ওষুধের দোকানে ধর্মঘট রোগীদের ভোগান্তি

স্টাফে করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, কুষ্টিয়া
ছবি. বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

ছবি. বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

কুষ্টিয়ায় ফিজিশিয়ান স্যাম্পল রাখার অভিযোগে ওষুধের দোকানকে জরিমানা করেছে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। প্রতিবাদে কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি কুষ্টিয়া শাখার আওতাধীন ওষুধের দোকানগুলো বন্ধ করে দিয়েছে ব্যবসায়ীরা।

এতে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগীরা। মঙ্গলবার সকাল থেকে এ ধর্মঘট চলছে।

এদিকে, কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতির নেতারা বলছেন, এমন ধর্মঘটের বিষয়ে তারা অবগত নন।

সকালে শহরের বিভিন্ন এলাকা ও কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সামনে এবং হাসপাতাল মোড় ঘুরে দেখা গেছে দোকানীরা দোকানপাট বন্ধ রেখেছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সামনে গিয়ে দেখা যায়, রোগীর স্বজনরা প্রেসক্রিপশন হাতে নিয়ে দিগ্বিবিক ছোটাছুটিতে ব্যস্ত।

তারা ওষুধ কিনতে গিয়ে দোকান বন্ধ দেখে ফিরে আসছে। জরুরি বিভাগের সামনে কথা হয়, আবদুল ওহাবের সাথে। তিনি ৩ বছরের শিশু সন্তান মাহফুজকে হাসপাতালে এনেছেন। মাহফুজের জ্বর এবং খিচুনি হওয়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করেন সকালে। কিন্তু চিকিৎসক বাইরে থেকে ওষুধ কিনে আনতে প্রেসক্রিপশন হাতে ধরিয়ে দিলে হাসপাতাল মোড়সহ শহরের বিভিন্ন স্থানে গিয়ে দোকান বন্ধ থাকায় ওষুধ আনতে ব্যর্থ হন তিনি। পরে শহরতলীর চৌড়হাস মোড় থেকে ওষুধ নিয়ে আসেন।

সদর উপজেলার কাঞ্চনপুর এলাকার জাহাঙ্গীর তার সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে হাসপাতালে এনেছেন ভোররাতের দিকে। সকালের দিকে ডাক্তারের পরামর্শে কিছু প্রয়োজনীয় ওষুধ কিনতে সারা শহর ঘুরেও তিনি কোনো দোকান খোলা পাননি। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, দোকান বন্ধ রেখে মানুষের জীবন নিয়ে খেলতে পারেন না ওষুধের দোকানীরা।

উল্লেখ্য, গত রোববার শহরের কুমকুম ফার্মেসিতে অভিযানে চালিয়ে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর দোকানে ফিজিশিয়ান স্যাম্পল রাখার দায়ে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করে।

বিভিন্ন অনিয়ম অভিযোগে জরিমানা করার প্রতিবাদে কুষ্টিয়া শহরের হাসপাতাল মোড়, কলেজ মোড়, এনএস রোড এলাকার শতাধিক ওষুধের দোকান সকাল থেকেই বন্ধ রাখেন ব্যবসায়ীরা।

এ ব্যাপারে কেমিস্টস অ্যান্ড ড্রাগিস্টস সমিতি কুষ্টিয়া শাখার সভাপতি রফিকুল আলম টুকু বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ওষুদের দোকানে অভিযান চালিয়ে জরিমানার প্রতিবাদে হঠাৎ করেই ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করেছিল। আমাদের সমিতির সাথে সদস্যরা কোনো সভা ছাড়াই দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।

 তিনি বলেন, প্রত্যেকেরই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রাখা উচিত। দোকান বন্ধ করে প্রতিবাদ জানানো ঠিক নয়।

তবে শীঘ্রই দোকানপাট খোলা হবে বলে জানান তিনি।

ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো: সেলিমুজ্জামান বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণে যা যা করণীয় তাই করবে ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর। এ বিষয়ে হাইকোর্টের নির্দেশনা রয়েছে।

মেয়াদোত্তীর্ণ কিংবা ফিজিশিয়ান এসব স্যাম্পল বিক্রি করায় নিষেধ থাকা সত্ত্বেও দোকানীরা বিক্রি করে থাকে। এগুলো অপরাধের আওতায় পড়ে। তাই আমাদের নীতিমালা অনুসারে অভিযান চালানো হয়েছে।

এ রকম অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন :