তিস্তাপাড়ের ৩৪ বিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়োন্টিফোর.কম, লালমনিরহাট
পানিতে তলিয়ে আছে বিদ্যালয়ের মাঠ, ছবি: বার্তা২৪

পানিতে তলিয়ে আছে বিদ্যালয়ের মাঠ, ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বর্ষণে পাকা রাস্তা ভেঙে লালমনিরহাটের বেশ কয়কটি গ্রাম নতুনভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে লালমনিরহাটের ৫ উপজেলার ৩৪টি বিদ্যালয়ে পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা শিক্ষা বিভাগ।

শনিবার (১৩ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় দেশের বৃহত্তম সেচপ্রকল্প তিস্তা ব্যারেজ ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৮৭ সেন্টিমিটার। যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ সে. মি) বিপদসীমার ২৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

এর আগে শুক্রবার (১২ জুলাই) সন্ধ্যা ৬টায় ৩৫ সেন্টিমিটার ও রাত ৯টায় ৪৪ সে. মিটার এবং মধ্যরাতে আরও বেড়ে গিয়ে শনিবার (১৩ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত তিস্তার পানি প্রবাহ বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। শনিবার দুপুরের দিকে কমতে শুরু করে পানি প্রবাহ। যা বিকেল ৩টায় বিপদসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

এদিকে, শুক্রবার মধ্যরাতে পানির তোড়ে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী তালেব মোড় এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। ফলে হাতীবান্ধা উপজেলা শহরে বন্যার পানি প্রবেশ করে। বন্যায় প্লাবিত হয় নতুন নতুন এলাকা। প্রতিনিয়ত বাড়ছে পানিববন্দির সংখ্যা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/13/1563022207168.jpg

ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজে তিস্তার পানি বিপদসীমা অতিক্রম করছে। এতে ওই ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ বেড়েছে বলে দাবি করেছে ব্যারেজ কর্তৃপক্ষ। ফলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষকে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, উজানের পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গত ছয় দিনের ভারী বৃষ্টির পানি। এতে সৃষ্ট বন্যায় লালমনিরহাটের ৫ উপজেলায় প্রায় ২০/২৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নৌকা বা ভেলা ছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বন্যা কবলিত মানুষের। নৌকা পর্যাপ্ত না থাকায় চলাচলে বেশ সমস্যায় পড়েছেন তারা। এতে বিশেষ করে সমস্যায় পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা।

অন্যদিকে পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার ৫টি উপজেলার ৩৪টি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় ২৬টি ও উচ্চ বিদ্যালয় ৮টি। কয়েকটি বিদ্যালয়ে বন্যার্তরা আশ্রয় নেওয়ায় সেখানেও পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে লালমনিরহাট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘জেলার ২৬টি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। পানি নেমে না যাওয়া পর্যন্ত এসব বিদ্যালয়ের পাঠদান বন্ধ থাকবে।’

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আজিজুর রহমান জানিয়িছেন, ‘আটটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বন্যার পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।’

আপনার মতামত লিখুন :