Barta24

শুক্রবার, ১৯ জুলাই ২০১৯, ৪ শ্রাবণ ১৪২৬

English Version

বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে কৃষকের সর্বনাশ

বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে কৃষকের সর্বনাশ
গৌরীপুর উপজেলার পূর্ব শালীহর গ্রামে কৃষকের জমির ওপর বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে/ছবি: বার্তা২৪.কম
উপজেলা করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)


  • Font increase
  • Font Decrease

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে আবাদী জমির ওপর বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ভেঙে পড়ায় আমন মওসুমে জমিতে ধানের চারা রোপন করতে পারছেন না ভুক্তভোগী কৃষকরা। ভেঙে পড়া খুঁটির সঞ্চালন লাইনে  বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকায় কৃষক ও পথচারীরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকেন। 

স্থানীয়দের অভিযোগ প্রায় দুই মাস আগে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের খুঁটি ভেঙে পড়ে। খুঁটির তারে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু আছে। বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসের লোকজনকে জানানো হলেও তারা খুঁটি সংস্কারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি।

শুক্রবার (১২ জুলাই) সকালে ২ নং গৌরীপুর ইউনিয়নের পূর্ব শালীহর গ্রামে দেখা যায় কৃষক নূরুল ইসলামের সবজি বাগানের ওপর বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের বাঁশের খুঁটি ভেঙে পড়ে আছে। খুঁটি ভেঙে পড়ার কারণে বিদ্যুতের তাঁর ন্যুয়ে পড়েছে গ্রামের গোরস্থান ও স্থানীয় ৩ কৃষকের জমির ওপর। ন্যুয়ে পড়া বিদ্যুতের তারে দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আমন মওসুমে কৃষকরা তাদের জমিতে ধানের চারা রোপন করতে পারছেন না।

কৃষক নূরুল ইসলাম বলেন,  ভেঙে পড়া খুঁটির তারে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু থাকায়  আমি ও আমার তিন প্রতিবেশী  জমিতে হালচাষ করার পরেও ভয়ে ধানের চারা রোপন করতে পারছিনা। বিষয়টি বিদ্যুৎ অফিসে জানানোর পরও কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এই অবস্থায় যেকোনো মুহূর্তে বিদ্যুতায়িত হয়ে যে কারো প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে আবাসিক প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) তহুর উদ্দিন বলেন,  ঘটনার পরপরই আমাদের লোকজন খুঁটি সংস্কারের পূর্বশালীহর গ্রামে যায়। কিন্তু গ্রামের লোকজন নিজেদের বিবাদের কারণে আমাদের খুঁটি ঠিক করতে দেয় না। তারপরও আমি আবার লোক পাঠাবো।

আপনার মতামত লিখুন :

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার ৯৯ সে.মি. ওপরে!

সিরাজগঞ্জে যমুনার পানি বিপদসীমার ৯৯ সে.মি. ওপরে!
ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়েই চলেছে। শুক্রবার (১৯ জুলাই) সকাল থেকে সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। দুপুর থেকে কাজিপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি ১৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

Sirajganj- Flood

যমুনাসহ অভ্যন্তরীণ নদীগুলোতে পানি বাড়ছে প্রতিদিনই। গত আট দিনে সিরাজগঞ্জ জেলার ৩৬টি ইউনিয়নের ২৭৭ গ্রাম ও দুই টি পৌরসভার বন্যাকবলিত হয়েছে। পানিবন্দী রয়েছে অন্তত আড়াই লাখ মানুষ। সুপেয় পানি, খাবার আর ত্রাণের অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। সবচেয়ে বেশি কষ্টে আছেন শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠরা। বেশিরভাগ জায়গায় তলিয়ে গেছে টিউবওয়েল, এতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ভুগছেন বানভাসিরা। পানিতে নিমজ্জিত থাকায় অনেকেরই শরীরে ঘা দেখা দিয়েছে। অনেক এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তবে ইতোমধ্যে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ শুরু করেছে জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। কিন্তু তা নিতান্তই অপ্রতুল হওয়ায় অধিকাংশ বানভাসি তা পাচ্ছেন না।

Sirajganj- Flood

সিরাজগঞ্জ জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা যায়, বন্যায় সিরাজগঞ্জ সদর, কাজিপুর, শাহজাদপুর, বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলার ৩৬টি ইউনিয়নের দুই লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে ৩৫৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে ঠাঁই পেয়েছেন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার বন্যার্ত মানুষ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৪টি বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও ৫৫ হাজার ৭২৪টি পরিবার। এদের মধ্যে সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা ৯৫৯টি। এক হাজার ৩৪৭টি বাড়িঘর সম্পূর্ণ এবং ২৭ হাজার ৬৩৩টি বাড়িঘরের আংশিক ক্ষতি হয়েছে। ১৬৬টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে আরও ছয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

Sirajganj- Flood

সিরাজগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ইতোমধ্যেই বন্যা দুর্গতদের জন্য ত্রাণ তৎপরতা শুরু হয়ে গেছে। বন্যা কবলিত উপজেলাগুলোতে ত্রাণ সহায়তা পৌঁছে গেছে। স্ব স্ব ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে সেগুলো বিতরণ কার্যক্রম চলছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুলাই) বিকেল পর্যন্ত ৩৫৩.৩ মেট্রিক টন চাল, ৫ লাখ টাকা ও ৩ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মজুদ রয়েছে ৩৪৬.৭ মেট্রিক টন চাল ও ৩ লাখ টাকা। আরও ৫ লাখ টাকা, ৫০০ মেট্টিক টন চাল ও চার হাজার শুকনো খাবারের প্যাকেট বরাদ্দ আনার প্রক্রিয়া চলছে। কোনো বন্যার্ত মানুষ যেন বাদ না যায়, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক (ডিডি) হাবিবুল হক জানান, জেলার প্রায় সাত হাজার ৫৪১ হেক্টর জমির পাট, রোপা আমন, আউশ ও সবজির ক্ষেত তলিয়ে গেছে।

Sirajganj- Flood

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) উপ-সহকারী প্রকৌশলী রনজিত কুমার সরকার জানান, শুক্রবার সকালে সিরাজগঞ্জ হার্ডপয়েন্টে যমুনার পানি রেকর্ড করা হয়েছে ১৪.৩৫ মিটার, যা বিপদসীমার ৯৯ সেন্টিমিটার ওপরে। গত ২৪ ঘন্টায় ১৮ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। অপরদিকে কাজিপুর পয়েন্টে বিপদসীমার ১৩৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে এদিন পানি বৃদ্ধির অনেকটা কমেছে। শুক্রবার সকালে পানি বাড়লেও বিকেল থেকে কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি: আড়াই লাখ মানুষ পানিবন্দী

গাইবান্ধায় ভাসমান গোয়াল ঘর

গাইবান্ধায় ভাসমান গোয়াল ঘর
পানির ওপর মাচা বানিয়ে গোয়াল ঘর তৈরি করা হয়েছে গাইবান্ধায়/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

চলমান বন্যায় গাইবান্ধায় পানির ওপরে ভাসছে কয়েক হাজার গবাদিপশু। বন্যায় প্লাবিত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা সব হারিয়ে এখন গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি নিয়ে চরম বিপদে পড়েছে। অনেকে পানির ওপরে মাচা বানিয়ে তার ওপর গরুছাগলগুলো রাখছে।

গাইবান্ধা জেলার সুন্দরগঞ্জ, সদর, সাঘাটা, ফুলছড়ি সাদুল্লাপুর ও গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৪০টি ইউনিয়নের পৌনে চার লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রায় সোয়া লাখ পরিবারের ঘরবাড়ি ও সহায় সম্বল
গ্রাস করে নিয়েছে বন্যার পানি।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563525527618.gif

নদ-নদীর পানিতে ভেসে গেছে কৃষকদের গবাদি পশুপাখি। অবশিষ্ঠ যেসব গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগি রয়েছে, এ নিয়ে চরম বেকায়দা পড়েছে তারা। একদিকে নিজেদের অন্ন, বস্ত্র ও বাসস্থানের অভাব। অন্যদিকে গৃহপালিত পশু-পাখি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা। বন্যার সার্বিক পরিস্থিতির শিকার মানুষগুলো এখন যেন দিশেহারা হয়ে পড়েছে।

বন্যাক্রান্ত ফুলছড়ির উদাখালি এলাকার খালেক মিয়া নামের এক খামারি বলেন, ‘গরু মোটাতাজাকরণ ও দুগ্ধ উৎপাদনের জন্য খামার ব্যবসা করি। কিন্তু এবারে বন্যার পানি উঠায় গরুগুলো রক্ষার জন্য একটি বাজারের সেড ঘরে ও কিছু গরু পানির উপরে রাখা হয়েছে। এর ফলে গরুগুলো রোগাক্রান্ত হতে পারে।’

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/19/1563525542342.gif

সাজেদুল ইসলাম নামের আরেক কৃষক বলেন, ‘চারদিকে পানির কারণে গরু-ছাগলগুলো রাখার জায়গা না থাকায় এলাকার বিভিন্ন উঁচু ব্রিজে ও পানির উপরে মাচা বানিয়ে রাখা হচ্ছে।’

গাইবান্ধা জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম-কে জানিয়েছে, গবাদি পশুপাখিগুলো বেশি দিন উন্মুক্ত জায়গায় রাখা হলে রোগাক্রান্ত হতে পারে। এ বিষয়ে কৃষকদের নানান পরামশ দেওয়া হচ্ছে।’

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র