Barta24

শনিবার, ২০ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিতর্কের মুখে মোছা হলো শহীদ স্মৃতিফলকের নাম

বিতর্কের মুখে মোছা হলো শহীদ স্মৃতিফলকের নাম
ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
সাতক্ষীরা


  • Font increase
  • Font Decrease

বিতর্ক থাকায় নির্মাণের প্রায় ১৫ বছর পর মুছে ফেলা হয়েছে সাতক্ষীরা কালেক্টরেট চত্বরে স্থাপিত শহীদ স্মৃতিফলকের সব নাম। যাদের নাম ছিল তাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী মানুষ, এমন অভিযোগ থাকায় স্মৃতিফলক নির্মাণের পর থেকেই বিতর্ক শুরু হয়েছিল।

২০০৫ সালের মে মাসে ১২ লাখ ৪৬ হাজার ৭০০ টাকা ব্যয়ে ওই ফলক নির্মাণ কাজ শুরু করে গণপূর্ত বিভাগ। ওই বছরের ৯ জুন মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় ৩১ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার তালিকা সাতক্ষীরার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে পাঠায়। সেই তালিকা অনুযায়ী মার্বেল পাথরে নাম খোদাই করে বসানো হয়। একই বছরের ডিসেম্বরে কাজ শেষ হয়।

এ বিষয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড ইউনিটের সাবেক কমান্ডার মোশারাফ হোসেন মশু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘ফলকে যাদের নাম বসানো হয় তাদের মধ্যে কলারোয়ার বাগডাঙ্গা গ্রামের গোলাম রহমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী ও রাজাকার ছিলেন। এছাড়াও আশাশুনির রফিকুল ইসলাম ও মোজাম্মেল হক এবং তালার সৈয়দ আবুল হোসেন বেদার বখত মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি। আরও একাধিক নাম নিয়ে বিতর্ক থাকায় প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধারা এখানে শ্রদ্ধা জানাতে আসতেন না।’

উপজেলা কমান্ডার হাসানুল ইসলাম ও গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা কামরুজ্জামান বাবু বার্তা২৪.কমকে বলেন, ‘২০১২ সালে স্মৃতিফলক থেকে বিতর্কিতদের নাম মুছতে মুক্তিযোদ্ধারা সেখানে যান এবং কালি দিয়ে বেশ কিছু নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেন।’

মৃক্তিযোদ্ধাদের দাবি, স্মৃতিফলকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী রাজাকার ও অমুক্তিযোদ্ধার নাম থাকলেও ১৭ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার নাম স্থান পায়নি। তাদের মধ্যে ছিলেন- এ বি এম নাজমুল আবেদীন খোকন, মুনসুর আলী, আব্দুস সামাদ, আব্দুর রহমান, শাহাদাৎ হোসেন, আব্দুল ওহাব, গোলজার আলী, জাকারিয়া, নূর মোহাম্মদ, সোহরাব হোসেন, আবু দাউদ বিশ্বাস, নূল ইসলাম কারিগর, সুবেদার ইলিয়াস খান, আবুল কালাম আজাদ, ইঞ্জিনিয়ার আবুল কালাম আজাদ, মো. মোজাম্মেল হক ও মো. ইউনুস আলী।

এ ব্যাপারে সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল বার্তা২৪.কমকে বলেন, বিতর্ক থাকায় ওই নাম ফলকটি তুলে ফেলতে গণপূর্ত বিভাগকে নির্দেশনা দিয়েছিলাম। বিষয়টি খুবই স্পর্শকাতর। এখন মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে আলোচনা করে ও গেজেট দেখে প্রকৃত শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম বসানো হবে। আর যদি ঐক্যমতে পৌঁছানো না যায়, তাহলে নাম ছাড়াই ‘শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ’ হিসেবে সেটি থাকবে।

আপনার মতামত লিখুন :

ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত

ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত
ফরিদপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় দুই শ্রমিক নিহত

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ধুলদী এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে উল্টে দুই শ্রমিক নিহত হয়েছেন।

শনিবার (২০ জুলাই) ভোর ৬ টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি।

এই ঘটনায় ট্রাকে থাকা আরো পাঁচ শ্রমিক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর। আহতদের উদ্ধার করে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। 

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. নুরুল আলম জানান, ভোরের দিকে ঢাকা থেকে পিরোজপুরগামী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ ও পাইলিং এর মালামালসহ একটি ট্রাক ওই স্থানে উল্টে গেলে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।

তিনি জানান, ট্রাক উল্টে যাওয়ায় শ্রমিকরা ট্রাকের মালামালের নিচে চাপা পড়েছিল, পরে ট্রাক সরিয়ে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।

করিমপুর হাইওয়ে ফাঁড়ি ইনচার্জ জয়নুল ইসলাম জানান, ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাক ড্রাইভার ঘুমিয়ে পড়ায় এমন দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতদের মরদেহ কানাইপুর হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে রাখা হয়েছে।

ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না দৌলতদিয়া ঘাটে

ভোগান্তি থেকে মুক্তি মিলছে না দৌলতদিয়া ঘাটে
দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে যানজট, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রাজধানীর সঙ্গে দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ফেরি ঘাট। এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার বিভিন্ন ধরনের যানবাহন পারাপার হয়। আর যাত্রী সংখ্যা প্রায় লক্ষাধিক। যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৫টি ফেরি ও ১৭টি লঞ্চ। আর ঘাটে রয়েছে ৬টি পল্টুন ও একটি লঞ্চ ঘাট।   

নদী পারাপারের জন্য ঘাট কর্তৃপক্ষের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা থাকা শর্তেও নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় ভোগান্তি পিছু ছাড়ছেনা অপেক্ষারত যাত্রী, যানবাহনের চালক ও শ্রমিকদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563593312913.jpg
যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য বর্তমানে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৫টি ফেরি ও ১৭টি লঞ্চ

 

গত ১০ দিন থেকে নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে শত শত যাত্রীবাহী বাস ও পণ্যবাহী ট্রাক। দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে গোয়ালন্দ বাজার পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ও ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে অপেক্ষা করছে কয়েক হাজার যানবাহন। ট্রাক চালকদের সড়কেই নির্ঘুম রাত কাটছে দুই থেকে তিনদিন। আর টার্মিনালে কাটছে একরাত।

অন্যদিকে ঘাট সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যাত্রীবাহী বাস নদী পার করছে বলে জানা যায়। তারপরও বাসগুলোকে কমপক্ষে ৭-৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পড়ছে যাত্রীরা। ঘাট এলাকায় পর্যাপ্ত টয়লেট ও পানির ব্যবস্থা না থাকায়ও বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563593399671.jpg
ঘাট পরিদর্শনে এসেছেন বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান এম মাহবুব-উল ইসলাম 

 

এদিকে ঘাটের ভোগান্তি থেকে সহসাই মুক্তি মিলবে বলে মনে করছে না সংশ্লিষ্টরা। দৌলতদিয়া পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি এখন বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আর এ কারণে নদীতে দেখা দিয়েছে প্রবল স্রোত। বিআইডব্লিউটিএ বলছে বর্তমানে নদীতে ১২ কিলোমিটার বেগে স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। আর এই তীব্র স্রোতের কারণে ফেরিগুলো স্বাভাবিক ভাবে চলতে পারছেনা। দ্বিগুণ সময় লাগছে নদী পার হতে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563593488217.jpg
বর্তমানে নদীতে ১২ কিলোমিটার বেগে স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে

 

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন (বিআইডব্লিইটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, পদ্মা নদীর পানি দৌলতদিয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় নদীতে স্রোতের বেগ অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গেছে। যার কারণে ফেরিগুলোর চলতে পারছেনা। যেগুলো চলছে সেগুলোও ধীর গতিতে। যার কারণে ঘাটে কয়েকদিন ধরে যানজট।

 বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান এম মাহবুব-উল ইসলাম ঘাট পরিদর্শনে এসে বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ঘাট ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রয়েছে। নদীতে স্রোতের বেগ কমে গেলেই স্বাভাবিক হয়ে আসবে ঘাটের যান চলাচল।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/20/1563593579594.jpg
 দক্ষিণ ও পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষের যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম দৌলতদিয়া ঘাট  

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র