য নৌকা চালকরাও যেতে চাচ্ছেন না। তাই মালিকের হিসেব মতো ভাড়া বেশি।

আনন্দবাজারের পাশে গলাকাঁচি দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে কথা হয় আনসার আলীর সাথে। সত্তর বছর বয়সী বৃদ্ধ জানান, তিন দিন ধরে অসুস্থ থাকার পরও নৌযান সংকটের কারণ এই শহরে যেতে পারছেন না তিনি।

এদিকে জেলা প্রশাসনের দাবি নৌযান সংকট থাকলেও পানিবন্দী মানুষদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণসামগ্রী মজুদ রয়েছে। যা বিতরণ চলমান থাকবে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র