Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৬ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

গোবিন্দগঞ্জে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার

গোবিন্দগঞ্জে ইয়াবাসহ চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার
ইয়াবা, ছবি: সংগৃহীত
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
গাইবান্ধা


  • Font increase
  • Font Decrease

গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী আবদুল হালিম মধুকে (৪২) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

বুধবার (২৬) রাত ১০টার দিকে গোবিন্দগঞ্জের কাটাখালি বালুয়া এলাকা থেকে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ মধুকে গ্রেফতার করা হয়।

আটক মধু জেলার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার বগুলা গাড়ি গ্রামের হাসান আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গোবিন্দগঞ্জ থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) বার্তা২৪.কমকে জানান, মধু দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করে আসছিলেন। মধুর বিরুদ্ধে বিজ্ঞ আদালতে তিনটি মাদক মামলা বিচারাধীন। জামিন নিয়ে আবার মাদক ব্যবসা করছিলেন তিনি। খবর পেয়ে রাতে অভিযান চালিয়ে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ বিষয়ে তার বিরুদ্ধে থানায় আরো একটি মাদক মামলা করা হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত

জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত
নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বন্যা দুর্গতরা

যমুনা ও ব্রহ্মপুত্রের পানি কমতে শুরু করলেও জামালপুরে বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। জেলার সাত উপজেলায় ৬২টি ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। বন্ধ রয়েছে সড়ক ও রেল যোগাযোগ, তলিয়ে গেছে জেলার ১৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি।

গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ২৮ সেন্টিমিটার কমে রোববার (২১ জুলাই) সকালে যমুনার বাহাদুরাবাদ পয়েন্টে বিপদসীমার ১১০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

যমুনার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করায় জেলার ৬৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৬২ ইউনিয়ন প্লাবিত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এসব এলাকার অসংখ্য বসতবাড়ি, রাইস মিল, মাছ চাষের পুকুর, হাঁস-মুরগি-গরুর খামার এবং বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563689399942.jpg
জামালপুর-শেরপুর সড়ক পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। দেওয়ানগঞ্জ, ইসলামপুর, দুরমুট, মেলান্দহ, বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব পর্যন্ত এবং তারাকান্দি রেলস্টেশনের বিভিন্ন স্থানে পানি ওঠায় ট্রেন চলাচল সাময়িক বন্ধ রয়েছে।

বন্যা কবলিত এলাকায় হাজারেরও বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বন্যায় ২ লাখ ৫ হাজার পরিবারের ১৩ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।

বন্যার পানি কিছুটা কমলেও শুকনো খাবারের তীব্র অভাবের পাশাপাশি শিশু খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি ও গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে পুরো জেলায়।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563689442508.jpg
বন্যা দুর্গত এলাকায় ৩৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। সেখানে আশ্রয় নিয়েছে ৮ হাজার বানভাসি মানুষ।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৯শ’ ৫০ মে. টন চাল, ৪ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার ও ১৭ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা অসহায় বন্যার্তদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে।

সন্ধ্যা নামলেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে নানান অপকর্ম

সন্ধ্যা নামলেই রোহিঙ্গা ক্যাম্পে চলে নানান অপকর্ম
কক্সবাজারের রোহিঙ্গা ক্যাম্প/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

রোহিঙ্গাদের নিজেদের মধ্যে খুনোখুনি, ইয়াবা পাচার, মানব পাচার ও ক্যাম্প ছেড়ে লোকালয়ে মিশে যাওয়া নিয়ে রীতিমত বিপাকে স্থানীয় প্রশাসন। ক্যাম্পের পরিবেশকে স্বাভাবিক রাখার পরিকল্পনা আঁকছে পুলিশ-র‌্যাব-বিজিবি।

জানা যায়, সন্ধ্যার পরপরই উখিয়া ও টেকনাফের রোহিঙ্গা ক্যাম্প হয়ে যায় নীরব, নিস্তব্ধ। ক্যাম্পে অবস্থান নিতে পারেন না এনজিও কর্মীরা। সন্ধ্যার পরে এমন ভুতুড়ে পরিবেশে ক্যাম্পজুড়ে শুরু হয় দুর্বৃত্তদের আনাগোনা।

ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গারা বলছেন, রাতের অন্ধকারে প্রায় সময় কিছু দুষ্কৃতিকারী রোহিঙ্গা ক্যাম্প জুড়ে চালায় তাণ্ডব। আধিপত্য নিয়ে মারামারি, যৌন নির্যাতন, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা, এমনকি হত্যার মতো ঘটনাও ঘটানো হয় সেখানে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা যায়, গত দুই বছরে রোহিঙ্গা শিবিরগুলোতে হত্যাসহ ২৩০টির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হয়েছে। তার মধ্যে ২৫টির মতো খুন হয়েছে। এসব ঘটনায় ২০০ রোহিঙ্গাকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে অস্ত্র আইনে ২৫টি মামলায় ৫৫ জন, মাদক আইনে ১০০ মামলায় ১৫০ জন, পাসপোর্ট আইনের ৬৫ মামলায় ৫০ জন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের দুই মামলায় দু'জন, অপহরণের পাঁচ ঘটনায় ১০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

এছাড়া চোরাচালান আইনের সাত মামলায় ১৫ জন, চুরির কয়েকটি মামলায় ১০ জন ও ডাকাতির আট মামলায় ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এছাড়াও, গত দেড় বছরে রোহিঙ্গা শিবির থেকে পালিয়ে সাগরপথে মালয়েশিয়া পাড়িসহ বিভিন্ন স্থান থেকে প্রায় ৫৬ হাজার রোহিঙ্গাকে আটক করে ক্যাম্পে ফেরত আনা হয়।

কুতুপালং ডি-৫ এর মাঝি সেলিম উদ্দিন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ‘দিনে তেমন কোনো ঘটনা নেয়। তবে রাতে এক প্রকার আতঙ্কে কাটে রোহিঙ্গাদের। কারণ রাত হলেই কয়েকটি গ্রুপ এখানে মহড়া দেয়। যারা এলাকার দখলে নিতে এমন মহড়া দেয়।

বালুখালী ক্যাম্প ১৪ এর মাঝি রহমত উল্লাহ বলেন, ‘রাত হলেই ক্যাম্পজুড়ে সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বাড়ে। যার ফলে সাধারণ রোহিঙ্গারা আতঙ্কে থাকে। এ জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য আরও বাড়ানো দরকার। তাহলে ক্যাম্পের মাঝিদের পাশাপাশি রোহিঙ্গারাও নিরাপদে থাকবে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/21/1563688817588.gif

টেকনাফের লেদা রোহিঙ্গা শিবিরের ডেভলপমেন্ট কমিটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলমের মতে, অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে স্থানীয় প্রভাবশালীরা রোহিঙ্গাদের এ কাজে জড়াচ্ছে। তবে তাদের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা শিবিরে মাদক প্রতিরোধে বিভিন্ন প্রচারণা চালানো হচ্ছে।

এনজিও কর্মকর্তারা বলছেন, ক্যাম্পে অপরাধীদের দৌরাত্ম্যে এনজিওগুলো কাজ করতে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে রোহিঙ্গাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে কাজ করছে বলে জানান ইউএনএইচসিআর এর কর্মকর্তারা।

পুলিশ বলছে, রোহিঙ্গাদের কয়েকটি গ্রুপ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার পাশাপাশি ইয়াবা ও মানব পাচারের মতো ঘটনাতেও জড়াচ্ছে তারা।

কক্সবাজার র‌্যাব-১৫ এর অধিনায়ক উইং কমান্ডার আজিম আহমেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে বলেন, ‘অভিযানে গেলে ক্যাম্পে ফোর্সের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটছে। অপরাধ দমনে যৌথ টহল দেওয়ার চিন্তা করছে র‌্যাব। পাশাপাশি আশে-পাশের এলাকাগুলোতে র‌্যাব এখনো সক্রিয় রয়েছে।

সম্প্রতি রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পরিদর্শন করে গেছেন বাংলাদেশ পুলিশের মহা-পরিদর্শক, র‌্যাবের ডিজি ও বিজিবি প্রধান। এ সময় পুলিশের মহা-পরিদর্শক ড. জাবেদ পাটোয়ারী বলেন, ‘রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আগে তা নিয়ন্ত্রণে আনতে সরেজমিনে পরিদর্শনে এসেছেন তিন বাহিনীর প্রধান। ক্যাম্পের অপরাধ কমাতে আরও জনবল বৃদ্ধি করতে চাই আমরা। আগামীতে যাতে নিরাপত্তা হুমিকর মুখে না পড়ে সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র