মধ্যরাতে তিস্তার পানি ঢুকছে শহরে

নিয়াজ আহমেদ সিপন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, লালমনিরহাট
গ্রামবাসীদের বন্যার পানি আটকিয়ে রাখার চেষ্টা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

গ্রামবাসীদের বন্যার পানি আটকিয়ে রাখার চেষ্টা, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে পাকা রাস্তা ভেঙে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা- বড়খাতা শহরের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। এ ভাঙনের ফলে এরই মধ্যেই ওই এলাকার ১৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।

শনিবার (১২ জুলাই) মধ্যরাতে হাতীবান্ধা থেকে বড়খাতার বাইপাস সড়কের তালেব মোড় এলাকার পাকা সড়কটির বড় একটি অংশ ভেঙে যায়।

শুক্রবার (১১ জুলাই) বিকাল থেকেই তিস্তার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমা অতিক্রম করে। তিস্তার পানি শনিবার রাত ২টা থেকে বিপদ সীমার ৫০ সেঃ মিঃ উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যার কারণে তিস্তা ব্যারেজ হুমকির মুখে পড়ে। এদিকে তীরবর্তী মানুষকে সতর্কীকরণের জন্য মাইকিং করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন ব্যারেজ রক্ষার্থে যে কোনো মুহূর্তে ফ্লাট বাইপাস কেটে দেয়া হতে পারে।

স্থানীয়রা জানান, তিস্তার পানি বৃদ্ধি হওয়ার ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে গড্ডিমারী ইউনিয়নের রাস্তাঘাট ও ঘরবাড়ি। তিস্তা নদীর পানির তোড়ে গড্ডিমারী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে হাটখোলা সড়কের পাশে পানি আসা শুরু করেছে। এছাড়াও হাতীবান্ধা থেকে বড়খাতার বাইপাস সড়কের তালেব মোড় এলাকার সড়কটির বিরাট অংশ ভেঙে যাওয়ায় ওই এলাকার লোকজনের বাইপাস সড়কের সঙ্গে উপজেলা শহরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/13/1562967649231.jpg

এ ভাঙনের ফলে এর মধ্যেই ওই এলাকার ১৫টি ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ইউনিয়নটির চারপাশের রাস্তাঘাট ভেঙে যাওয়ায় এলাকার লোকজনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

বন্যার পানি হাতীবান্ধা শহরসহ লোকালয়ে প্রবেশ করায় জেলার লক্ষাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। অসংখ্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি, বে-সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিস্তা পাড়ের লোকজন নিজ নিজ অবস্থান থেকে বালু বস্তা দিয়ে পানি আটকিয়ে রাখার চেষ্টা করলেও বস্তার সংকটে তা সম্ভব হয়ে উঠছে না। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি বাড়লেও জন প্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তাদের দেখা মিলছে না।

এদিকে, পানির শো শো শব্দে তিস্তা পাড়ের লোকজনের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। তিস্তা নদীর ভয়ঙ্কর রূপ আর গর্জনে পানি বন্দি লোকজনের চোখে ঘুম নেই।

তিস্তা ব্যারেজ দোয়ানী পানি উন্নয়ন বোর্ড’র নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম জানান, ভারত গজল ডোবা ব্যারেজের অধিকাংশ গেট খুলে দেয়ায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। আরও কি পরিমাণ পানি আসবে তা ধারণা করা যাচ্ছে না। পানির গতি নিয়ন্ত্রণ করতে তিস্তা ব্যারেজের অধিকাংশ গেটই খুলে দেয়া হয়েছে।

আপনার মতামত লিখুন :