Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীদের চরম দুর্ভোগ

হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে রোগীদের চরম দুর্ভোগ
চিকিৎসকের কক্ষের সামনে রোগীদের দীর্ঘ লাইন, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
হবিগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

নানা অব্যবস্থাপনায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের। অভিযোগ আছে, চিকিৎসক সংকট এবং তাদের হাসপাতালে আসতে বিলম্ব হওয়ায় ভোগান্তি বেড়েছে বহুগুণ।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাসপাতালের আউটডোর বিভাগের সামনে সন্তানকে কোলে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন অনেক নারী-পুরুষ। লাইনটি দেখে দূর থেকে মনে হবে সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা গরীব মানুষদের অনুদান দিচ্ছে। কিন্তু এটা মূলত রোগীদের দীর্ঘ লাইন। বেলা ১টা পর্যন্ত ডাক্তার না আসায় হতাশ হয়ে ফিরে যেতে দেখা গেছে অনেক রোগীকে। আর ডাক্তার আসার অপেক্ষায় লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন অনেকেই।

জানা গেছে, হবিগঞ্জের ২০ লাখ ৮৯ হাজার মানুষের চিকিৎসার একমাত্র ভরসাস্থল হবিগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতালের আউটডোর বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট থাকায় দিনের পর দিন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে ২৫০ শয্যা এই হাসপাতালে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের।

অভিযোগ আছে, বেলা ১২টা থেকে আউটডোরে চিকিৎসা দেওয়ার কথা থাকলেও তারা আসেন বেলা ২টার দিকে। পরে এক ঘণ্টা চিকিৎসা দিয়ে বেলা ৩টার পর রোগীদের ফিরিয়ে দেন। এতে বিপাকে পড়েন দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ রোগীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jun/20/1561043815652.jpg

তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হঠাৎ করে চিকিৎসকদের বদলি করায় সংকট তৈরি হয়েছে। ফলে চিকিৎসা সেবা ব্যহত হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার দুপুর ২টার পর আউটডোরে আসা চিকিৎসক দীলিপ কুমার সরকার বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জুনিয়র মেডিসিন কনসালটেন্ট। হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট থাকায় এখানে আমাকে কয়েকদিনের জন্য আনা হয়েছে। কিন্তু জরুরি বিভাগে প্রচণ্ড ভিড় থাকায় এখানে আসতে দেরি হয়েছে।’

বানিয়াচং উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা আল আমীন বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘আমি সকাল থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। হাসপাতালের কোনো বিভাগেই ডাক্তারের খোঁজ পাইনি। সব ডাক্তাররা ব্যক্তিগত চেম্বার নিয়ে ব্যস্ত। বেলা ২টার দিকে ডাক্তার এসেছেন। এর মধ্যে অনেককে ফিরে যেতে দেখেছি।’

সদর উপজেলার রামপুর থেকে আসা রোগী আমেনা বেগম বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘কোনো দিন আইয়া (এসে) ঠিক সময় ডাক্তার পাই না। বইয়া (বসে) থাইকা থাইকা ওষুধ নেওয়ন লাগে। আর বেশি কুছতা (কিছু) কইলে (বললে) বেটকি (ধমক) মারে।’

এ বিষয়ে জানতে মোবাইলফোনে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রতিন্দ্র চন্দ্র দেবের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে ‘গাড়িতে আছি’ বলে ফোন কেটে দেন। এরপর কয়েকবার ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি।

আপনার মতামত লিখুন :

ডানাহীন সেই পাখি এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ ৪.৩৩

ডানাহীন সেই পাখি এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ ৪.৩৩
পুরনো ছবি

ফরিদপুরের নাঈমা সুলতানা পাখি। আর দশ জনের মতো নয়। একজন বিশেষ মানুষ। সব থাকতেও যেন কি যেন নেই। তাতে কি, পাখিকে দমিয়ে রাখা যায়নি। পাখি উড়ছে নিরবধি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পেয়েছেন জিপিএ ৪.৩৩।

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের নাদের হোসেন ও শাহেদা বেগম দম্পতির প্রথম সন্তান নাঈমা সুলতানা পাখি। জন্ম থেকে নানা রোগ ছিল দেহে। চিকিৎসার পর চিকিৎসা চলেছেই। এক পর্যায়ে বাবা-মা জানতে পারলেন অন্যসব রোগ ভালো হলেও পাখি উচ্চতায় খুব একটা লম্বা হবেন না। পাখির ২০ বছর বয়স, উচ্চতা মাত্র ২৮ ইঞ্চি।

পাখি পারিবারিক ও সামাজিক বাধা পেরিয়ে লেখাপড়া চালিয়ে যাচ্ছেন। ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজ থেকে ২০১৯ সালের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় ব্যবসা বাণিজ্য শাখা থেকে তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন।

ভবিষ্যতের স্বপ্ন নিয়ে পাখি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘বড় হয়ে সরকারি চাকরি করতে চাই। বিসিএস ক্যাডার হতে চাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘৯ বছর আগে বাবা যখন অসুস্থ হয়ে ঘরে পড়ে গেলো তখন আমার পড়ালেখা অনিশ্চিত হয়ে যায়। কিন্তু মা সব সময় পাশে ছিল। আর আমিও চেষ্টা করেছি। কখনো ছটো মনে করিনি নিজেকে। মানুষ হিসেবে লেখাপড়া করে গেছি।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563563395502.jpg

পাখি বলেন, ‘বাবার যে জমি জমা আছে সেসব বর্গা দিয়ে যে টাকা পয়সা পাই, তা দিয়ে কোনো রকম সংসার চলছে। তার উপর তিন বোনের লেখাপড়া চালানো মায়ের জন্য কষ্টকর। তবে আমি সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা ও উপবৃত্তি পাই। তা দিয়ে আমার লেখাপড়ার অনেকটা সহায়ক হয়। সকল বাধা পেরিয়ে আমার স্বপ্ন নিয়ে লেখাপড়া করে আমি এগিয়ে চলছি। আমি সকলের দোয়া চাই।’

পাখির মা শাহেদা বেগম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘পাখির আরও দুটি বোন আছে মেজ বোন হাফছা এবার এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। ছোট বোন ছামিয়া পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ে। স্বামী দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী।’

পাখির কলেজের অধ্যক্ষ আবদুল্লাহ আল মামুন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম বলেন, পাখি হয়তো আর দশ জনের মতো নয়। ক্লাসে প্রাণচাঞ্চল্য থাকতো সে। দেখা হলেই সবাইকে সালাম দেয়। লেখাপড়াও ভালো।’

তিনি জানান, পাখির লেখাপড়ার সুবিধার্থে মুসলিম মিশনে ফ্রিতে থাকা ও খাওয়া এবং লেখাপড়ার ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু এবার পাশ করে অনার্সে ভর্তি হলে পাখির আরও সাহায্যের প্রয়োজন হবে।

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার

ফরিদপুরে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে যুবক গ্রেফতার
ধর্ষণের অভিযোগে গ্রেফতারকৃত যুবক, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে (১২) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

এ ঘটনায় শুক্রবার (১৯ জুলাই) রাতে অভিযুক্ত বহুলুল বিশ্বাসকে (২৮) গ্রেফতার করেছে পুলিশ। গ্রেফতারকৃত বহুলুল উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের বাংরাইল গ্রামের আফছার বিশ্বাসের ছেলে।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে ওই স্কুলছাত্রী টয়লেটে যায়। এ সময় ওৎ পেতে থাকা বহুলুল টয়লেটে ঢুকে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। ওই ছাত্রীর চিৎকারে তার মা এগিয়ে গেলে ধর্ষক বহুলুল দৌড়ে পালিয়ে যান।

এ ঘটনায় সন্ধ্যায় শিশুটির মা বাদী হয়ে সালথা থানায় মামলা দায়ের করেন। রাত সাড়ে ৮টার দিকে বহুলুল বিশ্বাসকে তার গ্রামে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ।

সালথা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেলোয়ার হোসেন খান বলেন, ‘স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে বহুলুল বিশ্বাসকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধর্ষণের শিকার শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র