Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

চিতলমারী এখন যেন এক মৃত্যুর উপত্যকা

চিতলমারী এখন যেন এক মৃত্যুর উপত্যকা
ছবি: সংগৃহীত
আবু হোসাইন সুমন
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বাগেরহাট
বার্তা২৪.কম


  • Font increase
  • Font Decrease

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা এখন যেন এক মৃত্যু উপত্যকায় পরিণত হয়েছে। এক এক করে এ পর্যন্ত ছয়টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে চিতলমারীতে। এ নিয়ে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে খুন আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সর্বশেষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে চিতলমারী বঙ্গবন্ধু মহিলা কলেজের উপাধ্যক্ষ ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো: কাওছার আলী তালুকদারের শিশু পুত্র খালিদ। ছয়টি হত্যাকাণ্ডের মধ্যে দুইটির কোনো রহস্য এখনও উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এছাড়া খুনিরাও রয়েছে ধরা ছোঁয়ার বাইরে।

গত ১৫ জুন সন্ধ্যায় চিতলমারীর চৌদ্দহাজারী গ্রামের বাড়ির পাশের ঈদগাঁ মাঠে খেলাধুলা শেষে বাড়ি ফেরার পথে নিখোঁজ হয় ছয় বছরের শিশু খালিদ। দু’দিন পর ১৭ জুন সন্ধ্যায় একই গ্রামের একটি মাছের ঘের থেকে ভাসমান অবস্থায় ওই শিশুর মরাদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ হত্যাকাণ্ডের মামলায় এজাহারভুক্ত চৌদ্দহাজারী গ্রামের বাদশা তালুকদার, কামরুল শেখ ও মেরি বেগমকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করে পুলিশ।

মালয়েশিয়া প্রবাসী জাকারিয়া শেখের স্ত্রী সাদিয়াকে গত ২৭ মে সন্ধ্যায় তার শ্বশুর বাড়ির লোকজন শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ করেন তার পিতা মো: হেদায়েত তালুকদার। পুলিশ লাশ উদ্ধার করলেও ময়না তদন্তের রিপোর্ট না আসায় হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন করতে পারেনি।

খিলিগাতী বাজারে গত ২ এপ্রিল বিকেলে প্রকাশ্যে ক্রিকেটের স্ট্যাম্প দিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন করা হয় কলেজ ছাত্র রুবেল হাওলাদারকে। মারধরে রুবেল জ্ঞান হারালে তাকে ফেলে চলে যায় দুর্বৃত্তরা। গত ৩ এপ্রিল রাতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রুবেল।

গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে পাওনা টাকা দেওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যাওয়ার দুইদিন পর কলাতলা  গ্রামের কৃষক আনোয়ার হোসের বস্তাবন্দি লাশ পার্শ্ববর্তী মাছুয়ারকুল  গ্রামের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। 

একই বছর ১৩ আগস্ট রাতে চিতলমারী থানার কাছে একটি পরিত্যক্ত ঘরে গলায় রশি পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে সবুজ বিশ্বাস নামের এক কলেজ ছাত্রকে তার দুই বন্ধু হত্যা করে। পরে গভীর রাতে লাশ থানার পাশের একটি ডোবার কচুড়িপানার মধ্যে ফেলে সবুজের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি নিয়ে ঘাতক সাব্বির ও লিমন পালিয়ে যায়। নিহত শান্তিখালী গ্রামের সবুজের বাবা পরিতোষ বিশ্বাস ছেলেকে না পেয়ে পরদিন থানা পুলিশকে জানায়। পুলিশ ৬ দিন পর গোপালগঞ্জ থেকে মোটরসাইকেলসহ দুই ঘাতককে আটকের পর তাদের দেখানো মতে সবুজের গলিত লাশ থানার পাশের একটি ডোবা থেকে উদ্ধার করে।

আমবাড়ী গ্রামের কৃষক মোসাদকে গত বছর মে মাসে তার বাড়িতে ঢুকার পথে রাতে সন্ত্রাসীরা শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ বাড়ির উঠানে ফেলে পালিয়ে যায়। লোকজনের পায়ের শব্দ পেয়ে বাড়ির লোকজন বাইরে এসে উঠানে মোসাদের লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পুলিশ এখনো এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে পারেনি।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অনুকুল সরকার বলেন, শিশু খালিদ হত্যা মামলার ৩ আসামির বিরুদ্ধে আদালতে রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে। বাকীদের ধরতেও পুলিশ তৎপর রয়েছে। রুবেল হত্যা মামলাটি ডিবি পুলিশ, আর আনোয়ার ও মোসাদ হত্যা মামলা সিআইডি তদন্ত করছে। এছাড়া গৃহবধু সাদিয়ার ময়না তদন্ত রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :

ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত

ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ধুলদী এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুলাই) ভোর ৬ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

এই ঘটনায় ট্রাকে থাকা আরো পাঁচ শ্রমিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নুরুল আলম জানান, ভোরের দিকে ঢাকা থেকে পিরোজপুরগামী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও পাইলিং এর মালামালসহ একটি ট্রাক ওই স্থানে উল্টে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, ট্রাক উল্টে যাওয়ায় শ্রমিকরা ট্রাকের মালামালের নিচে চাপা পড়েছিল, পরে ট্রাক সরিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

করিমপুর হাইওয়ে ফাঁড়ি ইনচার্জ জয়নুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাক ড্রাইভার ঘুমিয়ে পড়ায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মরদেহ কানাইপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে।

ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না দৌলতদিয়া ঘাটে

ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না দৌলতদিয়া ঘাটে
দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারাপার হয়। আর যাত্রী সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৫টি ফেরি ও ১৭টি লঞ্চ। আর ঘাটে রয়েছে ৬টি পল্টুন ও একটি লঞ্চ ঘাট।   

নদী পারাপারের জন্য ঘাট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা শর্তেও নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ভোগান্তি পিছু ছাড়ছেনা অপেক্ষারত যাত্রী, যানবাহনের চালক ও শ্রমিকদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563593312913.jpg
যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৫টি ফেরি ও ১৭টি লঞ্চ

 

গত ১০ দিন থেকে নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে অপেক্ষা করছে কয়েক হাজার যানবাহন। ট্রাক চালকদের সড়কেই নির্ঘুম রাত কাটছে দুই থেকে তিনদিন। আর টার্মিনালে কাটছে একরাত।

অন্যদিকে ঘাট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস নদী পার করছে বলে জানা যায়। তারপরও বাসগুলোকে কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রীরা। ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা না থাকায়ও বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563593399671.jpg
ঘাট পরিদর্শনে এসেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান এম মাহবুব-উল ইসলাম 

 

এদিকে ঘাটের ভোগান্তি থেকে সহসাই মুক্তি মিলবে বলে মনে করছে না সংশ্লিষ্টরা। দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি এখন বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর এ কারণে নদীতে দেখা দিয়েছে প্রবল স্রোত। বিআইডব্লিউটিএ বলছে বর্তমানে নদীতে ১২ কিলোমিটার বেগে স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। আর এই তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিগুলো স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারছেনা। দ্বিগুণ সময় লাগছে নদী পার হতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563593488217.jpg
বর্তমানে নদীতে ১২ কিলোমিটার বেগে স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে

 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিইটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, পদ্মা নদীর পানি দৌলতদিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতে স্রোতের বেগ অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। যার কারণে ফেরিগুলোর চলতে পারছেনা। যেগুলো চলছে সেগুলোও ধীর গতিতে। যার কারণে ঘাটে কয়েকদিন ধরে যানজট।

 বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান এম মাহবুব-উল ইসলাম ঘাট পরিদর্শনে এসে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ঘাট ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রয়েছে। নদীতে স্রোতের বেগ কমে গেলেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে ঘাটের যান চলাচল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563593579594.jpg
 দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম দৌলতদিয়া ঘাট  

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র