Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

নোয়াখালীতে যুবলীগের তিন নেতাকে বহিষ্কার

নোয়াখালীতে যুবলীগের তিন নেতাকে বহিষ্কার
বসুরহাট পৌরসভার বহিষ্কৃত যুবলীগ নেতারা, ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
নোয়াখালী


  • Font increase
  • Font Decrease

দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করার দায়ে নোয়াখালী কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভা যুবলীগের তিন নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২০ জুন) রাত ১০টায় উপজেলা ও পৌরসভা যুবলীগের এক যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আজম পাশা চৌধুরী রুমেল, পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি লুৎফুর রহমান মিন্টু ও উপজেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক গোলাম ছারওয়ার স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে জানানো হয়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা ও বসুরহাট পৌরসভা যুবলীগের যৌথ সিদ্ধান্ত মোতাবেক দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ করায় এবং প্রতিপক্ষের সাথে গোপন আঁতাতের অভিযোগে বসুরহাট পৌরসভা যুবলীগের তিন নেতাকে বহিস্কার করা হয়েছে।

বহিষ্কৃতরা হলেন- সহ-সভাপতি আশ্রারাফুল ইসলাম তুষার, পৌরসভা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ও বসুরহাট পৌরসভা ৪নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। 

এই বিষয়ে বহিষ্কৃত সহ-সভাপতি আশ্রারাফুল ইসলাম তুষার বলেন, 'আমাকে বহিষ্কারের আগেই আমি পৌরসভা যুবলীগের সভাপতি বরাবর পদত্যাগ পত্র দিয়েছি।'

আপনার মতামত লিখুন :

সাবেক সচিবের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর যত অভিযোগ

সাবেক সচিবের বিরুদ্ধে গ্রামবাসীর যত অভিযোগ
সাবেক অতিরিক্ত সচিব নুরুন্নবী মৃধার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করছেন তার এলাকার বাসিন্দারা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও বন কর্মকর্তা নুরুন্নবী মৃধার বিরুদ্ধে ভূমি দখলের অভিযোগ এনে শনিবার (২০ জুলাই) মানববন্ধনে দাাঁড়ায় তার নিজ এলাকা নাটোরের সদর উপজেলার দিঘাপাতিয়া ইউনিয়নের ভাতুরিয়া গ্রামের কয়েকশ বাসিন্দা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজ এলাকার অসহায় মানুষদের ভূমি দখল করতে দীর্ঘদিন যাবৎ হয়রানি করে আসছেন নুরুন্নবী। এলাকাবাসীর কাছে ভূমি দস্যু হিসেবে পরিচিত তিনি। তার দস্যুপনা থেকে রেহায় পাননি তার বোনও।

স্থানীয়রা বলছেন, হয়রানির উদ্দেশে সাত বছর ধরে দায়ের করা মিথ্যা মামলার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছে বিক্ষুদ্ধ মানুষ। নুরুন্নবী মৃধা কৌশলে ভূমি দখল, জোরপূর্বক স্বল্প মূল্যে জমি ক্রয়, প্রাচীর দিয়ে এলাকার মানুষের চলাচলের পথ বন্ধ করে দেওয়াসহ নানাভাবে হয়রানি করে চলেছেন। কেউ এর প্রতিবাদ করলে মামলা দিয়ে তাকে হয়রানি করছেন।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563624695506.gif
অবসরপ্রাপ্ত অতিরিক্ত সচিব নুরুন্নবী মৃধা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

 

সরেজমিনে দেখা যায়, নুরুন্নবী জমিতে দেয়াল তৈরি করে বন্ধ করে দিয়েছেন যুগ যুগ ধরে চলে আসা চলাচলের রাস্তা। সেখানে টানানো হয়েছে ‘চলাচল নিষেধ’ সম্বলিত সাইনবোর্ড। তার দেয়াল তোলার কারণে যাতায়াত করতে পারেন না স্থানীয়রা। এছাড়া সরকারি খাস জমি দখলেরও অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে।

ভাতুরিয়া গ্রামের আব্দুল হাকিম বলেন, ‘আমার জমি কেনার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন নুরুন্নবী। আমি বিক্রি না করায় তিনি আমার অফিসে গিয়ে আমাকে বদলি করার জন্য বার বার তদবির করেছেন। আমাকে ফোন দিয়ে ভয়ভীতি দেখান।’

একই গ্রামের শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘নুরুন্নবী মৃধার দেয়াল তোলার কারণে জমির আইল দিয়ে চলাফেরা করতে পারি না, মাঠ থেকে ফসল তুলতে পারি না।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563624768608.gif

স্থানীয় শাহিদা বেগম জানান, নুরুন্নবী মৃধা তার চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছে। প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে তিনটি মিথ্যা মামলা করেছে। আদালতে হাজিরা দিতে দিতে জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।

সরকারি খাস জমিতে বাস করা হাসনা জানান, তাদেরকে খাস জায়গা থেকে উচ্ছেদ করতে নানা ধরনের চক্রান্ত করছেন নুরুন্নবী। তার মৃত মাসহ তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন।

নুরুন্নবী মৃধার ভাগনে সামাদ পিন্টু জানান, তার মামা মুখে ভালো কথা বললেও আসলে দুর্নীতিবাজ। তার মায়ের জমিও ভোগ দখল করছেন তার মামা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563624786547.gif

এদিকে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নুরুন্নবী মৃধা বলেন, ‘অবসরে যাওয়ার পর এলাকার মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য এলাকায় একটা বোটানিক্যাল গার্ডেন করার কাজ করছি। কাউকে হয়রানি বা নির্যাতন করিনি।’

তার দাবি, গ্রামের মানুষই তার কাজে বাধা প্রদান করছে, হয়রানি করছে। তার সবকিছুই হান্ড্রেড পার্সেন্ট ঠিক।

তবে গ্রামের কোনো মানুষ তার সাথে না থেকে কেন বিপক্ষে অবস্থান নিলেন এমন প্রশ্নের কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি নুরুন্নবী মৃধা।

'ভাত-খিচুরি নয়, চাল-ডাল চাই'

'ভাত-খিচুরি নয়, চাল-ডাল চাই'
দু'বেলা খাবার জন্য চাল-ডালের দাবি করেন গাইবান্ধার বন্যা কবলিত মানুষেরা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধা শহরের ঘাঘট লেকে আশ্রয় নিয়েছে বন্যা কবিলত মানুষ। এখানে সরকারিভাবে পৌঁছেনি তেমন কোনো ত্রাণ সমাগ্রী। তবে পৌরসভার পক্ষ থেকে প্রতি রাতে খাবার হিসেবে দেওয়া হয় ভাত অথবা খিচুড়ি। এই নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছিলো আশ্রিত মানুষেরা। তারা দু'বেলা খেতে চাল-ডাল পাবার দাবি জানান।

জানা যায়, চলমান বন্যায় গাইবান্ধা শহরের ডেভিট কোম্পানিপাড়াসহ বেশ কয়েকটি পাড়া-মহল্লার বাসাবাড়িতে পানি জমেছে। ছয় দিন আগে এসব এলাকার ছিন্নমূল পরিবারের প্রায় এক হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে ঘাঘট লেকে। এটি সরকারিভাবে আশ্রয় কেন্দ্র খোলা না হলেও পরিস্থিতির শিকার মানুষরা নিজ উদ্যোগে আশ্রিত হয়েছেন। বন্যার পানির গ্রাসে তারা সহায় সম্বল হারিয়ে উঠেছেন এখানে। নিজের কেনা ঢেউটিন অথবা ট্রিপল দিয়ে তাঁবু বানিয়ে অতি কষ্টে দিনাতিপাত করছে তারা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623507817.jpg
বন্যার কবলে ঘাঘট লেকে আশ্রয় নিয়েছে গ্রামবাসী 

 

শনিবার (২০ জুলাই) দুপুরে সরেজমিনে আশ্রিত মানুষরা জানায়, এই ঘাঘট লেকে ছয়দিন ধরে বসবাস করে আসছে। এ থেকে প্রতিরাতে একবার গাইবান্ধা পৌরসভার পক্ষ থেকে খিচুড়ি অথবা ভাত বিতরণ করা হয়। শুধু মাত্র ছয় দিনের একদিন অর্ধ কেজি চিড়া-মুড়ি দিয়েছে। এছাড়া সরকারিভাবে কোনো ত্রাণ সমাগ্রীও দেওয়া হয়নি। ফলে ঘাঘট লেকের আশ্রিত মানুষরা খেয়ে না খেয়ে দিন কাটাচ্ছে।

আশ্রিত রুনা বেগম বলেন, বানের পানিতে সবকিছু হারিয়ে ঘাঘট লেকে উঠেছি। দৈনন্দিন রোজগারও চলছে না। এ কারণে দুবেলা পেট ভরে খেতেও পাচ্ছিনা। পৌরসভা থেকে একবার যে ভাত-খিচুরি দেয় সেটাও মানসম্মত নয়।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563623605416.jpg
'বন্যা দুর্গত মানুষদের জন্য সরকারি কোন ত্রান আসেনি'  

 

আরেক আশ্রিত মুন্নি বেগম চরম আক্ষেপ করে বলেন, শুনেছি বন্যা দুর্গত মানুষদের জন্য সরকার নানান ধরণের সহায়তা দিচ্ছে। কিন্তু এসব ত্রাণ কোথায় দিচ্ছে। আমরা পৌরসভার ভাত-খিচুড়ি চাই না। চাই সরকারি ত্রাণ ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা।

বানভাসি আবদুর রশিদ সরকার বলেন, বন্যার কবলে পড়ে ছয়দিন ধরে ঘাঘট লেকে আছি। আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি ত্রাণ পাওয়া যায়নি। এলাকার চারিদিকে পানি উঠেছে। কেউ কাজে ডাকে না। দৈনন্দিন রোজগারও করতে পাচ্ছি না। ফলে পরিবারের পাঁচ সদস্যকে বাঁচাতে দুর্ভোগে বিপদে আছি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) উত্তম কুমার রায় এর কাছে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র