Barta24

রোববার, ২১ জুলাই ২০১৯, ৫ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

পাকিস্তানি হায়েনারা হত্যা করে দানবীর রনদা প্রসাদকে

পাকিস্তানি হায়েনারা হত্যা করে দানবীর রনদা প্রসাদকে
দানবীর হি‌সে‌বে খ্যাত রনদা প্রসাদ সাহা, ছবি: সংগৃহীত
অভিজিৎ ঘোষ
ডি‌স্ট্রিক্ট ক‌রেসপ‌ন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
টাঙ্গাইল


  • Font increase
  • Font Decrease

দানবীর হি‌সে‌বে খ্যাত রনদা প্রসাদ সাহা। আজীবন আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করে গেছেন তি‌নি। নারী শিক্ষা ও জাগরণের জন্য তিনি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শিক্ষাসহ একাধিক প্রতিষ্ঠান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি কাজ করেছেন স্বাধীনতার পক্ষে। স্থানীয় রাজাকার মাহবুবুর রহমান পাকিস্থানি হায়েনাদের সহায়তায় হত্যা করেন রনদা প্রসাদ সাহা, তার ছেলে ও ঘনিষ্ঠ সহকর্মীদের।

জানা গে‌ছে, উপমহাদেশের প্রখ্যাত দানবীর, মহান মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, নারী শিক্ষা ও নারী জাগরণের অগ্রপথিক ছি‌লেন দানবীর রনদা প্রসাদ সাহা। তার জন্ম টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে। আজীবন আর্ত মানবতার সেবায় কাজ করেছেন তিনি। টাঙ্গাইলসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিষ্ঠা করেছেন একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ দাতব্য চিকিৎসালয়। এর মধ্যে কুমুদিনী ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট অন্যতম। মহান মুক্তিযুদ্ধে রয়েছে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। তিনি তার প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের দিয়েছেন চিকিৎসা ‌সেবা। পাকিস্থানি হায়েনাদের থাবায় আহত নির্যাতিত নিরীহ বাঙালিদের খুঁজে খুঁজে দিয়েছেন চিকিৎসা এবং আশ্রয়। এ কারণে রনদা প্রসাদ সাহাকে হত্যার পরিকল্পনা করে পাকিস্থানি হানাদার বাহিনী।

১৯৭১ সালের ৭ মে স্থানীয় রাজাকার মাহবুবুর রহমানের নেতৃত্বে একদল রাজাকার হত্যাযজ্ঞ চালান গোটা মির্জাপুরে। তারা সেদিন রনদা প্রসাদ সাহাকে ধরতে তার বাড়ি ও হাসপাতালসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে যান। কিন্তু তাকে ধরতে না পেরে জ্বালিয়ে দেন কয়েকটি গ্রাম। হত্যা করেন বহু নিরাপরাধ বাঙালিকে। রাজাকার মাহবুবুর রহমান ৭ মে মধ্যরাতে নারায়ণগঞ্জের স্থানীয় রাজাকারদের সহায়তায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর ২০-২৫ জন সদস্যকে নিয়ে রণদা প্রসাদ সাহার বাড়িতে আক্রমণ চালান। এ সময় রণদা প্রসাদ সাহা, তার ছেলে ভবানী প্রসাদ সাহা, রণদা প্রসাদের ঘনিষ্ঠ সহচর গৌর গোপাল সাহা, রাখাল মতলব ও দারোয়ানসহ সাতজনকে অপহরণ করে হয়। পরে সবাইকে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এরপর তাদের মরদেহ আর পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধারা জানান, রণদা প্রসাদ সাহার মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হয় মির্জাপুরসহ সারাদেশের।

s
হানাদার বাহিনীর হাতে নিহত হন রণদা প্রসাদ সাহা (উপরে বাঁয়ে),তার ছেলে (উপরের সারির মাঝে) ও ঘনিষ্ঠ সঙ্গীরা, ছবি: সংগৃহীত   

 

রণদা প্রসাদ সাহা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে বৃহস্পতিবার (২৭ জুন)।  দুই মাস অপেক্ষমাণ থাকার পর বুধবার (২৬ জুন) সকালে ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. শাহিনুর ইসলামের নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল রায়ের জন্য ওই দিন ধার্য করেন।

গত ২৪ এপ্রিল রণদা প্রসাদ সাহা হত্যাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের তিনটি অভিযোগে দায়েরকৃত মামলার শুনানি হয়। এর ধারাবাহিকতায় আজ রায়ের দিন ধার্য করা হলো।

ট্রাইব্যুনালে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন- প্রসিকিউটর রানা দাসগুপ্ত। তার সঙ্গে ছিলেন তাপস কান্তি বল। অন্যদিকে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী গাজী এম এইচ তানিম।

রণদা প্রসাদ সাহাকে হত্যার অভিযোগে গত বছরের ২৮ মার্চ আসামি মো. মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন ট্রাইব্যুনাল। গত বছরের ১১ ফেব্রুয়ারি আসামি মাহবুবুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল।
মাহবুবুর রহমান জামায়াতের সমর্থক ছিলেন। তিনি তিনবার ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও প্রতিবারই পরাজিত হন।

 

আপনার মতামত লিখুন :

কোম্পানীগঞ্জে মাদক মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা

কোম্পানীগঞ্জে মাদক মামলার আসামিকে পিটিয়ে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে গোলাম কিবরিয়া মিন্টু (৩৩) নামে মাদক মামলার এক আসামিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

শনিবার (২০ জুলাই) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চরকাঁকড়া ইউনিয়নের দুই নম্বর ওয়ার্ডের শহীদ সিদ্দিক উল্যাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিন্টু স্থানীয় ইমান আলী চৌকিদার বাড়ির ইসমাইলের ছেলে। কোম্পানীগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, মিন্টু মাদক মামলাসহ মোট ছয়টি মামলার আসামি। গত ১৫ দিন আগে তিনি জেল থেকে জামিনে মুক্তি পান।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্র্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

নিহত ব্যক্তির ভাই গোলাম আজম আজাদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান, শনিবার বিকেল ৫টার দিকে একই এলকার শেখ ফোরমানের বাড়ির আজাদের ছেলে তানভির (২৫), পাটোয়ারী হাটের পটু ডাক্তার বাড়ির নুর আমিনের ছেলে ফয়সালসহ কয়েকজন মিন্টুকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে চোখ, হাত ও পা বেঁধে মারধর করেন। এতে তিনি গুরুতর হন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মিন্টুকে উদ্ধার করে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখা থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে নোয়াখালী সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে রাত ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে নিহত মিন্টুর পরিবার।

পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই সন্তানসহ বাবার মৃত্যু

পঞ্চগড়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই সন্তানসহ বাবার মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত

পঞ্চগড়ে সদর উপজেলার হাফিজাবাদ এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই ছেলেসহ বাবার মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২০ জুলাই) সন্ধ্যায় হাফিজাবাদ ইউনিয়নে পানিমাছ পুকুরী মাহানপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- পানিমাছ পুকুরী মাহানপাড়া এলাকার আইজুদ্দীনের ছেলে শহিদুল ইসলাম (৬৩) এবং তার দুই ছেলে নাজিরুল ইসলাম (৩৬) ও আশাদুল (২২)।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, বাড়ির পাশে একটি খালে কারেন্ট জাল বসিয়েছিলেন নাজিরুল। কিন্তু বৈদ্যুতিক তার পানিতে পড়ে যাওয়ায় জাল তুলতে গেলে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে তার বাবা শহিদুল ইসলাম পানিতে নামলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। এরপর নাজিরুলের ছোট ভাই আশাদুল তার বড় ভাই ও বাবাকে উদ্ধার করতে পানিতে নামলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হন।

পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় দুই ছেলেসহ বাবাকে আহত অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের তিন জনকে মৃত ঘোষণা করেন।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবু আক্কাস আহম্মেদ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে জানান' এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র