Barta24

শনিবার, ১৭ আগস্ট ২০১৯, ২ ভাদ্র ১৪২৬

English

সিরাজগঞ্জে সড়ক প্রশস্ত করার দাবিতে মানববন্ধন

সিরাজগঞ্জে সড়ক প্রশস্ত করার দাবিতে মানববন্ধন
মার্কেট নির্মাণ বন্ধ করে সড়ক প্রশস্ত করার দাবিতে সিরাজগঞ্জের বিএ কলেজ রোডে স্থানীয়দের মানববন্ধন, ছবি: বার্তা২৪
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তা২৪.কম
সিরাজগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

সিরাজগঞ্জ পৌর এলাকার বিএ কলেজ রোডে (গোলাম কিবরিয়া সড়ক) মার্কেট নির্মাণ বন্ধের দাবি উঠেছে। পৌরসভার এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করে সড়কটি প্রশস্ত করার দাবিতে মঙ্গলবার (২ জুলাই) মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী।

ঘণ্টাব্যাপী ওই কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই সড়ক প্রশস্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এখানে প্রতিনিয়ত যানজট লেগে থাকে। কলেজের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে, বিঘ্ন ঘটে পরীক্ষার। তারপরও সড়ক প্রশস্ত না করে এলাকাবাসী ও কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবি উপেক্ষা করে সিরাজগঞ্জ পৌরসভা এখানে বহুতল মার্কেট নির্মাণের চেষ্টা করছে। এতে সড়ক সংলগ্ন কয়েকশ’ পরিবার মূল সড়কে আসার পথ হারাবেন। অ্যাম্বুলেন্স বা ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার মত রাস্তা পাবেন না তারা। এতে তারা অরক্ষিত হয়ে পড়বেন। পয়োনিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থাও থাকবে না দীর্ঘ দিন ধরে এখানে বাস করে আসার মানুষগুলোর।

স্থানীয় বাসিন্দা সাইফুল আলম বলেন, সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ ছাড়াও এই সড়ক দিয়ে অন্তত ১৫টি স্কুল, কলেজ ও মাদরাসার প্রায় ২০ হাজার শিক্ষার্থী চলাচল করে। ৭-৮টি এলাকার কয়েক লাখ মানুষকে এই সড়ক দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। অথচ সরু এই সড়কে দুইটি রিকশাও একসাথে চলতে পারে না। ফলে প্রতিদিনই যানজট সৃষ্টি হয়, ভোগান্তিতে পড়েন শিক্ষক, শিক্ষার্থী আর এলাকাবাসী। এ অবস্থায় এখানে মার্কেট নির্মিত হলে আবাসিক এলাকা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কোনো কিছুরই আর কোনো পরিবেশ থাকবে না। বাজার বসে যাবে এই সড়কে!

Sirajganj

স্থানীয় গৃহবধূ মোছা. হুসনে আরা পারভীন বলেন, বাড়ির সামনে মার্কেট হলে আমরা মা-বোনেরা এখানে আর বাস করতে পারবে না। ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগমে আবাসিক এলাকা মার্কেট-পল্লীতে পরিণত হবে, মানুষের বসবাসের অবস্থা আর থাকবে না। পৌরবাসীকে এভাবে সাংবিধানিক ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করে পৌরসভা বাণিজ্যিক স্বার্থে আবাসিক এলাকায় মার্কেট নির্মাণ করতে পারে না।

স্থানীয় ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম খান বলেন, অসাধু কিছু ব্যবসায়ীর স্বার্থে, প্রভাবশালী দুয়েক নেতার প্ররোচনায় আমাদের মৌলিক অধিকার খর্ব করে এখানে মার্কেট নির্মাণের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর নাম ‘মহিলা মার্কেট’ দিয়ে বিভিন্ন দাতা সংস্থার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা চলছে। ইতোপূর্বে বিশ্ব ব্যাংকের কর্মকর্তারা এই এলাকা পরিদর্শন করে গেছেন। তারা বলে গেছেন- প্রত্যেক বাড়িতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঢোকার জায়গা দিয়ে মার্কেট করতে হবে। তারপরও সবার কথা অগ্রাহ্য করে পৌর কর্তৃপক্ষ জোর করে সড়ক চওড়া না করে মার্কেট করতে চায়, লাখ লাখ টাকা ভাগাভাগি করে খাবে বলে!

শফিকুল ইসলাম তালুকদার বলেন, পৌরসভা আমাদের বের হওয়ার রাস্তা দেবে না, অথচ আমরা এই এলাকায় অন্তত তিন প্রজন্ম প্রায় ৭০ বছর হলো বসবাস করে আসছি। আমাদের পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা, গ্যাস-পানি-বিদ্যুতের সংযোগ- এসবের কী হবে! আমরা পৌরসভার নাগরিক, তাহলে আমাদের অবরুদ্ধ করে কীসের এত বাণিজ্য!

Sirajganj

আনোয়ার হোসেন বলেন, পূর্ব পুরুষেরা এখানে জায়গা কেনার পর থেকে আজ অব্দি কোনো সরকার বা পৌর কর্তৃপক্ষ এই জায়গা নিয়ে কিছু করতে চায়নি। বরং আমরাই মাঝে মাঝে দাবি তুলেছি- এখানে সড়ক প্রশস্ত করা হোক। অথচ এবারের পৌর কর্তৃপক্ষ স্রেফ টাকার লোভে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান-এলাকাবাসীর স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে এখানে মার্কেট নির্মাণ করতে চাইছে!

মোছা. নার্গিস আক্তার বলেন, আমরা এতদিন কিছু বলি নাই, মানুষ আজ রাজপথে নামতে শিখেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই দেশে যেখানে উন্নয়নের জোয়ার বইছে, মানুষ অধিকার নিয়ে স্বনির্ভর হচ্ছে, সেই দেশে পৌরসভার এই অন্যায় মানুষ মেনে নেবে না। এ যাবৎকালে কোনো দিন সিরাজগঞ্জ পৌরসভা নাগরিকদের মুখোমুখি দাঁড়ায়নি। আজ সেই পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগের নাম ভাঙিয়ে খাওয়া কিছু দালাল। আমরা তাদের রুখে দেব।

মো. রবিউল আলম বলেন, এদেশে ন্যায় বিচার উঠে যায় নাই। টাকার জোরে পৌর কর্তৃপক্ষ এতগুলো মানুষকে জিম্মি করতে পারে না; এসব মেনে নেওয়া হবে না। বহুবার মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে, সব কিছু উপেক্ষা করে জোরপূর্বক এত মানুষকে অবরুদ্ধ করে বাণিজ্য করার ধান্দা চলছে! জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের এই দেশে এলাকাবাসী প্রাণ দিয়ে হলেও এমন ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করে দেবে।

উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সংলগ্ন গোলাম কিবরিয়া সড়কের পাশে পৌরসভার অল্প কিছু জায়গা শুরু থেকেই ভোগ-দখল করে আসছিলেন এলাকাবাসী। দেড় বছর হলো পৌরসভা সেই জায়গা দখল মুক্ত করেছে। তবে এই জায়গার পরিমাণ নিয়েও বিতর্ক আছে। সম্প্রতি সেখানে মার্কেট নির্মাণের ঘোষণা দেওয়ায় এলাকাবাসী তার বিরোধিতা করে সড়ক প্রশস্ত করার দাবি জানায়। স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষও একই দাবিতে পৌরসভায় একাধিক বার আবেদন জানায়। তবুও সব উপেক্ষা করে মার্কেট নির্মাণের সিদ্ধান্তে অটল সিরাজগঞ্জ পৌরসভা।

আপনার মতামত লিখুন :

গাইবান্ধায় আমন চারা কেনাবেচায় টোল আদায় বন্ধের দাবি

গাইবান্ধায় আমন চারা কেনাবেচায় টোল আদায় বন্ধের দাবি
আমন চারা কেনাবেচায় টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন ও দারিয়াপুর হাটসহ সকল হাট বাজারে আমনের চারা (বিছন) ক্রয় বিক্রয়ে টোল আদায় বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) বাংলাদেশ কৃষক সমিতির আয়োজনে স্থানীয় দারিয়াপুর হাটের চারমাথা মোড়ে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এতে জেলা কৃষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছাদেকুল ইসলাম মাস্টারের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন কমিউনিস্ট পার্টির জেলা সভাপতি ও কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য মিহির ঘোষ, জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, কৃষক সমিতির জেলা সহ-সভাপতি সন্তোষ বর্মণ, সদর উপজেলা কৃষক সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম মন্ডল, দারিয়পুর অঞ্চল কমিউনিস্ট পার্টির সভাপতি গুলবদন সরকার, সাধারণ সম্পাদক কৃষক নেতা জাহাঙ্গীর আলম মাস্টারসহ অনেকে।

বক্তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি দাবি জানান। সেই সঙ্গে ইরি ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়া, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের কাছ থেকে যাতে আমন চারা ক্রয় বিক্রয়ে কোনো প্রকার টোল আদায় না করার জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।

দৌলতদিয়ায় নদী পারের অপেক্ষায় ২ শতাধিক কোচ

দৌলতদিয়ায় নদী পারের অপেক্ষায় ২ শতাধিক কোচ
দৌলতদিয়ায় নদী পারের অপেক্ষায় বাসের দীর্ঘ সারি

রাত যত বাড়ছে ততই নৈশ কোচের চাপ বাড়ছে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দের দৌলতদিয়া ঘাটে। নদী পারের অপেক্ষায় রয়েছে প্রায় দুই শতাধিক কোচ।

দুপুরের পর থেকে দৌলতদিয়া ঘাটে যানবাহনের তেমন কোন চাপ ছিল না। তবে লোকাল বাসের যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় ছিল দিনভর। সন্ধ্যা লাগার পর থেকে লোকাল বাসের যাত্রীদের চাপ কমলেও এখন নৈশ কোচের চাপ বেড়েছে।

শনিবার (১৭ আগস্ট) রাত ৮টায় সরেজমিন দেখা যায় দৌলতদিয়া জিরো পয়েন্ট থেকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে নদী পারের জন্য অপেক্ষা করছে প্রায় দুই শতাধিক নৈশ বাস। রাতে বাসের সারি আরও দীর্ঘ হতে পারে বলে ধারণা করছেন ঘাট সংশ্লিষ্টরা।
https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/17/1566057794700.jpg

তবে যানবাহনের সংখ্যা বাড়লেও খুব বেশি সময় নদী পারের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না বলে আশা করছেন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের কর্মকর্তারা।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহনের (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাটের শাখা ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) আবু আব্দুল্লাহ রনি বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, যানবাহন পার করার জন্য দৌলতদিয়া প্রান্তের ৬টি পন্টুনই সচল রয়েছে। তাছাড়া ১৯টি ফেরি নিয়মিত চলাচল করছে। আশা করছি নদী পারের জন্য ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহনগুলোকে অপেক্ষা করতে হবে না।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র