Barta24

বুধবার, ১৭ জুলাই ২০১৯, ২ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

সরকারি গাছ কাটছে এমডি ফরিদ উদ্দিন কনস্ট্রাকশন

সরকারি গাছ কাটছে এমডি ফরিদ উদ্দিন কনস্ট্রাকশন
ছবি: বার্তা২৪.কম
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)


  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের অজুহাতে একাধিক সরকারি গাছ কাটছেন নির্মাণাধীন প্রতিষ্ঠান এমডি ফরিদ উদ্দিন কনস্ট্রাকশনের ঠিকাদার বাপ্পী দে।

সোমবার (২৪ জুন) দুপুরেও নির্মাণাধীন ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় দুটি রেইনট্রি গাছ কাটা হচ্ছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গৌরীপুর উপজেলার জেলখানা মোড় এলাকায় পুরাতন কারাগারের পাশে উপজেলা ফায়ার সার্ভিস স্টেশন নির্মাণের কাজ চলছে। নির্মাণ কাজ তদারকি করছে এমডি ফরিদ উদ্দিন কনস্ট্রাকশন নামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। নির্মাণ কাজের অজুহাতে ওই এলাকার একাধিক গাছ কেটে ফেলছেন ঠিকাদার।

সোমবার দুপুরে ফায়ার সার্ভিস স্টেশন এলাকায় গিয়ে দেখা যায় দুটি বিশাল রেইনট্রি গাছ কাটা হচ্ছে। গাছ কাটার তদারকি করছেন ঠিকদার বাপ্পী দের ছোট ভাই। গাছ কাটার অনুমতিপত্র আছে কিনা দেখতে চাইলে তিনি কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার বাপ্পী দে মোবাইল ফোনে জানান, গাছ কাটার লিখিত কোনো অনুমতি নেই। ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালকের মৌখিক নির্দেশেই ৬টি গাছ কাটা হয়েছে। আজ ২টি কাটা হচ্ছে। পূর্বের ৬টি কাটা গাছই চুরি হয়ে গেছে। এ ঘটনায় গৌরীপুর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে।

এদিকে থানায় ডায়েরিকৃত চুরি যাওয়া গাছের কিছু অংশের সন্ধান মিলেছে নির্মাণাধীন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের পার্শ্ববর্তী করাত কলে। আরও কিছু গাছের সন্ধান মিলেছে পরিত্যক্ত কারাগারের পাশে। সেগুলো ঠিকাদারের লোকজন রেখে গেছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।

ওই করাত কলের মালিক ইজ্জত আলী বলেন, ‘ঠিকাদারের লোকজন গাছ কেটে এখানে রেখেছে। আমি গাছ ক্রয় করি নাই, সরকারি গাছ কেনার প্রশ্নই আসে না।’

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দিমনি শর্মা জানান, ভবন তৈরি করেছে গণপূর্ত বিভাগ, গাছ কাটা, না কাটা সেটা গণপূর্ত বিভাগের। ভবন নির্মাণের পূর্বে আমরা কিছুই জানি না।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারহানা করিম জানান, সরকারি গাছ কাটার পূর্বে যথাযথ নিয়ম মানা উচিৎ ছিল।

আপনার মতামত লিখুন :

চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩

চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৩
প্রতীকী ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ জুলাই) ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আমানগন্ডা ও কালির বাজার এলাকায় এ দু’টি দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার পূর্ব ধনমুড়ির ওবায়েদুল্লাহর ছেলে নুরুল আলম জাবলু (৩৫), প্রাণ গ্রুপের বিক্রয় প্রতিনিধি ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের পড়ুয়া গ্রামের জুয়েল মোল্লার ছেলে জোবায়ের (২১) ও ফেনী জেলার কুমিড়া গ্রামের গিত্তলাল দাসের ছেলে শিমুল দাস (২০)।

চৌদ্দগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের ইনচার্জ ইমাম হোসেন পাটোয়ারী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, সকাল ৯টার দিকে চৌদ্দগ্রাম বাজার এলাকা থেকে বাই সাইকেলে করে মিয়াবাজার যাচ্ছিলেন জোবায়ের ও শিমুল। পথে মহাসড়কের আমানগন্ডা এলাকায় অজ্ঞাত একটি গাড়ির ধাক্কায় তারা রাস্তায় ছিটকে পড়েন। এতে ঘটনাস্থলেই শিমুল ও কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে জোবায়ের মারা যান।

অপরদিকে কালির বাজার এলাকায় অজ্ঞাত গাড়ির চাপায় মানসিক প্রতিবন্ধী নুরুল আলম জাবলু নিহত হন।

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্গতদের আহাজারি

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি, দুর্গতদের আহাজারি
গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে, প্লাবিত হচ্ছে নতুন এলাকা/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গাইবান্ধায় বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। ব্রহ্মপুত্র, ঘাঘট, যমুনা ও তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, সাঘাটা ফুলছড়ি, সাদুল্লাপুর উপজেলার বন্যাদুর্গত মানুষদের সহায় সম্বল ভেসে যাচ্ছে। নানান দর্ভোগে পড়ে তাদের মধ্যে আহাজারি শুরু হয়েছে।

বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে সরেজমিনে দেখা যায়, নদ-নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত কয়েক লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। সেই সাথে পানি তীব্র স্রোতে বেশ কিছু বাঁধ ও রাস্তা-ঘাট ভেঙে গেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563364202006.gif

গাইবান্ধা শহরের কোম্পানিপাড়ার বাসাবাড়িতে কোমর পানি জমেছে। শহরের পিকে বিশ্বাস রোডের ডিসি, এসপি ও দায়রা জজের বাসভনে হাঁটুপানি জমেছে। শহরে প্রবেশের প্রধান সড়কগুলো ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়েছে। বিশেষ জরুরি কাজে অনেকে বিকল্প সড়কে আবার কেউ ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে পায়ে হেঁটে যাতায়াত করেছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563364127351.gif

এদিকে পানিবন্দি মানুষরা বিভিন্ন আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। অনেকে উঁচু রাস্তায় অস্থায়ী ঘর তুলে বসবাস করছে। এসব জায়গা অনেকে স্থান না পেয়ে নৌকায় বা কলাগাছের ভেলায় দিন-রাত কাটাচ্ছে।

বন্যা কবলিত মানুষ গৃহপালিত পশুপাখি ও আসবাপত্র নিয়ে আশ্রয়ের খোঁজে ছুটছেন। এসব দুর্গত মানুষদের সরকারিভাবে নানান সহায়তা করা হলেও তা চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। বন্যা কবলিত মানুষদের খাদ্য ও আবাসনসহ বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

দূষিত পানি পানে বন্যাদুর্গতদের মাঝে বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে- এমন চিন্তায় মাথায় রেখে ইতোমধ্যে নিরাপদ পানি সরবারহে কাজ করেছেন বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি, গাইবান্ধা ইউনিটের স্বেচ্ছাসেবী কর্মীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563364150846.gif

এই পরিস্থিতিতে জেলার ৩০টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০০ গ্রামের প্রায় চার লাখ মানুষের সাড়ে ৩৫ হাজার ঘরবাড়ির ক্ষতি হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকার শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। প্রায় ১৫০ কিলোমিটার পাকা-কাঁচা রাস্তা ও বাঁধ এবং ১০টি ব্রিজ-কালভার্ট ভেঙে গেছে। ফসলহানি হয়েছে দুই হাজার একর জমির, ভেসে গেছে চার শতাধিক পুকুরের মাছ।

জেলা শিক্ষা অফিসার হোসেন আলী জানান, যেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি উঠেছে ঐসব প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/17/1563364177416.gif

পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘বুধবার সকাল পর্যন্ত ফুলছড়ি পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপদসীমার ১৩৫ সেন্টিমিটার বিপদসীমার উপরে প্রবাহিত হচ্ছে।’

জেলা প্রশাসক রোখসানা বেগম বার্তাটুয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘পানিবন্দি মানুষদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা করা হচ্ছে। দুর্গতদের ত্রাণ সামগ্রী মজুদ রয়েছে। যা বিতরণ চলমান থাকবে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র