Barta24

সোমবার, ১৯ আগস্ট ২০১৯, ৪ ভাদ্র ১৪২৬

English

বাহুবলে ২০ গ্রাম প্লাবিত, বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান

বাহুবলে ২০ গ্রাম প্লাবিত, বন্ধ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান
নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পানি ঢৃুকে গেছে, ছবি: বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট
বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
হবিগঞ্জ


  • Font increase
  • Font Decrease

হবিগঞ্জের বাহুবলে করাঙ্গী নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আশপাশের গ্রামগুলো প্লাবিত হয়েছে। পানির স্রোতে নদীর বিভিন্ন স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে ভাঙনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সেই সব স্থানে তিনদিন ধরেই রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন গ্রামবাসী ও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

অন্তত ২০টি গ্রামে বন্যার পানি প্রবেশ করায় সিমাহীন দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। নষ্ট হয়ে গেছে মৌসুমি ফসলসহ বিভিন্ন ফসলাদি। বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

জানা যায়, গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে চলা করাঙ্গী নদীর পানি বিপদসীমার ৩২ উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কোথাও কোথাও জলাদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে রাস্তাঘাট উপচে পানি প্রবেশ করছে বিভিন্ন গ্রামে। নদীর একপাশে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ না থাকায় অন্তত ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Jul/15/1563207982634.jpg

ক্ষতিগ্রস্থ গ্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে- ভাদেশ্বর ইউনিয়নের বড়গাঁও, শফিয়াবাদ, সাহানগর, গাংপাড়, রশিদপুর, পূর্ব ভাদেশ্বর, কসবাকরিমপুর, ডুমগাও, নোয়াগাঁও, পুরান মৌড়ি, জয়নাবাদ, বাহুবল, উত্তরসুর, কবিরপুর, মানিকা। এছাড়াও নিজগাঁও, পশ্চিম ভাদেশ্বর, ইসলামপুর ও দশকাহনিয়াসহ বেশ কয়েকটি গ্রাম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।

এদিকে, উপজেলা সদরের দীননাথ ইনস্টিটিউশন, সাতকাপন সরকারি হাই স্কুল, পশ্চিম ভাদেশ্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়েসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর অধিকাংশ ক্লাসরুমে পানি প্রবেশ করায় বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

বাহুবল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আয়েশা হক জানান, করাঙ্গী নদীতে বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ না থাকায় কয়েকটি গ্রামে পানি প্রবেশ করেছে। তবে এখনো আশ্রয় কেন্দ্রে যাওয়ার পরিবেশ হয়নি। তাই তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে যেতে বলা হচ্ছে না।

আপনার মতামত লিখুন :

চালের ফুটো দিয়ে আকাশের তারা গুনে ঘুমিয়ে পড়েন মোমেনা

চালের ফুটো দিয়ে আকাশের তারা গুনে ঘুমিয়ে পড়েন মোমেনা
মোমেনা বেওয়া

দুর্দশাগ্রস্ত আর ভাগ্য বিড়ম্বিত নারী কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নদিরকুটি গ্রামের মোমেনা বেওয়া (৬৫)। বৃদ্ধ বয়সে অনেকেই সরকারি-বেসরকারি সাহায্য পেলেও এ পর্যন্ত কিছুই জোটেনি মোমেনার ভাগ্যে।

নিত্য অভাব আর অসুস্থতাকে সাথে নিয়ে খেয়ে না খেয়ে তার দিন কাটে। রাতেও ঘুমাতে পারেন না। বাঁশের বেড়া দিয়ে তৈরি ঘর, আর পলিথিনের ছাউনি। বৃষ্টি এলে ঘরের এক কোণে গুটিসুটি মেরে নির্ঘুম রাত কাটে। দুই সন্তানের জননী মোমেনার স্বামী গত হয়েছেন ২৫ বছর আগে। অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করে জমানো টাকায় অনেক কষ্টে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। একমাত্র ছেলে বিয়ে করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে তার আলাদা জীবন-যাপন। এখন মোমেনাকে দেখার কেউ নেই।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566229998321.jpg

রোববার (১৮ আগস্ট) বিকেলে মোমেনার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, একমাত্র ছেলের ঘরটি তালাবদ্ধ। ভাঙা ঝুঁপরি ঘরের এক কোণে মাটিতে পাতা একটা ময়লা বিছানা। অন্যদিকে রান্নার চুলা। মোমেনা জানান, রাতে ঘরে শুয়ে চালের ফুটো দিয়ে আকাশের তারা গুনে ঘুমিয়ে পড়েন। বৃষ্টি আসলে বিছানার এক কোণে বসে রাত পাড় করেন। পরের দিন কাজ কাম ফেলে বিছানা কাপড় শুকাতে দেন।

মোমেনা বেওয়া কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বাহে মোর কাইয়ো নাই, কিছুই নাই। বুড়া বয়সে মানুষের বাড়িতে কামাই করি খাং বাহে। আর কদ্দিন বাঁচিম জানাং না। দুইমুঠো খাবার পায়া শুতি থাইকপার পাইলে এ্যাকনা শান্তি পানু হয়’।

https://img.imageboss.me/width/700/quality:100/https://img.barta24.com/uploads/news/2019/Aug/19/1566230015893.jpg

তার প্রতিবেশি নুরজাহান বেগম জানান, মোমেনা বেওয়া বড়ই অভাগী। স্বামী মরার পরে ছেলেও দেখাশুনা করে না। অনেক কষ্টে দিন কাটে তার। বিধবা ভাতা ও একটা  ঘর পাওয়ার যোগ্য হলেও তার ভাগ্যে কিছুই জোটেনি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাছুমা আরেফিন জানান, নতুন ঘরের বরাদ্দ পাওয়া গেলে তাকে ঘর দেওয়া হবে। সেই সাথে তিনি বিধবা ভাতার আবেদন করলে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

অপরিকল্পিত খাল খননে ধসে পড়ছে সড়ক

অপরিকল্পিত খাল খননে ধসে পড়ছে সড়ক
ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক

ফেনী থেকে: ফেনীর সোনাগাজীতে অপরিকল্পিতভাবে খাল খনন করায় আঞ্চলিক ও গ্রামীণ সড়ক ধসে পড়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত বছর এবং চলতি বছরে প্রায় ৩৫৭ কিলোমিটার খাল খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। তবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কার না করে জেলা সমন্বয় সভায় একে অপরকে দোষারোপ করেছেন পাউবো ও এলজিইডির কর্মকর্তারা।

এ বিষয়ে সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, আমিরাবাদ ইউনিয়নে খননকালে খাল সংলগ্ন প্রতিটি সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

খননকাজে ক্ষতিগ্রস্ত সুজাপুর গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান বলেন, যন্ত্র দিয়ে খাল খননের কারণে আমার ও এলাকার অনেকের বাড়ি গ্রতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ব্যাপারে এলজিইডি’র সোনাগাজী উপজেলা প্রকৌশলী আবুল কাশেম বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, গত দুই বছরে উপজেলায় খাল খননকালে এলজিইডির ১৫টি পাকা সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অধিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কসকা-নবাবপুর সড়ক, মিয়ারবাজার-আমিন উদ্দিন মুন্সি সড়ক ও মানু মিয়ার বাজার সড়ক। টানা বর্ষণে আরও কয়েকটি সড়ক ধসে যেতে পারে।

অভিযোগ করে তিনি বলেন, কোনও প্রকার পরিকল্পনা ছাড়াই ভেকু মেশিন দিয়ে খনন করায় সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পাউবো ফেনী দফতরের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. নুরুন্নবী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, সোনাগাজীতে পাউবোর নিজস্ব ৫৯৮ কিলোমিটার খাল রয়েছে। মুহুরি সেচ প্রকল্পের পানি প্রবাহ ঠিক রাখতে ওই খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী গত দুই বছরে প্রায় ৩৫৭ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়। খালের দুই পাড় পাউবোর নিজস্ব জায়গা। অধিকাংশ জায়গায় খালের পাড় দখল করে এলজিইডি সড়ক নির্মাণ করেছে। খননকালে সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হলেও জনস্বার্থে সড়কগুলো উচ্ছেদ করা হয়নি। তবে কিছু কিছু জায়গায় সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। সেগুলো সংস্কারের দায়িত্ব এলজিইডির।

এ সম্পর্কিত আরও খবর

Barta24 News

আর্কাইভ

শনি
রোব
সোম
মঙ্গল
বুধ
বৃহ
শুক্র