‘ত্রাণ চাই না, বাঁধ দেন প্রধানমন্ত্রী’

নিয়াজ আহমেদ সিপন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, লালমনিরহাট
সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত হাতীবান্ধা গড্ডিমারী ইউনিয়নের চর তালেব মোড় গ্রামের মনোয়ারা বেগম/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

সব হারিয়ে সর্বস্বান্ত হাতীবান্ধা গড্ডিমারী ইউনিয়নের চর তালেব মোড় গ্রামের মনোয়ারা বেগম/ ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

‘পানির স্রোতেত হামার ঘর-বাড়ি সোউগ (সব) নিয়া গেইল! ম্যালা মানুষ পানির জন্যে বেড়বার পাওচে না। হামার ঘর-বাড়ি ভাঙ্গি যেয়া আস্তাত (রাস্তায়) পড়ি আচি। হামার এত দুর্দশা, কায়ও দেখার নাই। তিস্তা হামার সর্বস্বান্ত করিল। আমরা ত্রাণ চাই না, বাঁধ দেন প্রধানমন্ত্রী, বাঁধ দেন।’

শনিবার (১৩ জুলাই) এভাবেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানাচ্ছিলেন তিস্তার ভাঙন ও বন্যা কবলিত লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা গড্ডিমারী ইউনিয়নের চর তালেব মোড় গ্রামের মনোয়ারা বেগম (৭০)। 

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563063092058.jpg

ঐ গ্রামের আব্দুল সালাম জানান, কয়েকদিন আগে জমিতে ফসল আবাদ করেছিল। সেই জমিসহ সবজি আবাদ নষ্ট করে নদীর গর্ভে চলে যায়। গেল বন্যায়ও নদী ভেঙেছিল। স্থানীয় সাংসদ সদস্য আশ্বাস দিয়েছিলেন বাঁধ নির্মাণের। বরাদ্দও এসেছিল কিন্তু লুটপাট করায় বাঁধ আর নির্মাণ করা হয়নি।

শনিবার রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারেজের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ রেকর্ড করা হয় ৫২ দশমিক ৭৮ মিটার, যা (স্বাভাবিক ৫২ দশমিক ৬০ মি) বিপদসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ১২ জুলাই দিনগত মধ্যরাতে পানির তোড়ে হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী তালেব মোড় এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙে যায়। বন্যায় প্লাবিত হয় নতুন নতুন এলাকা। প্রতিনিয়ত বাড়ছে পানিবন্দির সংখ্যা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563063136876.jpg

ভারতের গজল ডোবা ব্যারেজের গেট খুলে দেওয়ায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি প্রবাহ বেড়েছে। এতে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়ে লালমনিরহাটে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠছে। নদী তীরবর্তী অঞ্চলের মানুষকে সাবধানতা অবলম্বন করতে বলা হয়েছে। তবে শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে ছোট নদ-নদীতে পানি প্রবেশ করায় তিস্তার পানি কিছুটা কমেছে।

স্থানীয়রা জানান, গত ছয় দিনের ভারী বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় লালমনিরহাটের পাঁচটি উপজেলায় প্রায় ৩০/৩৫ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। নৌকা বা ভেলা ছাড়া যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ধেয়ে আসছে পাহাড়ি ঢল। এতে বড় সমস্যায় পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও প্রতিবন্ধীরা।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/14/1563063173041.jpg

এ বন্যায় জেলার পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম, হাতীবান্ধার সানিয়াজান, গড্ডিমারী, সিন্দুর্না, পাটিকাপাড়া, সিংগিমারী, কালীগঞ্জ উপজেলার ভোটমারী, কাকিনা, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, সদর উপজেলার খুনিয়াগাছ, রাজপুর, গোকুন্ডা, কুলাঘাট-মোগলহাট ইউনিয়নের তিস্তা ও ধরলার নদীর চরাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার ও শনিবার সকাল পর্যন্ত তিস্তার পানি প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন নতুন এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। পানি প্রবাহ ক্রমেই বৃদ্ধি পাওয়ায় ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে তিস্তার তীরবর্তী মানুষ। এদিকে পানি বেড়ে যাওয়ায় জেলার পাঁচটি উপজেলার ৩৪টি বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করায় পাঠদান বন্ধ রয়েছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিসার আলী হায়দার বলেন, ‘জেলার পাঁচটি উপজেলার বন্যা কবলিতদের ত্রাণ দিতে জেলা প্রশাসন থেকে ১১০ মেট্রিকটন জিআর চাল ও আড়াই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যার বিতরণও শুরু হয়েছে। আমাদের সার্বিক প্রস্তুতি আছে। এখন পর্যন্ত কোনো সমস্যা নেই। যদি পানি বাড়ে সেক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।’

আপনার মতামত লিখুন :