Barta24

বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০১৯, ৩ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

গোপালগঞ্জে বিদ্যুৎস্পর্শে দুই গৃহবধূর মৃত্যু

গোপালগঞ্জে বিদ্যুৎস্পর্শে দুই গৃহবধূর মৃত্যু
ছবি: প্রতীকী
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
গোপালগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

 

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে আলাদা স্থানে বিদ্যুৎস্পর্শে দুই গৃহবধূর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ জুন) বিকালে ও দুপুরে মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষির ও কৃষ্ণাদিয়া গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।

নিহত গৃহবধূরা হলেন, মুকসুদপুর উপজেলার ননীক্ষির গ্রামের ওমান প্রবাসী সেলিম শেখের স্ত্রী জেসমিন বেগম (২৮) ও একই উপজেলার কৃষ্ণাদিয়া গ্রামের মো: হান্নান শেখের স্ত্রী মোছাঃ রুনা বেগম (৩২)।

ননীক্ষির ইউনিয়ন চেয়ারম্যান হাজী আসাদুজ্জামান মিনা জানিয়েছেন, আজ মঙ্গলবার বিকালে নিজ বাসায় টেলিভিশন চালানোর জন্য বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে যায় গৃহবধূ জেসমিন বেগম। এসময় অসাবধানতাবশত বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, মুকসুদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোস্তফা কামাল পাশা জানিয়েছেন, একই উপজেলার কৃষ্ণদিয়া গ্রামের নিজ বাড়িতে ফ্যানে বৈদ্যুতিক সংযোগ দিতে যায় গৃহবধূ রুনা বেগম। এ সময় বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে পড়ে মারাত্মক আহত হন। পরে পরিবারের লোকজন উদ্ধার করে মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আপনার মতামত লিখুন :

নেত্রকোনায় ছেলে ধরা সন্দেহে যুবক আটক

নেত্রকোনায় ছেলে ধরা সন্দেহে যুবক আটক
আটককৃত যুবক, ছবি: সংগৃহীত

ছেলে ধরা সন্দেহে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ফারুক মিয়া নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেলে উপজেলার হিরণপুর বাজার থেকে স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোর্পদ করে। আটককৃত ফারুক কুমিল্লার লাঙ্গলকোট উপজেলার ঢুবাই বাজার গ্রামের বাসিন্দা।

পুলিশ জানান, হিরণপুর বাজারে ফারুক মিয়ার ঘোরাফেরায় স্থানীয়দের কাছে সন্দেহজনক মনে হলে এলাকাবাসী তাকে আটক করে। শ্যামগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশকে খবর দিলে তাকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

এ বিষয়ে শ্যামগঞ্জ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ (পরিদর্শন) আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আটক যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেত্রকোনায় পাঠানো হয়েছে।’

কুড়িগ্রামে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দী, মিলছে না শুকনো খাবার

কুড়িগ্রামে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দী, মিলছে না শুকনো খাবার
কুড়িগ্রামে সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দী, মিলছে না শুকনো খাবার

গত ৫ দিন ধরে কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে ধরলা সেতুর পূর্বপাড়ে প্লাস্টিকের তাবু বানিয়ে বসবাস করছেন সদর উপজেলার পাঁচগাছী কদমতলা গ্রামের নাসরিন বেগম, জমিরন বেওয়া, ভোগডাঙ্গা ইউনিয়নের চর সবুজপাড়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম মজর আলীর পরিবারসহ শতশত পরিবার।

ঘর-বাড়ি বন্যার পানিতে তলিয়ে থাকায় এই সড়কের দুই ধারে আশ্রয় নিয়েছেন তারা। কিন্তু এই ৫ দিনে সরকারি বা বেসরকারি কোন সাহায্যই তাদের কপালে জোটেনি বলে জানান এই পরিবারগুলো।

শুধু কুড়িগ্রাম-ভুরুঙ্গামারী মহাসড়কে নয় এমন দৃশ্য এখন জেলার ৯ উপজেলার বন্যা কবলিত এলাকাগুলোর উঁচু সড়ক ও উঁচু বাঁধগুলোর। যেখানেই উঁচু বাঁধ বা পাকা সড়ক রয়েছে সেখানেই প্লাস্টিক বা কয়েকটি টিন দিয়ে ঝুপড়ি ঘর করে বসবাস করছে হাজারো পরিবার।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563460076717.jpg

আর যারা বন্যার পানির মধ্যেই বাড়িতে অবস্থান করছেন তারা সংসার পেতেছেন নৌকা বা ঘরের ভিতর উঁচু মাচানের উপর। বাঁধে বা পাকা সড়কে অবস্থান করা লোকজন একবেলা রান্না করে অথবা পার্শ্ববর্তী দোকান থেকে শুকনো খাবার কিনে খেতে পারলেও চরাঞ্চলের ঘর-বাড়িতে আশ্রয় নেয়া লোকজন নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তাদের সঞ্চিত শুকনো খাবারের উপর। তারা জানেন যে বন্যার পানি বড় জোড় ৪ থেকে ৫ দিন স্থায়ী হয়। এ কারণে এসব পরিবার বন্যার আগাম প্রস্তুতি হিসেবে ৪ থেকে ৫ দিনের শুকনো খাবারই সঞ্চয় করে রাখেন।

কিন্তু এবারের বন্যা তাদের ধারণার চেয়ে দীর্ঘ মেয়াদী হওয়ায় শুকনো খাবারের সংকটে পড়েছেন তারা। 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমর, ফুলকমরসহ ১৬টি নদ-নদী প্রবাহিত। প্রধান নদ-নদীর মধ্যে শুধু তিস্তার পানি কিছুটা হ্রাস পেয়ে বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে তিস্তার অববাহিকার বন্যা পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হলেও ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমরসহ বাকী নদ-নদীর অববাহিকার চরাঞ্চলগুলোর পানির নীচে থাকায় এসব এলাকার বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। এখনও ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ১০২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ১২৩ সেন্টিমিটার ও নুনখাওয়া পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্রের পানি বিপদসীমার ৯৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/18/1563460090084.jpg

অন্যদিকে জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৯ উপজেলার ৫৬টি ইউনিয়নের প্রায় ২ লাখ পরিবারের সাড়ে ৭ লাখ মানুষ পানিবন্দী জীবন-যাপন করছে।

এ অবস্থায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সহায়তা না পাওয়ায় বন্যা দুর্গত মানুষেরা শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে  না খেয়ে অবর্ণনীয় কষ্টে দিন পার করছে। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দেয়ায় নিজেদের খাদ্যের পাশাপাশি গবাদি পশুর খাদ্য নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বানভাসি মানুষজন।

পানিবন্দী মানুষের জন্য এ পর্যন্ত জেলা প্রশাসন থেকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে মাত্র ২ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার, ৫০০ মেট্রিক টন টাল ও ১৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং ৪শ ৫০টি তাবু বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল।

বন্যা দুর্গত মানুষের দুর্ভোগে বেসরকারিভাবে বা ব্যক্তি উদ্যোগে সামান্য পরিসরে ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়েছে।

কুড়িগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো: হাফিজুর রহমান জানান, নতুন করে বরাদ্দ চেয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে তা বন্যা কবলিত মানুষদের মাঝে দ্রুত বিতরণ করা হবে। বর্তমানে জিআর ক্যাশের টাকা দিয়ে উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে শুকনো খাবার কিনে বন্যা কবলিতদের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

বন্যার পানির প্রবল চাপে জেলার রৌমারী, রাজিবপুর, কুড়িগ্রাম সদর, নাগেশ্বরী, ভুরুঙ্গামারী, ফুলবাড়ী, চিলমারী ও উলিপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শহর রক্ষা বাঁধ ছিড়ে ও সড়ক-মহাসড়কের উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়ে তা ঢুকে পড়ছে উঁচু এলাকার গ্রামও হাটবাজারগুলোতে। বন্ধ করে দেয়া হয়েছে ৪ শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র